স্মৃতি সংরক্ষণে আবেগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ স্মৃতিও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে যদি তা আবেগঘন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়। এমনকি আমরা চাইলেই সাধারণ স্মৃতিগুলোকেও শক্তিশালী করে তুলতে পারি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গবেষণাটি ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ নামক একটি বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। খবর দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

গবেষকরা ১০টি পৃথক পরীক্ষায় ৬৫০ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর গবেষণাটি চালান। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের অতীতের স্মৃতিশক্তি পরিমাপ করা হয়। এ প্রসঙ্গে বোস্টন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. রবার্ট এম.জি. রেইনহার্ট বলেন, স্মৃতি শুধু একটি নিষ্ক্রিয় রেকর্ডিং যন্ত্র নয়। আমাদের মস্তিষ্ক ঠিক করে কী গুরুত্বপূর্ণ, এবং আবেগঘন ঘটনা অতীতের দিকে ফিরে গিয়ে দুর্বল স্মৃতিকে স্থিতিশীল করতে পারে।

আবেগঘন ঘটনার আগে বা পরে ঘটে যাওয়া সাধারণ ঘটনাগুলোও স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেয়। এখানে, রেট্রোঅ্যাকটিভ এনহ্যান্সমেন্ট প্রক্রিয়ায় আবেগঘন ঘটনার আগে ঘটে যাওয়া সাধারণ ঘটনাগুলোও মনে থাকে। অন্যদিকে, যদি আবেগের মাত্রা বেশি হয়, তাহলে ঘটনার পরের সাধারণ ঘটনাগুলোও বেশি মনে থাকে। এটিকে বলা হয় প্রোঅ্যাকটিভ মেমরি।

গবেষক চেনিয়াং লিও লিন একবার নিউ হ্যাম্পশায়ার সফরে গিয়ে গাছের মধ্যে কাঠবিড়ালির খেলা দেখেন। মুহূর্তটি তার কাছে এতটাই আবেগঘন ছিল যে, দিন শেষে তিনি সেই দৃশ্য এবং পথের ধারে দেখা পশুপাখির মতো সাধারণ ঘটনাও এখনো স্পষ্ট মনে রাখতে পারেন।

এ পুরো প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্যাগ অ্যান্ড ক্যাপচার থিওরি। সাধারণ স্মৃতি মস্তিষ্কে সিন্যাপটিক ট্যাগ তৈরি করে, যা একধরনের স্নায়বিক সংকেত। আবেগঘন ঘটনার সময় তৈরি হওয়া প্রোটিন সেই ট্যাগকে ক্যাপচার করে, ফলে স্মৃতি স্থায়ী হয়ে যায়। ড. রেইনহার্ট বলেন, উপকারী স্মৃতিকে শক্তিশালী করা বা ক্ষতিকর স্মৃতিকে দুর্বল করার কৌশল তৈরি করা দীর্ঘদিন ধরে কগনিটিভ নিউরোসায়েন্সের একটি লক্ষ্য। এ গবেষণা সে পথে একটি নতুন মাইলফলক। ভবিষ্যতে গবেষণাটি স্মৃতিভ্রংশ বা আলঝেইমার, এবং পিটিএসডি রোগের চিকিৎসায় সহায়ক হতে পারে।

গবেষক দলটি আশা করছে, শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন কৌশল তৈরিতেও এটি সহায়ক হতে পারে। কারণ এটি দেখায় কীভাবে স্মৃতি সংরক্ষণে আবেগের ভূমিকা রয়েছে।