দিনের শুরুতে এক কাপ চা, কাজের ফাঁকে আরেক কাপ। অনেকের কাছে চা কেবল পানীয় নয়, প্রতিদিনের অভ্যাসের অংশ। এই অভ্যাসের সঙ্গে হৃদযন্ত্রের সুস্থতারও সম্পর্ক থাকতে পারে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পানকারীদের রক্তনালিসংক্রান্ত রোগের সামগ্রিক ঝুঁকি চা পান না করা ব্যক্তিদের তুলনায় ১১ শতাংশ কম হতে পারে। তবে চা খেলেই যে হৃদরোগ হবে না, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

গত ২১ অক্টোবর জার্নাল অব ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণাটিতে চীনের প্রায় ৪ লাখ ৮৬ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। ৩০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী এসব মানুষের ওপর গড়ে নয় বছর নজর রাখেন গবেষকরা। এতে নিয়মিত চা পানকারীদের মধ্যে রক্তনালির রোগের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া যায়। তাদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে সৃষ্ট স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৭ শতাংশ এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ১৭ শতাংশ কম দেখা গেছে। তবে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের সঙ্গে চা পানের স্পষ্ট কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

গবেষণায় সপ্তাহে অন্তত একবার চা পান করেন, এমন ব্যক্তিদের মধ্যে দিনে প্রায় ৬-৮ কাপ চা পানকারীদের ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে এটিকে প্রতিদিন এত কাপ চা পানের পরামর্শ হিসেবে দেখছেন না গবেষকরা। কারণ গবেষণাটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক। অর্থাৎ চা পানের সঙ্গে রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক দেখা গেলেও একটির কারণে অন্যটি ঘটছে, তা প্রমাণ করা যায়নি। অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেয়া চা পানের হিসাব এবং খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের অন্যান্য বিষয়ও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

এক্ষেত্রে ব্ল্যাক টি ও গ্রিন টি—দুই ধরনের চা-ই হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। তাই যেকোনো একটি বেছে নিলেই হবে। তবে চা পান করতে হবে চিনি ছাড়া। অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম মিষ্টি যোগ করলে চায়ের এই গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

eda47e0d-33c8-4141-8a19-ff2a6b415742

গবেষণায় ব্ল্যাক টি গ্রিন টি-র চেয়ে বেশি উপকারী এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি

চা পানের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। গবেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে অতিরিক্ত গরম চা পান করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত গরম চা পান করলে রক্তনালির রোগের ঝুঁকি প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। তাই কাপের গরম চা একটু জুড়িয়ে সহনীয় তাপমাত্রায় এলেই চুমুক দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

হৃদযন্ত্রের যত্ন নেয়ার পাশাপাশি চা শরীরের অন্যান্য উপকারও করে। নিয়মিত চিনি ছাড়া চা পান করলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়, শরীর ও মন সতেজ হয় এবং বিপাকপ্রক্রিয়া ভালো থাকে। কিছু পুরোনো গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও বাতের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধেও সহায়ক। প্রতিদিনের জীবনে পরিমিত ও সঠিক উপায়ে চা পানের অভ্যাস আপনার জীবনযাত্রাকে যেমন উপভোগ্য করবে, তেমনি সুস্থ রাখতেও সাহায্য করবে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন