আমরা জীবনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময় ঘুমিয়ে কাটাই। অনেকেই ভাবেন ঘুম শুধু বিশ্রামের সময়, কিন্তু বাস্তবে মস্তিষ্ক ও শরীরের জন্য ঘুম অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, রাতজাগা, মোবাইল স্ক্রিনের আলো—সবকিছু মিলিয়ে অনেকেই ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। আর গবেষণা বলছে, ঘুমের অভাব শুধু শরীরকেই নয়, মস্তিষ্ককেও দ্রুত বার্ধক্যর দিকে ঠেলে দিতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ৪০ থেকে ৭০ বছর বয়সী ২৭ হাজারের বেশি মানুষের ওপর করা এক বড় গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অনিদ্রায় ভোগেন, প্রকৃত বয়সের তুলনায় তাদের মস্তিষ্কের বয়স বেশি মনে হয়। মস্তিষ্কের ‘বয়স বেশি’ হওয়া মানে হলো—এমআরআই স্ক্যানের মাধ্যমে দেখা যায় মস্তিষ্কের কোষে ক্ষয়, কর্টেক্স পাতলা হওয়া বা রক্তনালীর ক্ষতির মতো লক্ষণ, যা সাধারণ বার্ধক্যের চেয়ে বেশি।
কখন ঘুমান, ঘুমের সময়কাল, অনিদ্রা, ঘুমের সময় শ্বাসনালীর বাধা বা স্নোরিং, এবং দিনে অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে ‘স্বাস্থ্যকর ঘুম স্কোর’ তৈরি করেছেন গবেষকরা। স্কোর যত কম, মস্তিষ্কের বয়স প্রকৃত বয়সের তুলনায় তত বেশি। দুর্বল ঘুমের মানুষদের মস্তিষ্ক প্রায় এক বছর বড় মনে হয়েছে, আর যারা নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমান, তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ফারাক নেই।
ঘুমের ব্যাঘাতে শরীরের প্রদাহ বা ব্যথা বাড়াতে পারে। বেশি প্রদাহ রক্তনালীর ক্ষতি, বিষাক্ত প্রোটিনের জমা ও মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। ঘুম ঠিকমতো না হলে মস্তিষ্কের গ্লিমফ্যাটিক সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, যার ফলে ক্ষতিকারক পদার্থ জমা হয়। এছাড়াও খারাপ ঘুম টাইপ ২ ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন করা সম্ভব। নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি বজায় রাখা, দিনের শেষ দিকে ক্যাফেইন বা এলকোহল এড়ানো, মোবাইল স্ক্রিন কম ব্যবহার করা, অন্ধকার ও শান্ত পরিবেশে ঘুমানো মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সহায়ক।
গবেষণা স্পষ্ট করছে, মস্তিষ্কের সুস্থতা ও দীর্ঘজীবনের জন্য ঘুমকে প্রাধান্য দিতে হবে। অনিদ্রা শুধু দিনের ক্লান্তি-ই বাড়িয়ে তোলে না; এটি মস্তিষ্ককে দ্রুত বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দেয়। তাই ঘুমকে জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে ভাবা জরুরি।
দ্য কনভারসেশন অবলম্বনে।










