শিশুর মুখের আধো বোল মধুর চেয়েও মিষ্টি। প্রতিটি বাবা-মা তার সন্তানের মুখে প্রথম অর্থবোধক শব্দ শুনতে অধীর অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু কখনো কখনো নির্দিষ্ট বয়সেও শিশু কথা বলে না, বললেও সেটি অর্থবোধক নয়। শিশুর স্পিচ ডিলে বা দেরিতে কথা বলা বাবা-মায়ের জন্য দুশ্চিন্তার।

আধুনিক জীবন ব্যবস্থায় স্পিচ ডিলে বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ব্রিটেনে প্রায় ২০ লাখ শিশু দেরিতে কথা বলা জনিত সমস্যায় ভুগছে। অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি চার জন শিশুর মধ্যে একজন স্পিচ ডিলে চাইল্ড। শিশুর ভাষা শেখার সময় ও গতিতে ভিন্নতা থাকে। কিন্তু যদি কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দেয়, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি।

শিশুর ভাষা বিলম্বের লক্ষণ

নিচের লক্ষণগুলো থাকলে আপনার সন্তানের ভাষা বিকাশে সমস্যা থাকতে পারে:

  • ১৫-১৬ মাস বয়সে শিশুটি এখনো আধো আধো শব্দ উচ্চারণ করছে না।
  • ২ বছর বয়সে দুই তিনটি শব্দ জোড়া লাগিয়ে বাক্য বলতে পারছে না।
  • ৩ বছর বয়সে সংক্ষিপ্ত বাক্য তৈরি করতে অক্ষম।
  • সাধারণ নির্দেশ মানতে সমস্যা হচ্ছে।
  • উচ্চারণ দুর্বল বা অস্পষ্ট।
  • শব্দ সাজিয়ে বাক্য তৈরি করতে অসুবিধা।
  • বাক্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ বাদ দিচ্ছে।

যদি একাধিক লক্ষণ দেখা যায়, তবে স্পিচ থেরাপিস্টের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

New Project (1)

কেন শিশুদের ভাষা বিলম্ব হয়?

শিশুর ভাষা শেখার দেরির পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। সাধারণ কিছু কারণ হলো:

  • শিশু যদি কানে কম শোনে তবে তার জন্য ভাষা শেখা কঠিন।
  • অটিজম আক্রান্ত শিশুরা অনেক সময় ভাষা শিখলেও সামাজিক যোগাযোগে সমস্যা থাকে।
  • শিশুর জিহ্বায় যদি কোনো সমস্যা থাকে।
  • তীব্র অবহেলা বা অনুকূল পরিবেশের অভাব ভাষা শেখার পথে বাধা তৈরি করে।
  • অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম বা ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার।
  • একক পরিবার ও কর্মজীবি বাবা-মা। বর্তমান সময়ে কথা বলার সঙ্গীর অভাবে শিশু দেরিতে কথা বলে।
  • বহু ভাষার সংস্পর্শ শিশু স্পিচ ডিলের অন্যতম কারণ। মাতৃভাষা শেখার আগে অন্য ভাষায় সংস্পর্শে থাকলে বা অন্য ভাষার কার্টুন অতিরিক্ত দেখলে ভাষা শেখায় শিশু দ্বিধায় পড়ে যায়।

শিশুর দেরিতে কথা বলার পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তাই শিশুর ভাষাগত সমস্যা সঠিকভাবে নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

New Project

ভাষা বিকাশে অভিভাবকের করণীয়

শিশুর ভাষা শেখার প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে, তবে কিছু সহজ নিয়ম মানলে শিশুর বিকাশে সাহায্য হয়:

  • জন্মের প্রথম দিন থেকেই শিশুর সঙ্গে কথা বলুন। একই শব্দ বারবার বলুন।
  • শিশুর আধো আধো শব্দের জবাব দিন। সেময় দিন, শিশুর সঙ্গে খেলুন।
  • শিশুকাল থেকেই গান করুন ও শিশুকে সঙ্গে নিয়ে গান শুনুন।
  • উচ্চস্বরে গল্প পড়ুন।
  • শিশুর প্রশ্নের উত্তর দিন।

এইভাবে শিশুর কাছে শব্দগুলো বারবার পৌঁছালে তার ভাষার ভাণ্ডার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।

প্রয়োজনে স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্ট বা স্পিচ থেরাপিস্টের সহায়তা নিন। প্রশিক্ষিত স্পিচ থেরাপিস্ট শিশুর ভাষাগত ও যোগাযোগ সমস্যা নির্ণয় ও সমাধান করতে সাহায্য করেন।

-এবিসি অবলম্বনে।