শীতে যারা নিয়মিত জুতা-মোজা পরেন একটি অস্বস্তিকর সমস্যা কিছুতেই তাদের পিছু ছাড়ে না। আর সেটি হলো—পায়ের দুর্গন্ধ। জুতা খুলতেই তীব্র গন্ধ ছড়ায়। আর এতে অফিস, বাসা বা বন্ধুদের আড্ডায় বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

পায়ে দুর্গন্ধের অন্যতম কারণগুলো হলো: ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস, অতিরিক্ত ঘাম ও হরমোনগত কিছু সমস্যা। কিন্তু এর বাইরেও আছে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ—

  • শরীরের সবচেয়ে বেশি ঘামগ্রন্থি থাকে পায়ের পাতায়। তাই ঘাম হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি।
  • থাইরয়েড কমে গেলে বা বেড়ে গেলে শরীরের ঘাম বাড়তে পারে। অন্তঃসত্ত্বা নারী, কিশোর-কিশোরী বা হরমোনগত ওঠানামায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দেয়। মানসিক চাপও ঘাম বাড়িয়ে দেয়।
  • পা ও হাত অতিরিক্ত ঘামলে তাকে হাইপারহাইড্রোসিস বলা হয়। এ সমস্যায় যারা আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে দুর্গন্ধও বেশি হয়।
  • জিংক শরীরের ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিংক কম থাকলে শরীরের বর্জ্য ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে দুর্গন্ধ তৈরি করে।
  • আঙুলের ফাঁক, নখ বা নখের কোণ পরিষ্কার না থাকলে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়—এটাই দুর্গন্ধের আরেক কারণ। কিটোকক্কাস সেডেনটেরিয়াস নামের ব্যাকটেরিয়া ঘামের ভিতর সালফিউরিক যৌগ তৈরি করে যা পচা ডিমের মতো তীব্র গন্ধ ছড়ায়।
Canva_Smelly_Feet

পায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে যা করবেন

সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত পায়ের যত্ন, পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক ধরনের জুতা-মোজার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • গোসলের সময় পা, নখ, আঙুলের ফাঁক ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করুন। মাসে ১-২ বার পেডিকিউর করলেও উপকার পাবেন।
  • সিনথেটিক মোজা ঘাম ধরে রাখে ও বায়ু চলাচল রোধ করে। সুতির মোজা ঘাম শোষণ করে দুর্গন্ধ কমায়।
  • পা ভালোভাবে শুকিয়ে তারপর জুতা পরুন। প্রতিদিন একই জুতা ব্যবহার করবেন না।
    জুতা রোদে শুকিয়ে নিন। মাঝে মাঝে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিন।
  • স্নিকার্স বা ক্যানভাস জুতায় বেকিং সোডা ছিটিয়ে রাখুন। তবে চামড়ার জুতায় বেকিং সোডা ব্যবহার করবেন না
  • জুতার ভিতরে লবঙ্গ তেলে ভেজানো তুলা বা সামান্য লবণ রেখে দিলে তা দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে
  • টি ব্যাগ ফুটন্ত গরম পানিতে ২ মিনিট ডুবিয়ে ঠান্ডা করে জুতার ভেতর রাখুন। এক ঘণ্টা পর মুছে নিলে গন্ধ অনেকটাই দূর হবে।
  • এপসম সল্ট, গরম পানি, মধু ও গোলাপজল মেশানো পানিতে ২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, ব্যাকটেরিয়া কমে।
  • অতিরিক্ত ঘাম কমানোর জন্য পায়ের পাতায় বোটক্স করা যায়। এতে ৩-৫ মাস ঘাম কমে থাকে।
  • রাতে ঘুমানোর আগে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট স্প্রে পায়ে ব্যবহার করলে ঘাম কমতে পারে।