পাকিস্তানি শোষণ
শাসনের
বিরুদ্ধে
বাঙালিকে
ঐক্যবদ্ধ
করতে
বঙ্গবন্ধু
১৯৭০
সালের
নির্বাচনে
বাংলাদেশের
এক
প্রান্ত
থেকে
অন্য
প্রান্তে
ঘুরে
বেড়িয়েছেন।
তিনি
১৯৪৮
সালেই
বুঝতে
পেরেছিলেন
পাকিস্তানে
বাঙালির
মুক্তি
সম্ভব
নয়।
কিন্তু
মুসলিম
বাঙালি
মানস
থেকে
পাকিস্তান
প্রত্যয়
হটিয়ে
বাংলাদেশ
প্রত্যয়
স্থাপন
করা
এত
সহজ
ছিল
না।
তাই
তিনি
সুকৌশলে
ঘোষণা
করেন
ছয়
দফা।
এরপর
১৯৭০
সালে
অনুষ্ঠিত
পাকিস্তানের
প্রথম
জাতীয়
পরিষদের
নির্বাচনকে
তিনি
ছয়
দফার
পক্ষে
গণভোট
হিসেবে
আখ্যায়িত
করেন।
নির্বাচনী
প্রচারণায়
তিনি
১৯৬৯
সালের
মার্চ
থেকে
১৯৭০
সালের
ডিসেম্বর
পর্যন্ত
বাংলাদেশের
সব
জেলা,
মহকুমা
সদর,
৫৫টি
শহর
এবং
৪০০
থানায়
জনসভা
করেন।
এমনকি
পশ্চিম
পাকিস্তানেও
জনসভা
করেন।
সাধারণের
কাছে
একটি
বার্তাই
পৌঁছে
দেন,
তা
হলো—‘এবারের
ভোট
ক্ষমতার
নয়,
এবারের
নির্বাচন
হলো
পূর্ব
বাংলার
নিপীড়িত
জনগণের
অধিকার
আদায়ের
নির্বাচন।
এবারের
সংগ্রাম
হলো
ছয়
দফার
মাধ্যমে
স্বায়ত্তশাসন
প্রতিষ্ঠার
সংগ্রাম।’
১৯৭০
সালের
৭
জুন
ঢাকার
রেসকোর্স
ময়দানে
আয়োজিত
জনসভা
থেকে
বঙ্গবন্ধু
নির্বাচনী
প্রচারাভিযান
আরম্ভের
আনুষ্ঠানিক
ঘোষণা
প্রদান
করলেও
তিনি
মূলত
১১
জানুয়ারি
পল্টনে
আয়োজিত
জনসভার
মধ্য
দিয়ে
নির্বাচনী
বক্তব্য
প্রদান
করেন।
১১
জানুয়ারি
ঢাকার
পল্টন
ময়দানে
আয়োজিত
জনসভায়
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
আগামী
নির্বাচন
উপলক্ষে
নিজ
দলের
কর্মসূচি,
মত
ও
পথ
সবার
সামনে
তুলে
ধরেন।
তিনি
বলেন,
‘নির্বাচন আসছে।
জনগণের
নির্বাচিত
প্রতিনিধিরা
শাসনতন্ত্র
প্রণয়ন
করবেন—এটা
আপনারা
সকলে
জানেন।
তবু
ষড়যন্ত্রের
বিরাম
নেই। জানতাম
আমার
বাংলার
জাগ্রত
মানুষ,
আর
উপরে
আল্লাহই
আমার
ভরসা।
একদিন
না
একদিন
তারা
জাগবে,
আল্লাহর
হাতে
অত্যাচারীদেরও
সমুচিত
শাস্তি
হবে।
হয়েছেও
তাই।
এই
বাংলার
ছাত্র-কৃষক-শ্রমিক-জনতা
ঠিকই
রুখে
দাঁড়িয়েছে।
শত
আসাদ,
মতিউর,
জোহা,
সার্জেন্ট
জহুর
ও
আনোয়ারার
রক্তের
বিনিময়ে
আজ
আমি
সেই
পল্টন
ময়দানেই
আপনাদের
মুখোমুখি
দাঁড়াতে
পেরেছি।
আজ
ছয়
দফার
ডাকে
বিশাল
জনসমুদ্র
এখানে
সমবেত
হয়েছে...বাংলার
মানুষ
সৌহার্দের
নিদর্শনস্বরূপ
নিজেদের
সংখ্যাগুরুত্বের
দাবি
ত্যাগ
করে
দেশের
জন্য
বহু
দান
করেছে,
কিন্তু
নিজেদের
প্রাপ্য
অধিকার
আদায়
করতে
প্রতিবারই
তাদের
সংগ্রামী
পথে
নামতে
হয়েছে,
বুকের
রক্তে
রাজপথ
রাঙাতে
হয়েছে।
ঠিক
তেমনি
ছয়
দফাও
আমরা
অর্জন
করব
কারো
দয়ার
দান
হিসেবে
নয়,
আদায়
করব
সংগ্রামের
পথে।’
ছয়
দফা
সম্পর্কে
১
ফেব্রুয়ারি
টাঙ্গাইলের
জনসভায়
তিনি
স্পষ্টত
বলেন,
‘জনগণের উপর
আমার
বিশ্বাস
অসীম,
এই
বিশ্বাসের
উপর
ভর
করেই
আমি
মৃত্যুর
সঙ্গে
পাঞ্জা
লড়েছি।
এই
বিশ্বাস
আছে
বলেই
আমি
দেশবাসীকে
আশ্বাস
দিতে
পারি
যে
সংগ্রামের
বন্ধুর
পথের
শেষে
জয়
আপনাদের
অনিবার্য,
ছয়
দফা
এসেছে
এ
দেশের
মাটি
হতে,
এ
দেশের
মানুষের
মনের
মণিকোঠা
হতে।
আপনাদের
কুশাসনে
পূর্ব
বাংলার
যে
মানুষ
একপ্রস্ত
কাপড়
পরত,
সে
আজ
নগ্ন,
যে
ঘরে
বাস
করত,
সে
আজ
পথকে
সম্বল
করেছে,
যে
দুবেলা
ভাত
খেত,
সে
আজ
পেটে
পাথর
বেঁধেছে।
এই
নগ্ন
মানুষ,
সেই
গৃহহারা
আদম
সন্তান,
সেই
জঠরাগ্নির
শিকার
পূর্ব
বাংলার
সাত
কোটি
মানুষের
সীমাহীন
যন্ত্রণার
অবসান
ঘটানোর
জন্য
এ
দেশের
আলো,
হাওয়া,
মাটি
হতে
উদ্ভূত
হয়েছে
ছয়
দফা।’
সিলেট
স্টেডিয়ামে
অনুষ্ঠিত
৩
ফেব্রুয়ারির
জনসমাবেশে
দৃঢ়তার
সঙ্গে
বঙ্গবন্ধু
ঘোষণা
করেন,
‘দুর্ভাগা বাংলার
সোনার
সম্পদ
চিরদিন
যাতে
অবাধে
লুণ্ঠিত
না
হতে
পারে,
সুজলা-সুফলা
বাংলা
যাতে
চির-দুর্ভিক্ষের
দেশে
পরিণত
না
হয়,
বাঙালির
সন্তান-সন্ততি,
তাদের
ভবিষ্যৎ
বংশধরদের
রুটি-রুজির
শেষ
ভরসাটুকুও
যাতে
কায়েমি
স্বার্থবাদী
ও
বহিরাগত
শোষককুলের
লোভ,
লালসার
বেদিমূলে
বিসর্জিত
না
হয়,
তার
জন্য
আমার
সংগ্রাম-তারই
জন্য
প্রণীত
হয়েছে
ছয়
দফা
কর্মসূচি।
তাই
আওয়ামী
লীগকে
ক্ষমতাসীন
করার
জন্য
নয়,
বাংলার
গণমানুষের
অস্তিত্বের
তাগিদেই
তাদের
আগামী
নির্বাচনে
ছয়
দফা
স্বায়ত্তশাসনের
