মাদকদ্রব্য সরবরাহের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার একটি নৌকায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর একই অভিযোগে ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন প্রশাসন আটটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে দেশটি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, এই হামলার পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্য পরিকল্পনা রয়েছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের নিকোলাস মাদুরো মরোসের সরকার পরিবর্তন বা দেশটির সেনাবাহিনীকে উস্কিয়ে দেয়ার জন্য এ হামলা চালিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসি।

গত মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ভেনেজুয়েলার ওই নৌকায় হামলার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এ হামলা শুধু যে মাদকবিরোধী যুদ্ধের অংশ নয়, তা নয়। বরং এর পেছনে নিহিত রয়েছে রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তাও। তাদের মতে, এ হামলা ছিল মাদুরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি স্পষ্ট প্রচেষ্টা। একদিকে তিনি ভেনেজুয়েলাকে চাপ দিচ্ছেন, অন্যদিকে লাতিন আমেরিকায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।

এদিকে ক্যারিবীয় সাগরে আট মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়ে টেম্পল ইউনিভার্সিটির মার্কিন-লাতিন আমেরিকা সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অ্যালান ম্যাকফারসন জানান, ১৯৬৫ সালের পর নৌবাহিনীর এ ধরনের সমাবেশ দেখা যায়নি। যদিও পেন্টাগন বলছে, এ মোতায়েনের মূল লক্ষ্য, মাদক পাচার ও অপরাধীদের কার্যক্রম রোধ এবং ওই অঞ্চলের মাদক নেটওয়ার্কের ওপর মার্কিন চাপ বাড়ানো।

অধ্যাপক ম্যাকফারসনের মতে, মার্কিন নৌবাহিনী হয়তো সরাসরি মাদুরোকে আঘাত করতে চাইছে বা ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর ভেতর বিদ্রোহ উসকে দিতে চাইছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এসব লক্ষ্য পূরণে এত বড় নৌবহরের প্রয়োজন হতো না।... যা-ই হোক না কেন এটা স্পষ্ট, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থাকে ভয় দেখাতে চাচ্ছেন।

তবে মাদক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মাদুরো। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের অভিযোগের মাধ্যমে মাদুরো সরকারের পতন চাইছে। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের জবাবে তিনি ৪৫ লাখ মিলিশিয়া সদস্যকে সক্রিয় করবেন।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদুরোর মিলিশিয়া মোতায়েনের এ সংখ্যা অত্যন্ত অতিরঞ্জিত। বাস্তবে দেশটির মিলিশিয়া বাহিনী প্রায় অপ্রশিক্ষিত। শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমাবেশ ও কুচকাওয়াজে ভিড় বাড়াতে তাদের ব্যবহার করে আসছে দেশটি। যুদ্ধবাজ বাহিনী নন তারা।