প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও অনেকের সকাল শুরু হয় ভারী চোখ, নিস্তেজ শরীর আর এক ধরনের ক্লান্তিবোধ নিয়ে। তখন প্রশ্ন জাগে—এত ঘুমিয়েও কেন শরীর ভাঙা ভাঙা লাগে?
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমঘুম ভাব আর ক্লান্তি এক জিনিস নয়। ক্লান্তি মানে হলো শক্তি ফুরিয়ে যাওয়া। আর ঘুমঘুম ভাব হলো ঘুমের অপ্রতিরোধ্য তাগিদ। অর্থাৎ, সবসময় ক্লান্ত লাগার কারণ শুধু কম ঘুম নয়। এর পেছনে থাকতে পারে আরো অনেক কারণ।
পুষ্টির ঘাটতি:
আয়রনের ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতা একটি পরিচিত সমস্যা, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে। মস্তিষ্কে অক্সিজেন কম সরবরাহের কারণেও ক্লান্তি ও মনোযোগের অভাব অনিবার্য। ভিটামিন বি১২, ফোলেটের ঘাটতি স্নায়ুর কার্যকারিতা ও নিউরোট্রান্সমিটার ভারসাম্যকে ব্যাহত করে, যা ভুলে যাওয়া, ঝিঁঝিঁ ধরার অনুভূতি বা বিষণ্ণতা হিসাবে দেখা দেয়। আর যা পরিণত হয় অদ্ভুত ক্লান্তিবোধে।

মানসিক চাপ:
রাতের বেলায় স্ক্রিনে বেশি সময় কাটানো, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত কাজ ও ডিজিটাল ওভারলোড মস্তিষ্ককে ‘সার্ভাইবাল মোডে’ রাখে, যা স্ট্রেস হরমোনকে বাড়িয়ে তোলে। ফলে ক্লান্তিভাব কাটে না। একটু ঘুমালেই শরীর ঝরঝরে হওয়ার কথা। কিন্তু স্লিপ অ্যাপনিয়া, নাক ডাকা বা ঘুমের মধ্যে হাঁটার মতো সমস্যায় ঘুমের মান খারাপ হয়। ফলে যত ঘুমই হোক, শরীর বিশ্রাম পায় না।
হরমোনের ওঠানামা:
নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রের নির্দিষ্ট সময়ে কিংবা মেনোপজ–পূর্ববর্তী সময়ে হরমোনের পরিবর্তন এনার্জি স্তর কমিয়ে দিতে পারে। ফলে শরীর সহজেই অবসন্ন লাগে।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
অনেক সময় ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমানো গেলেও সকালে উঠে আরো বেশি ক্লান্ত লাগে। এছাড়া অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, অ্যালার্জির ওষুধ কিংবা সর্দি-কাশির কিছু ওষুধও শরীরকে ভারী করে ফেলে।
ক্লান্তিভাব কমাতে করণীয়:
ক্লান্তি কমাতে প্রথমেই নজর দিতে হবে স্লিপ হাইজিনে। প্রতিদিন একই সময়ে শোয়া–জাগা। শোবার অন্তত ৩০ মিনিট আগে সব স্ক্রিন বন্ধ করে দেয়া। ঘর অন্ধকার ও শান্ত রাখা। প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট গায়ে রোদ লাগানো।
সেইসঙ্গে পুষ্টির অভাব পূরণ অতীব জরুরি। আয়রন, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, ম্যাগনেসিয়াম, ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।










