৪৮ বছর আগে এই শুভ দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির পিতা হিসেবে বীরের বেশে বাংলার মাটিতে পা রাখলেন। অথচ তিনি যে ফিরবেনই, তার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, পরাজিত বাহিনীর আত্মসমর্পণের লজ্জা শুরু। আর বিজয়ী জাতি বাঙালির মনে জন্ম নেয় চরম উত্কণ্ঠা। সভ্যতার কোনো মাপকাঠিতেই পাকিস্তানের শাসককুলের ওপর ভরসা করার কারণ ছিল না। তাই ৮ জানুয়ারি ১৯৭২, পাকিস্তানি কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির ঘোষণা পর্যন্ত ২৩টি দিন যেন আমাদের জন্য অনন্তকালের প্রতীক্ষাসম হয়ে ওঠে।

এটি এখন জানা কথা, কারামুক্তির ঠিক আগে আগে বাঙালির নয়নমণি, স্বাধীনতার স্থপতি, ইতিহাসের মহানায়ক, অকুতোভয় শেখ মুজিবুরের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ফেডারেল বা তদানুরূপ সম্পর্কের অনুরোধ করেছিলেন পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো। বঙ্গবন্ধু জবাবে এ মীমাংসার ভার তার জনগণের ওপর দিয়ে বলেছিলেন যে পাকিস্তানের বর্বর দখলদার বাহিনী বাঙালির ওপর যে জুলুম নির্যাতন করেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই সম্পর্ক থাকা না-থাকা নির্ভর করবে। লক্ষণীয়, বাংলাদেশের যে প্রবাসী সরকার মুজিবনগরে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে, এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলির মীরজাফর খন্দকার মোশতাক আহমেদও অনুরূপ একটি দুরভিসন্ধিমূলক প্রস্তাব নিয়ে নিউইয়র্ক রওনা হওয়ার প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের দক্ষ প্রশাসনের সূক্ষ্ম গোয়েন্দাজালে ধরা পড়ে পদচ্যুত হন।

প্রটোকল রীতিনীতিতে নতুন অধ্যায় সূচনা হয় তখনো শপথ না নেয়া বাঙালির রাখাল রাজা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি লন্ডনে অভ্যর্থনা ও সৌজন্য প্রদর্শনে। বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে একটি ব্রিটিশ রয়েল এয়ারফোর্স বিমানে তিনি নয়াদিল্লি এলেন। রাষ্ট্রপতীয় অভ্যর্থনা, সৌজন্য ও কুশল বিনিময় এবং তারই মাধ্যমে বৃহৎ ও মহৎ প্রতিবেশী ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর স্বদেশে ফিরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেলেন। নয়াদিল্লিতে তিনি বললেন, ‘এ অভিযাত্রা অন্ধকার থেকে আলোয়, বন্দিদশা থেকে স্বাধীনতায়, নিরাশা থেকে আশায় পরিপূর্ণ মহাযাত্রা। অবশেষে আমি নয় মাস পর আমার স্বপ্নের সোনার বাংলায় ফিরে যাচ্ছি। এ নয় মাসে আমার বাংলার মানুষ শতাব্দীর পথ পাড়ি দিয়েছে। আমাকে যখন আমার মানুষের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল, তখন তারা কেঁদেছিল। আমাকে যখন বন্দি করে রাখা হয়েছিল, তখন তারা যুদ্ধ করেছিল, আর আজ যখন আমি তাদের কাছে ফিরে যাচ্ছি, তখন তারা বিজয়ী। আমি ফিরে যাচ্ছি তাদের নিযুত বিজয়ী হাসির রৌদ্রকরে। আমাদের বিজয়কে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে পরিচালিত করার যে বিরাট কাজ এখন আমাদের সামনে, তাতে যোগ দেয়ার জন্য আমি ফিরে যাচ্ছি আমার মানুষের কাছে।’ (দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, নয়াদিল্লি, ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২)

