এএইচএম আহসান
ভাইস চেয়ারম্যান
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো
জাতীয় উন্নয়নে রফতানি খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। গত এক দশকে আমাদের রফতানি খাতের প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। কভিডের কারণে দুই বছর ব্যাহত না হলে আমরা এতদিনে ৮০ বিলিয়নের কাছাকাছি চলে যেতাম। সে হিসেবে আমরা মনে করি, বাংলাদেশের রফতানি খাত এ পর্যন্ত যথেষ্ট ভালো করেছে। তবে প্রধান চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে ডাইভারসিফিকেশনের বিষয়টা। আমরা এখনো একটা পণ্যের ওপর ৮০ শতাংশ রফতানিনির্ভর। এটার জন্য অনেক প্রচেষ্টা, অনেক রকম পরিকল্পনা আছে। সেগুলোকে আরো অনেক বেগবান করা দরকার। তাহলে রফতানি খাতে এখন যতটুকু চ্যালেঞ্জ তা মোকাবেলা করা যাবে। ২০২৪-এর মধ্যে এটিকে আমরা ৮০ বিলিয়নে নিয়ে যেতে চাই। এক্ষেত্রে ডাইভারসিফিকেশন ও প্রডাক্টিভিটি বাড়ানো দরকার। প্রডাক্টেরও ডাইভারসিফিকেশন দরকার, মার্কেটেরও। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইস্ট ইউরোপিয়ান যে মার্কেট আছে সেগুলোর ওপর আমরা এখন জোর দেব। আরেকটা হচ্ছে আমাদের প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে।
পণ্য বহুমুখীকরণের জন্য বেশকিছু বিষয়ে কাজ চলমান আছে। আর্থিক ও নীতি থেকে শুরু করে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে পোশাক ও পোশাকবহির্ভূত খাতগুলোকে একই সুবিধা নিশ্চিত করার প্রয়োজন আছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে হবে। সেটা হলো নন-আরএমজির অভ্যন্তরীণ বাজার এত বড় যে উৎপাদকরা আন্তর্জাতিক বাজারের বিষয়ে উৎসাহ পান না। উৎসাহ বাড়ানোর জন্য সহায়ক নীতিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারমুখী করতে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের জন্য ভিন্ন ধরনের নীতিসহায়তার বিষয়ে ভাবতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে মান ও খরচ একটা বড় বিষয়। অভ্যন্তরীণ বাজারে মানের বিষয়ে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন তুলনামূলক কম বলে খরচও এক্ষেত্রে কম। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে মান উন্নত হতে হয়, সেজন্য খরচও বেশি করতে হয়। আমাদের উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। এ মুহূর্তে দক্ষতা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।
আরেকটি বিষয় হলো দাম ও মানের দিক থেকে প্রতিযোগিতা করতে হবে। অন্য যেসব অভিযোগমূলক বিষয় আছে সেগুলো বিদেশীরা দেখা শুরু করবে। সেটা লেবার হতে পারে, ফায়ার সেফটি হতে পারে, কাজের পরিবেশ হতে পারে, সেগুলো নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা। কভিডের কারণে দুই বছর নিম্নমুখী থাকার পর বর্তমানে রফতানি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সরকার ৪২টি পণ্যে বিভিন্ন হারে নগদ প্রণোদনা দেয়। এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে আগামী দিনগুলোয় রফতানি আরো বাড়বে। গত অর্থবছরে ৮০০ কোটি ডলারের সেবা রফতানির পরিমাণ বিবেচনায় মোট রফতানি ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আগামী দিনগুলোতেও রফতানি অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছি।





