টিপু মুনশি 

মন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

বাংলাদেশের রফতানি দিন দিন বাড়ছে। পণ্য রফতানি ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থবছর শেষে মোট রফতানি আরো বেশি হবে। আগামী দুই বছরে বাংলাদেশের রফতানি ৮০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। এ অর্জনে সব রফতানিকারক ও শ্রমিকদের ধন্যবাদ প্রাপ্য। আমাদের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক। দেশের তৃণমূলের নারীদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে পোশাক শিল্প। এ শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও বড় অবদান রাখছে। পোশাক পণ্যের ৪২ বিলিয়ন ডলারের রফতানি কেবল অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেনি, লাখ লাখ নারীর কর্মসংস্থান করেছে। এ শিল্পের কারণে তাদের জীবন বদলে গেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের যে শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে, এর পেছনে এ শিল্পের অবদান রয়েছে। পোশাক শিল্প দিয়ে বহির্বিশ্ব আজ বাংলাদেশকে নতুনভাবে চেনে। এখন রফতানি বহুমুখীকরণ প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার কারণে আমাদের আরো পাঁচ-ছয়টি পণ্য বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি হবে। পণ্যের বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে চামড়া, হালকা প্রকৌশলসহ আরো কিছু পণ্য বিশ্বমানের করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে তহবিলও গঠন করা হয়েছে। যা ব্যবহার হবে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুত্তিগত আধুনিকায়নে। পোশাক খাত ছাড়াও সম্ভাবনাময় অন্যান্য পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি করতে পারলে সহজেই রফতানির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

দেশের রফতানি বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে জাতিসংঘ নির্ধারিত ২০৩০ সালের এক বছর আগেই বাংলাদেশ সফলভাবে এসডিজি অর্জন করবে এবং ২০৪১ সালে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। এ দেশের উন্নয়নে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ এখন একটি শক্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ব্যবসায়ীদের ভূমিকা অনেক বেশি। বাংলাদেশ আজ পাকিস্তান থেকে সব সূচকে এগিয়ে আছে। এমনকি ভারতের সঙ্গেও প্রায় সাতটি সূচকে এগিয়ে রয়েছে। আমাদের সামনে উজ্জ্বল সম্ভাবনা। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

রফতানি বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শিল্পায়নকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এজন্য উদ্যোক্তারা যাতে সহজে নতুন শিল্প স্থাপন করতে পারেন, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। সহজে ব্যবসা করার জন্য যা করা প্রয়োজন সরকার করছে। সরকার বিনিয়োগ ও রফতানি বাড়াতে চায়। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনে উদ্যোক্তাদের পাশে আছে সরকার। নতুন বাজার সৃষ্টি, নতুন পণ্য রফতানি, বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ থাকবে। যেসব খাতে প্রণোদনা দরকার, সেখানে প্রণোদনা দেয়া হবে। আবার যারা প্রণোদনার সঠিক ব্যবহার করতে পারছে না, তাদের বিষয়েও ভাবা হবে। মোদ্দাকথা, ছোট ছোট খাত এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা থাকবে। পাশাপাশি রফতানি বাড়ানোর জন্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) করার বিষয়ে জোর দেয়া হচ্ছে। যে দেশের সঙ্গে যে ধরনের চুক্তি করলে সুবিধা হবে, সেটাই করা হবে। বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেই বাণিজ্য বাড়ানো হবে।