বিশ্বজুড়ে একটি বড় উদ্বেগের নাম বায়ুদূষণ। বাইরে যেমন গাড়ির ধোঁয়া, কারখানার নির্গমন কিংবা ধূলাবালিতে বাতাস দূষিত হয়, ঘরের ভেতরও নানা উৎস থেকে নির্গত হয় ক্ষতিকর উপাদান। রান্নার ধোঁয়া, প্লাস্টিক, আসবাবের রাসায়নিক, কিংবা ঘরের রঙের উপাদান থেকেও ছড়ায় টক্সিন। তাই অনেকে এখন বৈদ্যুতিক এয়ার পিউরিফায়ারের পাশাপাশি প্রকৃতির বিকল্প সমাধান হিসেবে ইনডোর প্ল্যান্টকে বেছে নিচ্ছেন।

নাসার একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, কিছু গাছ ঘরের বাতাস থেকে বেঞ্জিন, ফরম্যালডিহাইড, ট্রাইক্লোরোইথিলিন, এমনকি কার্বন মনোক্সাইড শোষণ করে। এতে ঘরের বাতাস থাকে সতেজ ও স্বাস্থ্যকর।

ঘরে রাখা যায় এমন পাঁচ গাছ —

স্পাইডার প্ল্যান্ট

এটি সবচেয়ে সহজে বেড়ে ওঠা ইনডোর গাছগুলোর একটি। সূর্যের সরাসরি আলো না পেলেও টিকে থাকে। এটি বাতাস থেকে কার্বন মনোক্সাইড, জাইলিন ও ফরম্যালডিহাইড শোষণ করে ঘরের বাতাসকে পরিষ্কার রাখে। নিয়মিত হালকা পানি পেলেই টব ভরে থাকে সবুজে।

bloomscape-spider-plant_clay_0626-scaled-e1649193929503

স্নেক প্ল্যান্ট

গাছ সাধারণত দিনে অক্সিজেন উৎপন্ন করে। তবে স্নেক প্ল্যান্ট রাতে অক্সিজেন ছাড়ে। যা অন্য গাছের তুলনায় বিরল বৈশিষ্ট্য। তাই এটি শোবার ঘরের জন্য দারুণ উপযোগী। ধোঁয়া, ধূলাবালি ও ক্ষতিকর রাসায়নিক শোষণ করে ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ রাখে।

snake-plant-indoor_0_1200.jpg

মানিপ্ল্যান্ট বা পথোস

সহজ যত্নে টিকে থাকা এ গাছ সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি দূষণও কমায়। মানিপ্ল্যান্ট বাতাস থেকে বেনজিন, জাইলিন ও টলুইন দূর করতে সাহায্য করে। অফিস ডেস্ক বা জানালার পাশে টবেই যথেষ্ট আলো পেলে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।

mo

অ্যালোভেরা

ত্বক ও চুলের যত্নে যেমন বিখ্যাত, তেমনি এটি ঘরের বায়ুদূষণ রোধেও কার্যকর। অ্যালোভেরা গাছ ফরম্যালডিহাইড ও বেনজিন শোষণ করে বাতাসকে বিশুদ্ধ রাখে। এছাড়া এটি ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।

aloevera-4

পিস লিলি

নামের মতো দেখতে যেমন সুন্দর, কাজেও তেমন কার্যকর। এটি বাতাসের ক্ষতিকর গ্যাস ও ফাঙ্গাসের স্পোর শোষণ করে। সপ্তাহে একবার পানি দিলেই হয়। তবে সরাসরি রোদে রাখবেন না, ছায়াযুক্ত আলোই যথেষ্ট।

1711537676_lily

গাছের যত্ন

আসছে শীতকাল, ঘরে রাখা গাছের জন্য কঠিন সময়। ঠান্ডা হাওয়া আর শুকনো বাতাসের কারণে অনেক গাছের বৃদ্ধি কমে যায়, পাতা ঝরে পড়ে, এমনকি মরে যেতে পারে। তবে কিছু সহজ ও প্রাকৃতিক উপায় মেনে চললে শীতের মাসগুলোতেও ঘরের গাছগুলোকে রাখা যায় একদম সুস্থ ও সবুজ।

  • কম্পোস্ট বা কেঁচো সার হলো গাছের জন্য সবচেয়ে ভালো অর্গানিক পুষ্টি। এসব প্রাকৃতিক সার মাটিতে উপকারী জীবাণুর বৃদ্ধি ঘটায়, যা শিকড়ের বিকাশে সহায়তা করে।
  • শীতকালে বাতাস অনেক শুষ্ক হয়ে যায়, যা গাছের জন্য ক্ষতিকর। গাছের আশপাশে হিউমিডিফায়ার বা পানিভরা ট্রে রাখলে ঘরের আর্দ্রতা বজায় থাকে। সম্ভব হলে প্রতিদিন গাছের পাতায় হালকা করে স্প্রে করতে পারেন। এতে পাতাগুলো বাদামী হয়ে শুকিয়ে যায় না, বরং থাকে টাটকা ও সবুজ।
  • শীতে দিনের আলো কমে যায়, ফলে অনেক ইনডোর গাছ ঠিকমতো বাড়তে পারে না।গাছগুলোকে জানালার ধারে রাখুন, যেখানে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে।
  • শীতকালে গাছের বৃদ্ধি ধীর হয়, তাই অতিরিক্ত পানি দিলে শিকড় পচে যেতে পারে। প্রতিবার পানি দেয়ার আগে মাটির আর্দ্রতা পরীক্ষা করুন, যদি মাটি উপরের দিক থেকে শুকিয়ে যায়, তখনই পানি দিন।
  • মরে যাওয়া বা হলুদ হয়ে যাওয়া পাতাগুলো নিয়মিত কেটে ফেলুন। এতে গাছ তার শক্তি নতুন পাতায় দিতে পারে এবং বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে।