গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল বরিশালের উজিরপুরের সন্ধ্যা নদী। বৈঠার ছন্দময় টান, মাঝিদের সম্মিলিত জয়ধ্বনি আর কাঁসির আওয়াজে নদীতে চলে নৌকার প্রতিযোগিতা। এ আয়োজন দেখতে নদীর দুই তীরে জড়ো হন হাজারো মানুষ। অনেকে ছোট নৌকা ও ট্রলারে চড়ে নদীতে অবস্থান নিয়ে উপভোগ করেন প্রতিযোগিতা।
আজ শনিবার বিকালে উপজেলার শিকারপুর এলাকায় সন্ধ্যা নদীতে এ নৌকা বাইচের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আভাস। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন নামে সজ্জিত আটটি নৌকা অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। উদ্বোধনের পরপরই বৈঠার তালে শুরু হয় নৌকাগুলোর প্রতিযোগিতা। রঙিন পোশাকে সজ্জিত মাঝিরা গান, কাঁসির আওয়াজ ও সম্মিলিত জয়ধ্বনির মধ্য দিয়ে বৈঠা চালিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মেজর এম এ জলিল সেতু (ইচলাদী সেতু) এলাকায় গিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ হয়।
নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর দুই তীরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে নদীর পাড়। প্রতিযোগিতা শেষে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলসহ অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
উজিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও আভাসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় আর্থিক সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও ইউনেস্কো। নৌকা বাইচ শেষে মেজর এম এ জলিল সেতুর ইচলাদী প্রান্তে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কিপার আসমা ফেরদৌসি এবং আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল।









