আমাদের অনেকেরই ধারণা, তোয়ালে খুব নোংরা হয় না—কারণ আমরা গোসলের পরই তা ব্যবহার করি। কিন্তু ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধারণা একেবারেই ভুল। নিয়মিত তোয়ালে না ধুলে তাতে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ভাইরাস জন্ম নেয়, যা ত্বকে সংক্রমণ বা ব্রণ সৃষ্টি করতে পারে।
বাথ তোয়ালে
বিশেষজ্ঞদের মতে, গোসলের তোয়ালে অন্তত দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করার পর ধোয়া উচিত। মার্কিন ত্বক বিশেষজ্ঞ ড. ক্রিস্টিনা কলিন্স বলেন, ‘তোয়ালে আমাদের মৃত কোষ ও অদৃশ্য জীবাণু জমায়। ভেজা অবস্থায় থাকলে সেগুলো দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে।’ এতে রিংওয়ার্ম, অ্যাথলিটস ফুট, এমনকি স্ট্যাফ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
তোয়ালে হুকে নয়, রডে ঝুলিয়ে শুকানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। যাতে বাতাসে ভালোভাবে শুকায়। গরম পানি দিয়ে ধুলে জীবাণু কার্যকরভাবে ধ্বংস হয়।

মুখের তোয়ালে
শরীর মোছার তোয়ালে দিয়ে মুখ মোছা একেবারেই অনুচিত। মুখের ত্বক অনেক সংবেদনশীল। আর মুখের তোয়ালে প্রতিবার ব্যবহারের পর ধুয়ে ফেলাই উত্তম। এতে ব্রণ ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
বিচ ও জিম তোয়ালে
সাঁতারের পর তোয়ালে প্রতিবার ধুয়ে নেওয়া জরুরি, বিশেষ করে পাবলিক পুল ব্যবহারের পর। পুলের পানিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও ক্লোরিন সহজেই তোয়ালে লেগে যায়।
একইভাবে, জিমের তোয়ালে প্রতিবার ব্যবহারের পরই ধোয়া উচিত। ড. রায়ভা খান্না বলেন, জিমের যন্ত্রপাতি থেকে তোয়ালে জীবাণু বহন করে, আবার ঘামে ভেজা তোয়ালে ব্যাগে রাখলে ব্যাকটেরিয়া কয়েক ঘণ্টায় বেড়ে যায়।

সংক্রমণের লক্ষণ
তোয়ালে ঠিকমতো না ধুলে ত্বকে সাদা ফুসকুড়ি, লাল দাগ, চুলকানি বা ফোঁড়া দেখা দিতে পারে। এমন সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার ত্বকের যত্নের প্রথম ধাপ। যত দামি ক্রিম বা সাবানই ব্যবহার করুন না কেন, ময়লা তোয়ালে সব যত্ন নষ্ট করে দিতে পারে।