পক্ষে
দ্ব্যর্থহীন
রায়
ঘোষণা
করতে
হবে।’
আবার
শাসনতন্ত্র
প্রণয়ন
সম্পর্কে
৭
জুন
রমনার
জনসভায়
বলেন,
‘আমরা জনগণের
নির্বাচিত
প্রতিনিধিদের
রচিত
শাসনতন্ত্র
চাই।
কোনো
ব্যক্তিবিশেষের
এই
শাসনতন্ত্র
প্রদানের
ক্ষমতা
নেই।
জনগণের
নির্বাচিত
প্রতিনিধি
কর্তৃক
রচিত
শাসনতন্ত্রের
যদি
বিরোধিতা
করা
হয়,
তার
জন্য
শহীদ
হব।’
নির্বাচনী
জনসংযোগে
বঙ্গবন্ধু
জনগণকে
কীভাবে
সচেতন
করেছেন,
তার
উদাহরণ
পাওয়া
যায়
তার
নির্বাচনী
ভাষ্য
থেকে।
গাইবান্ধায়
জনসভাকালে
১৯
জুন
তিনি
বলেন,
‘অগণিত শহীদের
অতৃপ্ত
আত্মা
আজ
বাংলার
দুয়ারে
দুয়ারে
ফরিয়াদ
করে
ফিরছে,
বাঙালি
আমাদের
রক্তের
সঙ্গ
বেইমানি
করিও
না—আমরা
রক্ত
দিয়ে
যে
নির্বাচন
এনেছি
সেই
নির্বাচনে
তোমরা
বাংলার
স্বাধিকার
দাবির
পক্ষে
রায়
দিও।
আগামী
জাতীয়
পরিষদ
নির্বাচনে
বাংলার
জনগণ
যদি
শতকরা
৯০টি
আসনে
আওয়ামী
লীগ
প্রার্থীদের
জয়যুক্ত
করতে
পারে,
দুনিয়ার
কোনো
শক্তিই
ছয়
দফাভিত্তিক
স্বায়ত্তশাসন,
বন্যা
নিয়ন্ত্রণ,
২৫
বিঘা
পর্যন্ত
জমির
খাজনা
মওকুফ,
যমুনা
নদীর
উপর
সেতু
এবং
রূপপুর-জামালগঞ্জ
প্রকল্প
বাস্তবায়ন
ঠেকিয়ে
রাখতে
পারবে
না।’
আর
যে
মীরজাফরের
দল
মন্ত্রিত্বের
লোভে,
পারমিটের
লোভে
বারবার
শোষকদের
পদতলে
বাংলার
স্বার্থ
বিকিয়ে
দিয়েছে,
যদি
তারা
নির্বাচিত
হয়, এই
দুর্ভাগা
দেশের
ভাগ্যে
কী
আছে,
তা
তিনি
জানেন
না।
তিনি
জনগণকে
আহ্বান
জানিয়ে
বলেন,
‘আজ সময়
এসেছে-কে
বাংলার
বন্ধু,
আর
কে
শত্রু
তা
চিনে
নিতে
হবে।
২২
বছরে
বল্গাহীন
শোষণ
লুণ্ঠনে
স্বর্ণপ্রসবিনী
বাংলা
আজ
দুর্ভিক্ষের
দেশে
পরিণত
হয়েছে।
এই
শোষণ
ও
লুণ্ঠনের
বিরুদ্ধে
শোষকদের
দালালরা
টুঁ-শব্দটিও
করেনি,
বাংলার
মানুষের
দাবি
আদায়
করতে
গিয়ে
যখন
জেল
খেটেছি,
এই
দালালের
দল
তখন
সুখে,
নিরাপদ
সংসার-ধর্ম
পালন
করেছে
আর
নির্বাচনের
প্রাক্কালে
আবার
তারা
মাঠে
নেমেছে
বাঙালির
স্বার্থের
পৃষ্ঠে
ছুরিকাঘাত
করার
সংকল্প
নিয়ে।
যে
দালালদের
সহায়তায়
শোষকরা
এতদিন
আপনাদের
কলিজা
ছিঁড়ে
খেয়েছে,
এবার
নির্বাচনের
মাধ্যমে
তাদের
বিষদাঁত
ভেঙে
দিন।
দুনিয়ার
মানুষকে
দেখিয়ে
দিন,
নীরবে
নতমুখে
বৈষম্য-বঞ্চনা
সহ্য
করে
যাওয়ার
জন্যই
বাঙালির
জন্ম
হয়নি।
দেখিয়ে
দিন
বাংলার
মানুষ
এক
হলে
দুনিয়ার
কোনো
শক্তিই
তাদের
সামনে
দাঁড়াতে
পারে
না।’
বঙ্গবন্ধু
জনসভাগুলোয়
বাঙালির
বঞ্চনার
চিত্রও
তুলে
ধরেন।
তার
ফলে
সাধারণ
মানুষ
নিজেদের
অবস্থা
সম্পর্কে
আরো
সচেতন
হয়।
খুলনার
জনসভায়
৮
ফেব্রুয়ারি
তিনি
বাংলাদেশের
বন্যা
সমস্যার
বিষয়টি
উল্লেখ
করে
বলেন,
‘গত ২২
বছরের
মধ্যে
পূর্ব
পাকিস্তানের
বন্যা
নিয়ন্ত্রণের
জন্য
কোনো
কিছুই
করা
হয়নি।
অথচ
এ
সময়ের
মধ্যে
হাজার
হাজার
টাকা
ব্যয়
করে
বাঁধের
পর
বাঁধ
নির্মাণ
করে
পশ্চিম
পাকিস্তানের
মরুভূমির
ন্যায়
এলাকাগুলো
শস্য
শ্যামলা
করে
তোলা
হয়েছে।
পূর্ব
পাকিস্তানের
বন্যা
নিয়ন্ত্রণের
কথা
উঠলেই
তহবিলে
টাকা
নেই
বলে
এ
প্রদেশের
ছয়
কোটি
লোকের
জীবন-মরণের
সমস্যাকে
চাপা
দেয়া
হয়।
কিন্তু
পশ্চিম
পাকিস্তানে
বাঁধের
পর
বাঁধ
নির্মাণ,
লবণাক্ততা
দূরীকরণ
এবং
এছলামাবাদে
ফেডারেল
রাজধানী
নির্মাণের
জন্য
হাজার
হাজার
কোটি
টাকা
কোথা
হতে
আসে?’
লাহোরে
৬
জুলাই
সংবাদ
সম্মেলনে
বঙ্গবন্ধু
দুঃখ
প্রকাশ
করে
বলেন,
পূর্ব
পাকিস্তানে
বন্যা
নিয়ন্ত্রণের
জন্য
সরকার
পর্যাপ্ত
ব্যবস্থা
গ্রহণ
করেনি।
আগ্রহহীন
পদক্ষেপ
দ্বারা
সমস্যার
কোনো
সুরাহা
হতে
পারে
না।
প্রাদেশিক
সরকার
পরিকল্পনা
কমিশন
যে
অজুহাত
দিয়েছে,
তা
ধোঁকা
ছাড়া
আর
কিছুই
নয়।
সংখ্যালঘুদের
প্রতি
বঙ্গবন্ধুর
সহানুভূতিশীল
ভাবনা
ছিল।
তাই
তো
তিনি
১৯
জুলাই
বরিশালের
চাখারে
আয়োজিত
জনসভায়
সংখ্যালঘু
সম্প্রদায়কে
দেশত্যাগ
না
করে
মুসলমান
ভাইদের
ওপর
সম্পূর্ণ
আস্থা
রেখে
মিলেমিশে
বসবাস
করার
উপদেশ
দেন।
বলেন,
‘আপনাদেরও এখানে
সমান
অধিকার
রয়েছে।
এটা
আপনাদের
মাতৃভূমি।
যারা
কলকাতায়
গেছে,
তারা
স্ত্রী-পুত্র
পরিবার
নিয়ে
মাথা
গোঁজার
ঠাঁই
পাচ্ছে
না।
বাংলাদেশের
সোনার
সংসার
ছেড়ে
গিয়ে
তারা
শিয়ালদহের
রাস্তায়
ছেলেমেয়ে
