গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরুর পর গত চারদিনে সেখানে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজারের বেশি মানুষ। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ইউএনওসিএইচএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এ তথ্য।

ইউএনওসিএইচএ জানায়, আগে এ এলাকাকে নিরাপদ মানবিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও সোমবার ইসরায়েলি সেনারা এখানকার অধিবাসীদের বৃহস্পতিবারের মধ্যে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এর পরই আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ তাড়াহুড়া করে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যেতে থাকে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের জেরে গাজায় বাস্তুচ্যুতির নতুন ঢেউ শুরু হয়েছে। গত সোম থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চারদিনে খান ইউনিসের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে ১ লাখ ৮২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এরই মধ্যে খান ইউনিস ছাড়তে নতুন করে ফিলিস্তিনিদের আদেশ দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী বলেছে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কারণে শহরের দক্ষিণাঞ্চল বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

খান ইউনিসে জোর হামলার মধ্যে সেখানে আটকা পড়েছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা জানিয়েছে, পূর্ব খান ইউনিসে শত শত ফিলিস্তিনি তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে আটকা পড়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলোকে সেখানে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ফলে তারা আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের উদ্ধার করতে পারছে না।

আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খৌদারি বলেছেন, ‘খান ইউনিসের বিভিন্ন সড়কে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। তাদের অনেকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সঙ্গে কিছুই আনতে পারেনি।’ তিনি জানান, গাজায় এখন প্রচণ্ড গরম। তারা তাপে পুড়ছেন, সুপেয় পানি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব এরই মধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে সেখানে।

এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য ইতালির রোমে প্রতিনিধি দল পাঠাবে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু এ তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া সংলাপে এবার সরাসরি যোগ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক উইলিয়াম বার্নস। রোববার রোমে যে সংলাপ শুরু হচ্ছে, সেখানে সিআইএ প্রধানের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল থানি এবং মিসর ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা। তবে হামাসের কোনো প্রতিনিধি সে সংলাপে থাকবেন কিনা তা জানা যায়নি।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে। দেশগুলোর প্রচেষ্টায় গত বছর নভেম্বরের শেষ দিকে এক সপ্তাহের অস্থায়ী বিরতিতে সম্মত হয়েছিল হামাস ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সে সময় নিজেদের কবজায় থাকা জিম্মিদের মধ্য থেকে ১০৭ জনকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস এবং তার পরিবর্তে বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মধ্য থেকে ১৫০ জনকে মুক্তি দিয়েছিল ইসরায়েল। কিন্তু তার পর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হয়নি গাজায়। খবর আল জাজিরা ও রয়টার্স।