নিজের পরিবারসহ নিকটাত্মীয়ের আর কেউ
বেঁচে নেই। একে একে হারিয়েছেন সবাইকে। ইসরায়েলের এক বোমা হামলায় আহমাদ আল-গুফেরির স্ত্রীসহ
তিন কন্যা প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবারের পাশাপাশি অন্তত ১০৩ জন নিকটাত্মীয় হারিয়ে আহমাদ
এখন স্বজন হারানোর বেদনায় বিচলিত হয়ে পড়েছেন। তিনি এমনটাই জানিয়েছেন গণমাধ্যমকে। স্থানীয়
সময় মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আহমাদের স্বজন হারানোর খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম
বিবিসি।
বিবিসিকে তিনি জানিয়েছেন, হামাস-ইসরায়েল
সংঘাত শুরুর আগে তিনি তেল আবিবে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ৭ অক্টোবর হামাসের
হামলার পর ইসরায়েলি অবরোধে তিনি গাজা থেকে ৫০ মাইল দূরে পশ্চিম তীরের একটি শহরে আটকা
পড়েন। ফলে তিনি তার পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পারেননি।
আহমাদ জানান, তিনি প্রতিদিন তার পরিবারের
সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে তিনি সবসময় যোগাযোগের সুযোগ পেতেন না। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর
সন্ধ্যায় ইসরায়েলি হামলার সময় তার স্ত্রী শিরিনের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। তার স্ত্রী
সেসময় তাকে নিশ্চিত মৃত্যুর খবর জানিয়েছিলেন। তার স্ত্রী তার কাছে ক্ষমা চাচ্ছিলেন।
এরমধ্যেই হঠাৎ বিকট আওয়াজে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে আহমাদ আর তার
স্ত্রীর এবং সন্তানদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেনি।
সেই সন্ধ্যায় তার মামার বাড়িতে হামলায়
হয়। সেখানে আহমাদের মামা তার স্ত্রী এবং তাদের তিন মেয়ে তালা, লানা এবং নাজলা নিহত
হন। এছাড়া তেল আবিবের বিভিন্ন সময়ের হামলায় আহমাদের মা, তার চার ভাই এবং ওই পরিবারের
সকলেই প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এরপর তিনি তার কয়েক ডজন খালা, চাচা এবং
চাচাতো ভাই-বোনকে হারিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে গত কয়েক মাসের হামলায় তিনি শতাধিক নিকটাত্মীয়
হারিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন নিহতের কয়েক মাসে চলে গেলেও এখনো তার অনেক স্বজনের লাশ ধ্বংসস্তূপের
নিচে চাপা পড়ে আছে।
উল্লেখ্য, হামাস-ইসরায়েল সংঘাত প্রায় পাঁচ মাস পার করেছে। গাজার স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়ের মতে, ইসরায়েলি হামলায় অক্টোবর থেকে গাজায় ২৯ হাজার ৬৯২ ফিলিস্তিনি
নিহত হয়েছে যাদের দুই-তৃতীয়াংশ নারী ও শিশু, এছাড়া আহত হয়েছে ৬৯ হাজার ৮৭৯ জন।