নিয়ে
অর্ধাহারে-অনাহারে
পড়ে
থাকে।’
সংখ্যালঘু
সম্প্রদায়ের
সঙ্গে
ভ্রাতৃসুলভ
মনোভাব
নিয়ে
বসবাস
করার
জন্য
তিনি
সংখ্যাগুরু
জনসাধারণের
প্রতি
আকুল
আবেদন
জানান।
এরপর
সিলেটে
৫
নভেম্বর
সংখ্যালঘুদের
উদ্দেশে
বলেন,
যেকোনো
মূল্যে
সংখ্যালঘুদের
নিরাপত্তা
ও
সমান
অধিকার
নিশ্চিত
করা
হবে।
কারণ
তারাও
সংখ্যাগুরুদের
মতোই
এ
দেশের
নাগরিক।
সাধারণ
জনগণকে
সচেতন
করার
পাশাপাশি
তিনি
দলীয়
কর্মীদের
নানাভাবে
নির্দেশনা
প্রদান
করেন।
৭
এপ্রিল
ঢাকার
রাজারবাগ
ইউনিয়ন
আওয়ামী
লীগের
দ্বিবার্ষিক
কাউন্সিল
অধিবেশনে
তিনি
বলেন,
‘সামনে আপনাদের
অগ্নিপরীক্ষা।
সংগ্রাম
ও
ত্যাগের
দ্বারা
এই
পরীক্ষা
পার
হতে
পারলে
যে
যত
বড়
কথাই
বলুক,
পৃথিবীর
কোনো
শক্তি
আপনাদের
দাবিয়ে
রাখতে
পারবে
না-দাবি
আদায়
হবেই।’
সংগ্রাম,
ত্যাগ
ও
তিতিক্ষা
ছাড়া
কোনো
দাবি
আদায়
হয়
না
উল্লেখ
করে
তিনি
কর্মীদের
প্রতি
সংগ্রাম-সাধনার
প্রস্তুতি
গ্রহণের
আহ্বান
জানান।
আবেগজড়িত
কণ্ঠে
বলেন,
‘আমি শুধু
আওয়ামী
লীগের
সভাপতি
নই,
আমি
আপনাদের
মুজিব
ভাই-আমি
নেতা
নই
আমি
কর্মী,
নেতা
শহীদ
সোহরাওয়ার্দী
কবরে
শুইয়া
আমাদের
নেতৃত্ব
দিচ্ছেন।
বাংলার
অধিকার
আদায়ের
এই
চূড়ান্ত
যুদ্ধে
সকল
পরিণতি
বুক
পেতে
নেয়ার
জন্য
আমি
সামনে
থাকব।’
বঙ্গবন্ধুর
নির্বাচনী
ভাষণ
বাঙালিকে
অনুপ্রাণিত
করেছে।
তাই
তো
নির্বাচনী
জনসভায়
নেতা
ও
জনতার
সমীকরণটাও
ছিল
লক্ষণীয়।
বঙ্গবন্ধুর
প্রতিটা
জনসভায়
অসংখ্য
লোকের
সমাগম
হতো।
শেখ
মুজিবের
কথা
শোনার
জন্য
মানুষ
দূর-দূরান্ত
থেকে
জনসভায়
হাজির
হতো।
জনগণ
প্রখর
রোদ,
ঝড়-বৃষ্টি,
ভাঙা
রাস্তা,
যানবাহন
সংকট
সব
বাধাকেই
অতিক্রম
করে
নেতার
ডাকে
একত্র
হয়েছে।
জনসভাগুলোর
অন্যতম
স্লোগান
ছিল,
‘তোমার দেশ
আমার
দেশ,
বাংলাদেশ,
বাংলাদেশ’,
‘ছয় দফা,
এগারো
দফা
মানতে
হবে
মানতে
হবে’,
‘তোমার নেতা
আমার
নেতা
শেখ
মুজিব
শেখ
মুজিব’
ইত্যাদি।
সমকালীন
দৈনিক
পত্রিকায়
জনসভার
ছবিগুলো
তার
প্রমাণ
বহন
করে।
১৯৭০
সালের
১১
জানুয়ারি
বঙ্গবন্ধুর
জনসভা