স্বাভাবিকভাবেই এটি একটি রহস্য: পাকিস্তানিরা কি শুধু আন্তর্জাতিক চাপের কারণে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়? একাধিক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সূত্রমতে, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের গোপন সামরিক আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে বঙ্গবন্ধুর বিচার হয়, সেখানে সাক্ষী আনা হয় এমনকি রাজসাক্ষী।  ‘বিশ্বাসঘাতক শেখ মুজিবকে’ মৃত্যুদণ্ড দেয়ার রায়ও দেয়া হয়। কিন্তু সে রায় কার্যকর করার আগেই ইয়াহিয়া খান গদিচ্যুত হন। লন্ডন হিথরো বিমানবন্দরে জাতিসংঘে নিউইয়র্ক থেকে ইসলামাবাদ ফেরত জুলফিকার আলী ভুট্টোর সঙ্গে মিসেস মোজাফফর আহমেদের একটি কথোপকথনে জানা যায় যে খণ্ডিত পাকিস্তানের নতুন কর্ণধার হয়েই তিনি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। ভুট্টো সাহেব একজন তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনীতিবিদ, অন্য একজন অবিসংবাদিত রাজনীতিকের প্রতি শ্রদ্ধার কারণে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে থাকতে পারেন। আবার তার রাজনীতি ও শাসন ব্যবস্থায় তিনি বঙ্গবন্ধুর সাহায্য পেলেও পেতে পারেন, সে হিসাবকিতাবও ভুট্টোর মনে থেকে থাকতে পারে। আবার এটি প্রণিধানযোগ্য যে, সেই কঠিন দুঃসময়ে ১৯৭১ সালে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ৪২ জন পাকিস্তানি বিশিষ্ট জন বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবি জানিয়েছিলেন।

শত বাধা আর অনিশ্চয়তা দূর করে দেশে ফিরলেন বাংলার নয়নমণি। রেসকোর্সের মহাজনসমুদ্রে ‘ভাইয়েরা আমার’-এর উদ্দেশে বললেন, ‘তোমরা আমার সালাম নাও। বাংলাদেশ আজ থেকে মুক্ত স্বাধীন। একজন বাঙালি বেঁচে থাকতেও এই স্বাধীনতার সূর্য নষ্ট হতে দেব না। বাংলাদেশ ইতিহাসে স্বাধীন দেশ হিসেবেই বেঁচে থাকবে। বাংলাকে দাবায়ে রাখতে পারে এমন কোনো শক্তি নাই। তোমরা আমার ভাইয়েরা, গেরিলা হয়েছিলে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য। তোমরা রক্ত দিয়েছ। তোমাদের রক্ত বৃথা যাবে না। তবে একজন মানুষও যদি না খেয়ে থাকে আর জনগণ যদি বাসস্থানে না থাকতে পারে, তাহলে বাংলার স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে যাবে।’

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি মোতাবেক ১৩৭৮ সনের ২৪ পৌষ বাস্তবতা ছিল একটি সোনার বাংলাকে শ্মশান তথা যুদ্ধবিধ্বস্ত বিরান ভূমিময় করে ফেলার ইতিহাস ধিকৃত পরাজিত পলায়নপর দস্যু পাকিস্তানি বাহিনীর অপকর্মের স্বাক্ষর। ঘরে রান্নাবান্নার চাল, তেল, নুন, পেঁয়াজ নেই, আলো জ্বালাতে কুপিতে কেরোসিন নেই। মাঠে ফসল নেই, কারণ কিষাণ-কিষাণীরা সদ্য সফল হওয়া নয় মাসের মরণপণ স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্যস্ত। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, রেল, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, মিল-ফ্যাক্টরি, অফিস-

আদালত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস। বন্দরে মাইন পোঁতা। মানুষের হাতে অর্থকড়ি নেই। ট্রেজারিতে নেই কোনো সংরক্ষিত অর্থ। নেই ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান। আর বৈদেশিক মুদ্রা থাকার তো প্রশ্নই ওঠে না। ৯০০ কোটি ডলারের একটি ক্ষুদ্র অর্থনীতি, মাথাপিছু আয় ১০০ ডলারেরও কম। মানুষের গড় আয়ু ৪৩ বছর। শিক্ষার হার ২৭ শতাংশ। তবে শুধু একটাই ধন—অফুরন্ত আশা, কারণ জাতির পিতা ফিরে এসেছেন।

