বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক দিনের। পাকিস্তানের শেষ ১০ দিন আমরা একসঙ্গে ছিলাম। আমাকে হরিপুর জেল থেকে লাহোরের শিয়ালায় নিয়ে এল ২৮ ডিসেম্বর, যেখানে বঙ্গবন্ধু ছিলেন। ওটা ছিল তাদের পুলিশ একাডেমির রেস্টহাউজ। তাঁর কাছ থেকে শুনলাম তিনি মিওয়ালী জেলে ছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। ভুট্টো দেখা করতে এলে বঙ্গবন্ধু নাকি তাঁকে বলেছিলেন, ‘আপনি কি বন্দি?’ প্রত্যুত্তরে তিনি নাকি বলেছিলেন, ‘না, আমি বন্দি নই; আমি এখন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি।’ বঙ্গবন্ধু ভুট্টোকে বলেছিলেন, ‘আপনি কি করে রাষ্ট্রপতি হলেন? আমার ১৬৭টি আসন ছিল আর আপনার ছিল তো তার অর্ধেকের চেয়ে কম।’ তিনি নাকি খুব লজ্জা পেয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আচ্ছা, ঠিক আছে। আপনি রাষ্ট্রপতি হয়ে যান।’ বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘এসব কথা রাখুন। আমি দ্রুত বাংলাদেশে ফিরতে চাই। আমার একটাই দাবি।’ বঙ্গবন্ধু নাকি বলেছিলেন, আমার ধারণা কামাল হোসেনও এখানে বন্দি আছে। তাঁকে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও। ভুট্টো বলেছিলেন, ‘দেখি, আমি কি করতে পারি।’ তিনি কথা রেখেছিলেন। ২৬ তারিখ তিনি জেল কর্তৃপক্ষকে বলে গেছেন। আর ২৮ তারিখ মুক্ত করে বঙ্গবন্ধুর কাছে নিয়ে এলেন।

শিয়ালায় আমাদের পাহারা দিচ্ছিল একজন কর্নেলের নেতৃত্বে ২০-৩০ জন কমান্ডো। সম্ভবত ২৯ ডিসেম্বর হবে। বঙ্গবন্ধুকে খুব অভিযোগ করে বলছে, আপনি কি করে পাকিস্তানকে ভেঙে দিলেন। মুসলমানরা এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। বঙ্গবন্ধু হেসেই তাদের বললেন, ‘তোমরা তো কিছুই জানো না। পাকিস্তান তো বানিয়েছিলাম আমরা ছেচল্লিশের ভোটের মাধ্যমে। আমরাই পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়েছিলাম। পাঞ্জাব তো দেয়নি। তারা সবাই চমকে উঠেছিলেন। 

তারপর শুরু হলো আমাদের ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ কথা দিয়েছিল তাড়াতাড়ি আমাদের ফেরানোর ব্যবস্থা করবে। পাকিস্তানের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজিজ আহমেদ এসে বলল, ‘ইরান, তুরস্ক হয়ে আপনাদের ফেরার ব্যবস্থা করছি।’ আমরা বললাম, সরাসরি আমাদের নেবে না কেন?’ তিনি বললেন, ‘ভারতের উপর দিয়ে তো আমাদের প্লেন যাবে না।’ আমি তাঁকে বললাম, ‘জাতিসংঘ কিংবা রেড ক্রসের প্লেন তো যেতে পারে।’ তখন তিনি বললেন, ‘আমরা চাই আমাদের প্লেনেই আপনাদের পৌঁছিয়ে দেব।’ বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘ইরান কিংবা তুরস্ক নিয়ে গেলে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। বলো যে, জেনেভার মতো নিরপেক্ষ একটা জায়গায় নিতে।’ তখন আজিজ সাহেব বললেন, ‘লন্ডনে নিলে কেমন হয়?’ বঙ্গবন্ধু আমাকে বললেন, ‘মেনে নাও এটা।’ আমি বললাম, ‘তাহলে লন্ডনে আমাদের যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।’ লন্ডনে আমরা ৮ তারিখে পৌঁছেছি। বলা হয়েছে, প্লেনে নেয়া হবে, তবে প্লেন ল্যান্ড করার ১ ঘণ্টা আগে জানানো হবে ব্রিটিশ সরকারকে। যথারীতি আমরা নামি লন্ডনে। নিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভিআইপি রুমে। দেখি যে, ওখানে ছয় ফুট লম্বা একজন পুলিশের লোক দাঁড়িয়ে আছে। তিনি এক ধাপ আগ বাড়িয়ে স্যালুট করে বঙ্গবন্ধুকে বলছে, ‘স্যার, আমরা আপনার জন্য প্রার্থনা করছিলাম।’ এ ঘটনাটা বলছি এ কারণে যে, আমাদের স্বাধীনতা, মুক্তিসংগ্রাম ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি পৃথিবীর মানুষের অন্তর থেকে সমর্থন ছিল। আমরা রুমে ঢুকলে ওখানকার কর্মকর্তারা আমাকে টেলিফোন ধরিয়ে দিলেন। ওপার থেকে বলছে, ‘এখানে কি শেখ মুজিবুর রহমান আছেন?’ আমি নিজে পরিচয় দিয়ে বললাম, ‘হ্যাঁ, আছেন।’ ওপার থেকে বলছে, ‘তাঁকে জানিয়ে দাও ব্রিটিশ সরকার বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বরণ করবে, থাকার ব্যবস্থা করবে এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দেখা করবে। আমি ৪৫ মিনিটের মধ্যে গাড়ি নিয়ে আসছি।’ বঙ্গবন্ধু আমাকে বললেন, ‘তাঁকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি আবু সাইদ চৌধুরীর নম্বর দিতে বলো।’ আমি তাঁর কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, ‘আবু সাইদ চৌধুরী গতকালই চলে গেছেন।’ আমি বললাম, ‘এর পরে কে আছে তার নম্বর দাও।’ পরে তিনি আমাকে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার রেজাউল করিমের নম্বর দিলে আমি তাঁকে ফোন করি। তিনি শুনেই কেঁদে ফেললেন। বললেন, ‘আমি এক্ষুনি আসছি।’ তিনি আসতে আসতে ওই লোকটিও চলে এল। আমাদের গাড়িতে তুললেন, রেজাউল করিম সাহেবও উঠলেন। লোকটি বঙ্গবন্ধুকে বলল, ‘আপনাকে ক্লেরিজ হোটেলে (লন্ডনে তখন এটি ছিল এক নম্বর হোটেল) নিয়ে যাব।’ বঙ্গবন্ধু আমাকে লোকটিকে বলতে বলল, ‘এমন দামি হোটেলে নয়। রাসেল স্কয়ারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটা সাধারণ হোটেলে আমাদের থাকার ব্যবস্থা যেন করে। ওখানে আমাদের বাঙালি কমিউনিটি আছে। তাদের আসতে যাতে সুবিধা হয়।’ এটা শুনে তিনি হেসে ফেললেন। তিনি বললেন, ‘স্যার, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আমরা আপনাকে নিচ্ছি। সব কথা আমরা মেনে নিচ্ছি। এ কথা মেনে নেয়া যাবে না। কারণ রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য যে বিশেষ হোটেল আছে, সেখানে তাদের ব্যাপক নিরাপত্তা আছে।’ বলল, ‘সেখানেই আপনার সঙ্গে প্রবাসী বাঙালিদের দেখা করার ব্যবস্থা করব।’ পরে ওখানে বঙ্গবন্ধুর থাকার ব্যবস্থা করল। দেখা গেল, সেখানে হাজার হাজার বাঙালি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে আসতে লাগলেন। এটা খুব কঠিন কাজ ছিল। কারণ এত লোক তো হোটেল কর্তৃপক্ষ জীবনে দেখেনি। তারা বলছে, ‘এখানে নিরাপত্তার সমস্যা হবে। আপনি আমাদের সঙ্গে গেটে দাঁড়ান। আপনি দেখে দেখে ঢুকতে দেবেন।’ তখন আমার কাজ হয়ে গেল সামনে দাঁড়িয়ে লোক সরিয়ে দেয়া। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রথমে দেখা করতে এলেন হ্যারল্ড উইলসন (ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিরোধী দলের নেতা, পরে প্রধানমন্ত্রী), এরপর বেগম আবু সাইদ চৌধুরী, এরপর ডেভিড ফ্রস্ট (বিখ্যাত সাংবাদিক)। তারা খবর দিল, ওইদিনই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। তার আগেই (১-২টার দিকে) প্রেস কনফারেন্স। আমাকে বলল, ‘এই এই পয়েন্টে তুমি বক্তৃতার খসড়া তৈরি করো। প্রথমত, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অভিনন্দন জানাও। দ্বিতীয়ত, যেসব দেশ আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা কিংবা সমর্থন দিয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং যেসব দেশ সমর্থন করেনি অথচ মানুষ সমর্থন দিয়েছে, তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানাও। তৃতীয়ত, সব দেশের কাছ থেকে আমাদের স্বাধীনতার স্বীকৃতি চাও এবং চতুর্থত, পুনর্বাসন কিংবা পুনর্গঠনের জন্য সাহায্য চাও।’ মূলত এ চারটি পয়েন্ট ধরে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু বিশ্ববাসীর কাছে তাঁর ভাষণ তুলে ধরেন। ৪টা-৫টার দিকে ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী হিথ সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। তিনি আমাদের খুব গভীর আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন। তিনি বললেন, আপনাকে জানানো হয়েছে আমরা আপনাকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সংবর্ধনা দিচ্ছি। আমরা আপনাকে নিয়ে খুব চিন্তা করেছি এবং এখন আমাদের মাঝে আপনাকে পেয়ে আনন্দ পাচ্ছি। যদ্দূর সম্ভব আপনাকে সাহায্য করব। বঙ্গবন্ধু বললেন, তা তো করবেনই। আমরা আপনার দেশের স্বীকৃতি চাই। তিনি বললেন, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সংবর্ধনা দিচ্ছি। তবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেব ইইউর অন্যান্য দেশকে সঙ্গে নিয়ে। এজন্য পাঁচ-সাতদিন সময় লাগতে পারে। সুতরাং ধরে নেন যে আপনি স্বীকৃতি পেয়ে যাচ্ছেন। আর পুনর্বাসন কিংবা পুনর্গঠনের জন্যও যা সম্ভব সহযোগিতা করব। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আর কি সাহায্য লাগবে? বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘আপনি কি আমাদের প্লেন দিয়ে সাহায্য করবেন। কেননা আমি দ্রুত বাংলাদেশে যেতে চাই।’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘অবশ্যই’। হিথ সাহেব তাত্ক্ষণিকভাবে তাঁর সেক্রেটারিকে বললেন, ‘দেখো, আমার প্লেন ওখানে ব্যবস্থা করা যায় কিনা’। আধাঘণ্টা পর হিথ সাহেবের সেক্রেটারি এসে বললেন, প্রধানমন্ত্রী কাল সকালে আপনার প্লেন রেডি হতে পারে। তাত্ক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিলাম, কাল ৭টায় আমরা রওয়ানা হয়ে যাব। বাংলাদেশ থেকে প্লেন গেলে আমাদের আরো দুদিন লন্ডনে থাকতে হতো। আর বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক লোকজন আসবে। বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ নয়, যত দ্রুত বাংলাদেশে যেতে পারি সেটাই হবে আমাদের অগ্রাধিকার’। পরে আমরা দিল্লি থামলাম। দিল্লির দৃশ্যটা আমার এখনো মনে পড়ে। বঙ্গবন্ধুকে তারা এমনভাবে সংবর্ধনা জানালেন যেন তিনি পরিবারের একজন সদস্য। মিসেস গান্ধীসহ অনেকের চোখে পানি পড়ছে। ওখানে তিনি বাংলায় বক্তৃতা দিলেন। পরে ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে আমরা দেশে ফিরে এলাম।