সম্পর্কে
দৈনিক পাকিস্তানে শিরোনাম
করা
হয়—‘জনতার
সমুদ্র’।
শুধু
তাই
নয়,
মুজিবের
জনসভার
বক্তব্য
জানার
জন্য
রেল
বা
বাসস্ট্যান্ডের
কিংবা
বাজারের
চায়ের
দোকানগুলোয়
উত্সুক
মানুষ
পত্রিকা
আসার
অপেক্ষা
করত।
তারা
আগ্রহভরে
জানতে
চাইত
মুজিবের
নির্দেশ
কী।
বাংলাদেশের
আর
কোনো
নেতা
তৃণমূল
পর্যন্ত
এমন
আবেদন
সৃষ্টি
করতে
পারেননি।
বঙ্গবন্ধু
অত্যন্ত
বিচক্ষণতার
সঙ্গে
১৯৭০
সালের
নির্বাচনে
মাঠ
পর্যায়ে
গিয়ে
জনগণকে
সচেতন
করেছেন,
স্বায়ত্তশাসন
কেন
প্রয়োজন
তা
ব্যাখ্যা
করেছেন।
এর
মাধ্যমে
বাঙালি
নিজের
স্বাধীন
সত্তা
সম্পর্কে
সচেতন
হয়।
ছয়
দফার
মাধ্যমে
তিনি
বুঝিয়েছেন
বাঙালিরা
আলাদা।
সমসাময়িক
সময়ে
অনেকেই
পাকিস্তানি
শোষণের
বিরুদ্ধে
আন্দোলন
করলেও
বাংলার
মানুষকে
স্বাধীনতা
যুদ্ধের
জন্য
মানসিকভাবে
প্রস্তুত
করেননি।
বঙ্গবন্ধু
জটিল
এ
কাজটি
অত্যন্ত
সুকৌশলে
সম্পাদন
করেছিলেন
নির্বাচনকে
কেন্দ্র
করে।
ফলে
নির্বাচনে
আওয়ামী
লীগ
জাতীয়
পরিষদে
পূর্ব
পাকিস্তানের
জন্য
বরাদ্দ
১৬২টি
আসনের
মধ্যে
১৬০টি
আসন
লাভ
করে।
কিন্তু
নির্বাচনী
ফল
মেনে
পাকিস্তান
সরকার
ক্ষমতা
হস্তান্তর
করেনি।
ফলে
জনগণ
রাস্তায়
নেমে
আসে।
কারণ
বঙ্গবন্ধু
নির্বাচনী
প্রচারের
সময়
বারবার
বলেছেন,
নির্বাচনের
মাধ্যমে
অধিকার
আদায়
করতে
না
দিলে
তা
সংগ্রামের
পথে
আদায়
করা
হবে।
এ
পরিপ্রেক্ষিতে
১৯৭১
সালের
৭
মার্চ
বঙ্গবন্ধু
ঐতিহাসিক
ভাষণ
দেন,
যা
ছিল
মূলত
তার
দীর্ঘ
রাজনৈতিক
জীবনের
অভিজ্ঞতার
বহিঃপ্রকাশ।
আর
নির্বাচনী
জনসংযোগের
মাধ্যমে
বাঙালিকে
বঙ্গবন্ধু
যেভাবে
সচেতন
করেছেন,
তারই
বহিঃপ্রকাশ
ছিল
ওইদিনের
রেসকোর্স
ময়দানে।
তিনিই
বাঙালিকে
প্রস্তুত
করেছিলেন
দাবি
আদায়
না
হওয়া
পর্যন্ত
সংগ্রামে
টিকে
থাকতে।
তাই
তো
বাঙালি
২৫
মার্চের
পর
বঙ্গবন্ধুর
নির্দেশ
অনুসারে
ঝাঁপিয়ে
পড়েছিল
স্বাধীনতা
সংগ্রামে
এবং
অর্জন
করেছে
কাঙ্ক্ষিত
স্বাধীনতা।
মুর্শিদা বিনেত রহমান: সহযোগী অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়