শক্ত হাতে, দৃঢ় উদ্ভাবনী, বহুমাত্রিক নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থ ও শিক্ষা-সংস্কৃতিকে চালু করলেন। হলেন রাষ্ট্রের দিশারি আর অর্থনীতির কাণ্ডারি। জন্ম নিল সরকারি খাতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)—১ হাজার ৮০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ। বিপুল পরিমাণে চাল, গম, ভোজ্যতেল, কোরোসিনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করে গুদামে রাখল টিসিবি। বঙ্গবন্ধু সরকারি খাতে সৃষ্টি করলেন কনজিউমার্স সাপ্লাইজ করপোরেশন (কসকর), যার গ্রামে-গঞ্জে বিস্তৃত শাখার মাধ্যমে অত্যন্ত সুলভ মূল্যে বিতরণ করা হলো টিসিবির গুদামজাত এবং বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের হিমালয়সম গুডউইলে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রাপ্ত পণ্যসম্ভার। মানুষকে এভাবে বাঁচানোর জন্য অসাধারণ উদারতা, দক্ষতা ও সময়োপযোগিতায় কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, অর্থ, বিদ্যুৎ খাতে সময় ও সম্পদ বিনিয়োগ করে রাষ্ট্রীয় চাকাকে সচল করা হলো। সারা বিশ্বে অর্থনীতির মহামন্দা আর মূল্যস্ফীতি। তেলের দাম বেড়ে গেছে তিন গুণ, গমের দাম আড়াই গুণ। প্রথমেই কৃষিতে মনোযোগ দিলেন। কয়েক লাখ সার্টিফিকেট মামলা তুলে দিলেন, জমির মালিকানার সিলিং করে ভূমিহীনদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিলেন। প্রায় বিনা মূল্যে সব ধরনের কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হলো। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা নবজীবন পেল। চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনায় স্থাপিত হলো শিল্প-কারখানা। ১৯৫৬ সালে যে ইপসিকের সৃষ্টি করেছিলেন, ১৯৭২ সালে বিসিক হিসেবে এর পুনর্জন্ম দিলেন—প্রতি জেলায় স্থাপিত হলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট। স্থাপিত হলো বিদ্যুৎকেন্দ্র আর সার কারখানা। পরীক্ষামূলকভাবে ১২টি থানায় শুরু হলো পরিকল্পিত পরিবার পরিকল্পনা প্রোগ্রাম। রচনা করলেন একটি আধুনিক ও দৃষ্টান্তমূলক সংবিধান। স্বীকৃত হলো মৌলিক অধিকার, ঘোষিত হলো সকলের তরে সমান ও অংশীদারিত্বের বাংলাদেশ; থাকবে না শহরে-গ্রামে ও নারী-পুরুষে কোনো বৈষম্য। সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদে সম্পদের মালিকানায় রাষ্ট্রীয়, ব্যক্তিগত ও সমবায়ী ধরন রেখে ব্যক্তি খাতের বিকাশ ও সমবায়ের প্রচণ্ড শক্তিকে কাজে লাগানোর দরজা খোলা রাখলেন বঙ্গবন্ধু। প্রণীত হলো প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, যার প্রথম বাক্য হচ্ছে—‘To reduce poverty. This is the foremost objective of the Plan.’ জাতির পিতার কল্যাণ হাতের পরশে ও অনুপ্রেরণার নেতৃত্বে বিপুলভাবে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। ১৯৭৪-৭৫ সালে সমষ্টিক আয়ে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হলো ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

অতঃপর হায়েনার দলের কাপুরুষের মতো পৈশাচিক, ঘৃণিত, ন্যক্কারজনক বিয়োগান্তক ঘটনা—১৫ আগস্ট ১৯৭৫, সপরিবারে শাহাদত বরণ করলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর জাতির পিতার আদর্শকে হটিয়ে পুনরায় পাকিস্তানীকরণের ব্যর্থ প্রয়াস।

