আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে ওঠা প্রতিটি শিশুর অধিকার। আর সেই অধিকার নিশ্চিতের দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সমাজের। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু শিশু নির্যাতনের সবার কপালে ফেলেছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।
যৌন নির্যাতন তো বটেই, অনাকাঙ্ক্ষিত একটি স্পর্শেই থমকে যেতে পারে শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা। ধ্বংস করে দিতে পারে তার আনন্দময় শৈশব আর সম্ভাবনাকে। শুধু তাই নয়, এই অভিজ্ঞতার প্রভাব তার জীবনে থেকে যেতে পারে দীর্ঘ মেয়াদে।
তাই যেকোনো ধরনের যৌন নির্যাতন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে শিশুকে 'গুড টাচ-ব্যাড টাচ' বা 'ভালো স্পর্শ, মন্দ স্পর্শে'র সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। এই ধারণাই তাকে রক্ষা করবে কবজ হয়ে।
শিশুকে তার শরীর সম্পর্কে ধারণা দিন
আপনার শিশুকে নিজের শরীর বা দেহ সম্পর্কে সচেতন করুন। সে জানুক, এই শরীর একান্তই তার নিজস্ব। তাকে শরীরের প্রতিটি অংশের (ব্যক্তিগত অংশসহ) সঠিক (অ্যানাটমিক্যাল নাম) নাম শেখান। সঠিক নাম জানলে সে এসব অংশ নিয়ে বিব্রত থাকবে না। এ সব স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ অনুভব করলে অন্তত সঠিকভাবে তা বলতে পারবে।
ভালো-মন্দ বিভিন্ন স্পর্শ সম্পর্কে ধারণা দিন
ভালো বা নিরাপদ স্পর্শ সেটাই যা শিশুকে নিরাপত্তাবোধ ও ভালো লাগা দেয়। এই স্পর্শ তারা আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করে। যেমন জড়িয়ে ধরা, হাত ধরা ইত্যাদি। আর অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ হল শরীরের ব্যক্তিগত অংশ যেমন বুক, নিতম্ব, ঠোঁট ও যৌনাঙ্গে কারো অযাচিতভাবে স্পর্শ। এতে শিশুরা অস্বস্তি বা অনিরাপদ বোধ করে এবং ভয় পায়। শিশুকে এই স্পর্শ সম্পর্কে ধারণা দিলে সে সহজেই বুঝতে পারবে। আর যাই হোক, অন্তত ভালো-মন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে।
অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শে শিশু কী করবে?
যে কোনো পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোনো স্পর্শে আপনার শিশুকে স্পষ্টভাবে না বলতে শেখান। তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন পরিচিত বা অপরিচিত, যে কোনো বয়সের যত কাছেরই আত্মীয়ই হোক না কেন, কোনো আদর বা স্পর্শ অস্বস্তিকর লাগলে তাকে সরাসরি ও দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে।
শুধু না বলাই নয়, সেই মুহূর্তেই তাকে সেখান থেকে চলে আসতে শেখান। যেন সে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাটি আপনাকে বা বিশ্বস্ত কাউকে জানায়। সন্তানকে আশ্বস্ত করুন, যাই ঘটুক না কেন, আপনি সব সময় তার পাশে আছেন।
সন্তান অভিযোগ করলে
আপনার সন্তান কখনো এ ধরনের অভিযোগ করলে তার কথা সর্বোচ্চ গুরুত্ব, সময় আর মনোযোগ দিয়ে শুনুন। এ ক্ষেত্রে সন্তানকে অবিশ্বাস বা অন্যায়কারীর পক্ষে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। তাকে আশ্বস্ত করুন, আপনি তার পাশে আছেন।
মনে রাখবেন, শিশুদের নিরাপত্তায় বিষয়ে থিংক আনথিংকেবল। কেননা ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা নির্যাতিত হয় পরিচিত, আত্মীয়, বন্ধু বা বিশ্বস্ত কারো কাছে।
আসাদ রাসেল, টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর (অ্যাভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন), কেয়ার বাংলাদেশ