প্লেন থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে একটি ট্রাক এল। সেখানে ছিল তাজউদ্দীন ভাই, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতা ও ছাত্রনেতারা। আমরা ট্রাকে উঠলাম। উপর থেকে দেখলাম, জনসমুদ্র। গাছের উপরে, ছাদের উপরে সবখানেই মানুষে ঠাসা। নামতে নামতে আমাকে বঙ্গবন্ধু দুটি বিষয় বলেছেন। তিনি বলছেন, ‘আমরা কী ধরনের সরকার গঠন করব। আমাকে যদি বলো, আমি পার্টি নিয়ে থাকতে চাই। সরকার গঠন করুক আমার দলের অন্য নেতারা। আমি সবাইকে নিয়ে ঐক্য করা এবং বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর স্বীকৃতি আদায়ে রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই।’ আমি বললাম, ‘এটা ঠিকই আছে। সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের অন্য নাম হলো শেখ মুজিব। সুতরাং আপনি রাষ্ট্রপ্রধান অন্ততপক্ষে প্রধানমন্ত্রী না হলে সমস্যা হবে।’ তিনি বললেন, ‘রাষ্ট্রপতি না প্রধানমন্ত্রী হব?’ তখন বললাম, ‘ছয় দফার মধ্যে আমরা সংসদীয় ব্যবস্থার কথা বলে আসছি। আপনি রাষ্ট্রপতি হলে সংসদীয় ব্যবস্থা লালন করা কঠিন হবে। কারণ পাকিস্তানের একটা অভিজ্ঞতা ছিল সব ফাইল চলে যেত জিন্নাহর কাছে। এজন্য সেখানে সংসদীয় ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।’ আরো বললাম, ‘আপনি যেখানে থাকবেন সেখানেই সব ক্ষমতা থাকবে। আপনি যদি রাষ্ট্রপতি হয়ে যান, তাহলে সংসদীয় ব্যবস্থা গড়ে উঠবে না।’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ’। তিনি নামলেন। পরে ১০ জানুয়ারির সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দিলেন। এখানে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। পাকিস্তানে থাকাকালে ভুট্টো বঙ্গবন্ধুকে সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে পীড়াপীড়ি করছিল। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ঢাকায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি এর উত্তর দেব।’ বঙ্গবন্ধু ভাষণে বলেছিলেন, ‘ভুট্টো, তুমি তো আমাকে বলেছিলে কিছু সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে। আমি আজ এখানে এসে দেখেছি, শুনেছি, বুঝেছি এ ধরনের আক্রমণ চালানো হয়েছে, গণহত্যা হয়েছে। এর পরও দেখো, আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক হোক এটা আমি চাই। কিন্তু সেটা হবে দুই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে। তোমাদের দেশের মানুষ ভালো থাকুক এটা চাই। এছাড়া অন্য কোনো ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক হবে না।’ এটা উত্তর হয়ে গেল। দুই. তিনি বলেছেন, ‘আমি শুনেছি এখানে ব্যাপক রক্তগঙ্গা বয়েছে। এক্ষেত্রে আমি একটা কথা বলব, প্রতিশোধের পথ না ধরে যারা অপরাধ করেছে, আইন অনুযায়ী বিচার বাংলার মাটিতে হবে।’ আমাকে তিনি বললেন, ‘সংবিধান করা একটি কাজ এবং যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রক্রিয়ার আইনি বিধি-বিধান তৈরি আরেকটি কাজ।’ 

 

ড. কামাল হোসেন: সংবিধান বিশেষজ্ঞ

বঙ্গবন্ধু সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী