শিশুরা দৌঁড়াবে, লাফাবে, খেলবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে আশ্চর্য বিষয় হলো, এ স্বাভাবিক অভ্যাস পরবর্তী বয়সে মানসিক সুস্থতার জন্য বড় ধরনের সুরক্ষা তৈরি করে। সম্প্রতি সুইডেনের এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রি-টিন অর্থাৎ ১০ থেকে ১২ বছর বয়সের নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ ভবিষ্যতে মানসিক রোগের ঝুঁকি কমায়। আর এ প্রভাব ছেলেদের ক্ষেত্রে আরো বেশি কার্যকর।

ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনে প্রকাশিত হয়। এ গবেষণায় ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে সুইডেনে জন্ম নেয়া ১৬ হাজারেরও বেশি শিশুর দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপের তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। এতে অংশ নেয়া শিশুদের বয়স ছিল ৫, ৮ ও ১১।

physical-play_4

গবেষণার ফলাফল অত্যন্ত চমকপ্রদ। এতে দেখা যায়

  • ১১ বছর বয়সী প্রতিটি শিশুর অতিরিক্ত শারীরিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে মানসিক রোগের ঝুঁকি ১২ শতাংশ কমিয়েছে।
  • ৫ ও ১১ বছর বয়সী ছেলেদের শারীরিক সক্রিয়তা তাদের উদ্বেগ হওয়ার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে।
  • বিষণ্নতার ক্ষেত্রেও একই ফল। খেলাধুলা ছেলেদের মধ্যে বিষণ্নতার ঝুঁকি ১৯ থেকে ২৩ শতাংশ পর্যন্ত কমায়।
  • ফুটবল বা বাস্কেটবলের মতো দলবদ্ধ খেলা ১১ বছর বয়সী ছেলেদের মানসিক রোগের ঝুঁকি কমিয়েছে ২৩ শতাংশ আর মেয়েদের ক্ষেত্রে তা ১২ শতাংশ।

তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের শারীরিক কার্যকলাপের মাত্রা কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ৫ বছর বয়সে প্রতিদিন ৪ ঘণ্টার বেশি সক্রিয় থাকা শিশুরা ১১ বছরে গিয়ে মাত্র আড়াই ঘণ্টা খেলাধুলা করে। স্কুলের চাপ, স্ক্রিন টাইমের বৃদ্ধি, খেলার জায়গার অভাব আর শহুরে জীবনযাপনের কারণে শিশুরা ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়ছে। আর এ প্রবণতা শুধু ভবিষ্যতের শারীরিক রোগ নয়, মানসিক সমস্যার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।