শীতের দিনে কমবেশি সবাই গোসল নিয়ে আতঙ্কে থাকেন। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে অনেকে গোসল এড়িয়ে যান আর অনেকে গরম পানি ব্যবহার করেন। শীতে গোসলের পানি নিয়ে নানা মতভেদ আছে। কেউ কেউ মনে করেন গরম পানি ব্যবহার শরীরের জন্য ভালো না। অনেকে আবার গরম পানিতে স্বস্তিবোধ করেন. কেউ মনে করেন গরম পানিই স্বাস্থ্যকর।

গরম পানিতে গোসল করার উপকারিতা

শীতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে ২৫ ডিগ্রিতে নেমে যায়। এ সময় গোসলে ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রার পানিই সবচেয়ে উপযোগী। গোসলের এ পানিকে গরম না বলে উষ্ণ বলা শ্রেয়।

  • গরম পানি আমাদের শরীরের রক্তনালিকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে, এতে রক্তপ্রবাহ ভালো হয়।
  • শীতের কারণে যেসব ব্যথা বাড়ে, হালকা গরম পানিতে গোসল তা কিছুটা হলেও উপশম করে।
  • সাইনোসাইটিস, সর্দি, কাশি, গলাব্যথায় গরম পানিতে গোসল করলে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়।
  • হালকা কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে মাংসপেশির সংকোচনভাব কমিয়ে পেশিকে শিথিল করে। এ জন্য যারা শীতে শরীরচর্চা করেন, তাদের শরীরচর্চার পরই গরম পানিতে গোসল বা বাষ্পায়িত গোসলের (স্টিম বাথ) পরামর্শ দেয়া হয়।

তবে অত্যধিক গরম পানি শরীরের প্রাকৃতিক তেল বা ন্যাচারাল অয়েল নষ্ট করে দিতে পারে। এতে ত্বক শুষ্ক, খসখসে ও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই শীতে ত্বক বেশি শুষ্ক হয়, আর গরম পানি সে সমস্যাকে তীব্র করে। আর তাই গোসলে গরম পানি শরীরে ব্যবহার করলেও মাথায় না দেয়াই ভালো। কারণ গরম পানি মাথার ত্বক শুষ্ক করে খুঁশকির সমস্যা বাড়ায়। গোড়া নরম হয়ে চুল পড়া সমস্যাও বাড়ে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে চুল হয় রুক্ষ।

গরম পানি ব্যবহার করলে যা করবেন

  • গরম পানি শরীরে দেয়ার আগে তাপমাত্রা দেখে নেয়া জরুরি। পানির তাপমাত্রা কোনোভাবেই ৪০ ডিগ্রির বেশি হওয়া যাবে না।
  • গরম পানিতে গোসলের পর শরীরের শুষ্কতা কমাতে আর্দ্রতাযুক্ত লোশন, অলিভ অয়েল, গ্লিসারিন, মুখে ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ও মাথার চামড়ার জন্য সামান্য পরিমাণ নারকেল তেল ব্যবহার বেশ কার্যকরী।
  • চুলের শুষ্কতা কমাতে আর্দ্রতাযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। লম্বা চুলের যত্নের জন্য স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।