১২শ’ ২০ দিনে গড়িয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। সম্প্রতি ইউক্রেনকে সম্পূর্ণ রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার আকাঙ্ক্ষা ঘোষণা করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সে লক্ষ্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলছে যুদ্ধ। পশ্চিমা সহায়তায় রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে ইউক্রেনও।
কিয়েভের বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ৬ লাখ ৯৫,০০০ সৈন্যের মুখোমুখি হচ্ছে ইউক্রেনের সেনারা। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুমি ফ্রন্টে রাশিয়া আরো ৫২,০০০ সৈন্য মোতায়েন করেছে। এছাড়া পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর পোকরোভস্ক দখলের চেষ্টায় রাশিয়া ব্যাপক সেনা জড়ো করেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দার সিরস্কি। ১২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনের মধ্যে পোকরোভস্ক-সংলগ্ন এলাকা এখন সবচেয়ে উত্তপ্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। শহরটি ঘিরে রেখেছে ১ লাখ ১১ হাজার রুশ সেনা। অব্যাহত আছে ইউক্রেন ঘিরে রাশিয়ার আকাশ অভিযান।
এই যখন যুদ্ধ পরিস্থিতি তখন ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রকে প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাব দিলেও, ট্রাম্প সরকার প্রথমে কেবল এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে। ইসরায়েলে সরবরাহ করার কারণে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইউক্রেনের এই কঠিন সময়ে সামরিক সাহায্য বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউরোপীয় মিত্ররা। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই ইউরোপ ও কানাডা ইউক্রেনকে ৩৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ২০২৪ সালে পুরো বছরের সহায়তা ছিল ৫০ বিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাজ্য ও নরওয়ে এরমধ্যেই ইউক্রেনকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে। দেশেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের ক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ইউক্রেন। এর মধ্যে রয়েছে ৫০০ কিলোমিটার দূরপাল্লার নিজস্ব নির্মিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সাপসান’। জেলেনস্কি চায়, প্রতিটি মিত্র দেশের জিডিপির দশমিক ২৫ শতাংশ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ করা হোক।
এছাড়া, ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা বারবার উপস্থাপন করছে ইউক্রেন। যা রাশিয়ার জন্য প্রধান উদ্বেগ। যদিও রাজনৈতিকভাবে ইউক্রেনকে সদস্য করার প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছে ন্যাটো।
ইউক্রেনকে সহায়তায় রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে গিয়ে সদস্যদের ঐকমত্যের অভাবে ব্যর্থ হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে চলমান নিষেধাজ্ঞাগুলোর মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়েছে পশ্চিমা জোটটি।