আজকের এই দিনে বাঙালি একটি গর্বিত জাতি। জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ সন্তান জনবন্ধু শেখ হাসিনার বিশ্বনন্দিত স্টেটসম্যানসুলভ উদ্ভাবনী, দক্ষ, সাহসী, জ্ঞানালোকে সমৃদ্ধ নেতৃত্বে ১১ বছর ধরে কেবল বর্ধনশীল একমুখী গতির প্রতি বছর বার্ষিক সামষ্টিক আয়ের প্রবৃদ্ধির কারণে জাতীয় সামষ্টিক আয় ৩০ হাজার ২০০ কোটি ডলারে বৃদ্ধি পেল। আর ১ হাজার ৯০৯ ডলারের মাথাপিছু আয়ের অর্থনীতি এখন বাংলাদেশ। এ দেশে এখন মানুষের গড় আয়ু ৭৪ বছর, শিক্ষার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ। ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ লোক উন্নত পন্থায় পয়োনিষ্কাশন করে। বিদ্যুৎ যাচ্ছে ৮৫ শতাংশ লোকের ঘরে। শিশুমৃত্যুর হার নেমেছে ১ হাজারে ২৪। নারীর প্রজনন প্রবণতা নেমে এখন ২ দশমিক শূন্য ৫। গত ১১ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে সোয়া দুই গুণ আর খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে চার গুণ। জেন্ডার প্যারিটিতে বাংলাদেশ এশিয়ায় দ্বিতীয় আর সামাজিক অগ্রগতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠ। অর্থনীতির অনেক বোদ্ধার হিসাবনিকাশ বলছে যে আর ২৫ বছর পর বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি হবে। এরই মধ্যে মাথাপিছু আয়ে পাকিস্তান পেছনে পড়েছে, ভারতও নাকি ২০২৯ সালে পেছনে পড়ে যাবে। একটি লগারদমিক মডেল অনুসারে, ২০৩৯ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১০ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ উন্নত, সমৃদ্ধ, ক্ষুধামুক্ত, বঞ্চনাবিহীন, অসাম্প্রদায়িক, দাঙ্গা-হাঙ্গামা-মৌলবাদ বিতাড়িত করে একটি উন্নত সমৃদ্ধ প্রযুুক্তিনির্ভর সোনার বাংলায় প্রবেশ করবে ২০৪০ দশকে।

আজকের বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকীর আনন্দ উৎসবে তিনটি কষ্টের কথা বলতেই হয়। ১৯৬০ সালে নির্মিত পুরনো গণভবনটি বঙ্গবন্ধুর খুব পছন্দ ছিল। এখান থেকেই তিনি পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে দখলদার প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে স্বাধীনতার শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন ১৭-২৪ মার্চ ১৯৭১ সময়কালে। আর মহান স্বাধীনতার সরকারের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ ভবনটিতেই কাজকর্ম শুরু করেন। এখানে কি আমরা ‘বঙ্গবন্ধু কূটনৈতিক জাদুঘর’ স্থাপন করতে পারি না? ৭ মার্চ ১৯৭১, রেসকোর্সের যে স্থানটি থেকে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন—‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম—সে স্থানটিসহ আশেপাশে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুপার্ক স্থাপন করেছেন। শিশুপার্কটিকে অক্ষুণ্ন রেখেই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ দেয়া স্থানটিতে আমরা একটি স্মৃতিমর্মর স্তম্ভ বানাতে পারি না? কয়েক দিন আগে শ্রদ্ধাভাজন সাঈদুজ্জামান সাহেব আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন মানিক মিয়া এভিনিউয়ের যে প্রান্তে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন সে প্রান্তে। অযত্ন, অবহেলা, আবর্জনাবেষ্টিত আর পোস্টারের নিচে লুকিয়ে আছে ‘বঙ্গবন্ধু চত্বর’-এর ক্ষুদ্র একটি নিশানা। উপরে বর্ণিত তিনটি কাজ সম্পন্ন না হলে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ পূর্ণতা পাবে কি!

 

মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন: অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব, সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক