মো. আবু আসলাম, নিলয় মটরস লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা। বণিক বার্তার সঙ্গে একান্ত আলাপে জানালেন দেশে মোটরসাইকেলের সম্প্রসারিত বাজার পরিস্থিতি, এ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা
মোটরসাইকেল বিক্রির ওপর কর
নিয়ে আপনাদের দাবিগুলো কী?
কর অনেক
রকম
আছে।
একটা
হলো
বিক্রি-কর।
যখন
আমরা
মোটরসাইকেল
বিক্রি
করি
শোরুম
থেকে,
তখন
একটা
পারসেন্ট
কেটে
রাখতে
হয়।
এটাই
বিক্রি
কর।
মোটরসাইকেল
রেজিস্ট্রেশনের
সময়
এ
ডকুমেন্টটা
লাগে।
বাংলাদেশে
এখন
বিক্রি-কর
১৫
শতাংশ।
এজন্য
ব্যয়ও
বেড়ে
যায়।
এ
ব্যয়টা
ক্রেতাদের
বহন
করতে
হয়।
এ
১৫
শতাংশ
অনেক
দিন
ধরেই
আছে।
সরবরাহ
ব্যবস্থায়
সব
জিনিসেরই
ব্যয়
বেড়ে
যাচ্ছে।
তাই
উৎপাদন
খরচও
বেড়ে
যাচ্ছে।
এ
করটাকে
কিছুটা
কমানো
দরকার।
অনেক
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের
জন্য
এ
বিক্রি-করটা
৫,
৬
বা
৯
শতাংশ।
সে
হিসেবে
মোটরসাইকেলের
ক্ষেত্রে
১৫
শতাংশ
অনেক
বেশি।
২
লাখ
টাকার
মোটরসাইকেলে
৩০
হাজার
টাকা
বেড়ে
যাচ্ছে।
এ বিক্রি-কর কিছুটা কমিয়ে আনলে
ক্রেতারা কী
সুবিধা পাবেন?
ক্রেতারা সরাসরি
সুবিধা
পাবেন।
২০১৭-১৮
সালে
সরকার
এ
শিল্পকে
সহযোগিতা
করেছে।
ফলে
মোটরসাইকেল
খাত
গত
পাঁচ
বছরে
দ্বিগুণ
হয়েছে।
গত
দুই
বছরে
করোনার
প্রভাব
না
থাকলে,
এ
শিল্প
আরো
এগিয়ে
থাকত।
এটা
সরকারি
সহযোগিতার
কারণেই
হয়েছে।
যে
মোটরসাইকেলটা
আগে
আমরা
দেড়
লাখ
টাকায়
বিক্রি
করতাম,
সেটা
১
লাখ
২০
হাজার
টাকায়
বিক্রি
করেছি।
এটা
২০১৭-১৮
সালের
কথা।
পরবর্তী
সময়ে
দাম
বেড়ে
গেছে।
যখন
সরকার
একটা
সুযোগ
দিয়েছিল,
সব
উৎপাদকই
দাম
কমিয়েছে।
মধ্যবিত্তের বাহন
হিসেবে মোটরসাইকেল নাগালের মধ্যে
নিয়ে আসতে
কী কী
পদক্ষেপ গ্রহণ
করা প্রয়োজন?
এটা কয়েকটা
আঙ্গিক
থেকে
দেখতে
হবে।
সরকারের
এ
বিষয়ে
মনোযোগ
আছে।
রেজিস্ট্রেশনের
জন্য
১০
শতাংশের
ওপরে
ব্যয়
হয়।
সরকার
এটা
কিস্তিতে
ভাগ
করে
দিয়েছে।
এ
রেজিস্ট্রেশন
ব্যয়টা
যদি
কমানো
যায়,
তাহলে
এ
নিয়মটা
প্রবর্তন
করা
যায়
যে
আগে
রেজিস্ট্রেশন
হবে,
এরপর
সেটা
রাস্তায়
নামবে।
এটা
করলে
অনেক
ধরনের
সমস্যা
এড়ানো
সম্ভব
হবে।
অনেক
সময়
মোটরসাইকেলে
অবৈধ
পণ্য
পাচারের
খবর
দেখা
যায়।
মোটরসাইকেল
নিবন্ধিত
হলে
এ
সমস্যাগুলো
কমে
যাবে।
আরেকটা
বিষয়,
বিক্রি
কর
কমিয়ে
এটা
ক্রেতাদের
নাগালে
আনা
সম্ভব।
বিগত বছরে
মোটরসাইকেল বিক্রি কতটা বেড়েছে?
আমাদের দেশে
তথ্য
বিনিময়ের
সর্বজনীন
কোনো
প্লাটফর্ম
নেই।
তবে
মোটামুটি
গত
বছরে
১০-১২
শতাংশের
একটা
প্রবৃদ্ধি
হয়েছে।
মোটরসাইকেল বিক্রির পেছনে কারণগুলো কী কী?
মোটরসাইকেলের একটা
চাহিদা
আছে।
কোনো
একটা
পণ্যের
যখন
একটা
চাহিদা
থাকে,
সেটা
আপনি
আজ
হোক,
কাল
হোক
কিনবেন।
যাতায়াতের
জন্য
আমাদের
দেশে
গণপরিবহন
খুব
একটা
উন্নত
না।
আমাদের
দেশের
জনসংখ্যার
যে
ঘনত্ব,
সে
তুলনায়
গণপরিবহন
খুব
সীমিত।
মানুষ
কাজের
জন্য
দূরে
যাচ্ছে।
তাই
মোটরসাইকেলের
চাহিদা
তৈরি
হয়েছে।
এছাড়া
সরকারি
নীতির
কারণে
দাম
কিছুটা
কমেছে।
প্রায়
২০
শতাংশ
পণ্যের
দাম
কমেছে।
ভারতীয় ও
জাপানিজ ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তার কারণগুলো কী কী?
বাংলাদেশে অনেক
আগে
থেকেই
জাপানিজ
পণ্য
আসছে।
এটা
ক্রেতারা
পছন্দ
করেন।
কারণ
এগুলো
মানের
দিক
থেকে
ভরসাযোগ্য।
ভারতীয়
অটোমোবাইল
শিল্প
কীভাবে
উন্নত
করেছে?
ওরা
সবসময়
বিশ্বের
শীর্ষ
শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর
সঙ্গে
সমন্বয়
করেছে
শুরুতে।
পরবর্তী
সময়ে
তাদের
যখন
অভিজ্ঞতা
বেড়েছে,
তখন
তারা
স্বতন্ত্রভাবে
কাজ
করেছে।
হিরোর
কথা
যদি
ভাবেন।
হিরো
বাংলাদেশে
অনেক
দিন
ধরেই
জনপ্রিয়।
ক্রেতারা
জানে
এ
পণ্যগুলো
ভালো
ও
স্থায়ী।
এটা
ভারত
না
জাপান
সেটা
পরের
কথা।
ক্রেতারা
আগে
থেকেই
চেনে
এ
পণ্যগুলো।
যে
কারণে
শুধু
বাংলাদেশ
না,
ধীরে
ধীরে
বৈশ্বিকভাবে
আধিপত্য
জাপান
থেকে
পরিবর্তন
হয়ে
ভারতে
চলে
আসছে।
জাহাজ ভাড়া
ও ডলারের বিনিময় মূল্য
বৃদ্ধি এ
খাতে কেমন
প্রভাব ফেলবে
বলে আপনি
মনে করেন?
জাহাজ ভাড়া
এরই
মধ্যে
প্রভাব
ফেলেছে।
আপনি
যদি
খেয়াল
করেন,
গত
দু-তিন
মাসে
সব
প্রতিষ্ঠানের
পণ্যের
দামই
কম
হোক
বেশি
হোক
কিছুটা
বেড়েছে।
জাহাজ
ভাড়া
শুধু
না,
অনেক
জায়গায়
সরবরাহ
প্রতিবন্ধকতা
ছিল।
বিভিন্ন
দেশে
লকডাউন
ছিল।
বিশ্বায়নের
যুগে
পণ্যের
সরঞ্জাম
ও
কাঁচামালগুলো
পৃথিবীর
বিভিন্ন
জায়গা
থেকে
আসে।
এরপর
সরঞ্জামের
জন্য
দাম
বাড়ে,
যন্ত্রাংশের
জন্য
বাড়ে।
কয়েক
ধাপে
জাহাজ
ভাড়া
বাড়ার
কারণে
প্রতিষ্ঠানের
উৎপাদন
ব্যয়
বেড়েছে।
পুরো
ব্যয়টা
ক্রেতাদের
ওপর
চাপিয়ে
দেয়া
হয়নি।
ব্যয়
যদি
৫
শতাংশ
বাড়ে,
ক্রেতাদের
ওপর
বাড়ানো
হয়েছে
৩
শতাংশ।
সমস্যাটা
হলো
এরপর
আবার
ডলারের
দাম
বেড়েছে।
যদি
ডলারের
মূল্যবৃদ্ধি
দীর্ঘ
সময়
পর্যন্ত
থাকে,
তাহলে
এক-দুই
মাস
পর
আবার
দাম
বাড়াতে
হবে
আমাদের।
আমাদের দেশে
মোটরসাইকেলের ব্যবহার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কম।
এটা বাড়াতে কী কী
পদক্ষেপ নেয়া
যায়?
ভারত, পাকিস্তান
ও
নেপালের
তুলনায়
ব্যবহারকারী
অনেক
কম।
এর
একটা
বড়
কারণ
খুচরা
অর্থায়ন।
যে
প্রতিবেশী
রাষ্ট্রগুলোর
কথা
আমরা
বলছি,
সে
দেশগুলোয়
খুচরা
অর্থায়ন
আছে।
খুব
সহজেই
ক্রেতারা
মোটরসাইকেল
কিনতে
পারেন।
আর
একটা
সুবিধা
তাদের
আছে।
সেটা
হলো
রেজিস্ট্রেশন
ব্যয়
তাদের
কম।
তবে
রেজিস্ট্রেশন
ব্যয়ের
থেকে
খুচরা
অর্থায়নের
প্রভাব
অনেক
বেশি।
এটাকে
যদি
উল্লেখযোগ্যভাবে
বাড়ানো
যায়,
স্বাভাবিকভাবেই
শিল্প
খাতটি
বাড়তে
থাকবে।
অন্য
কারণগুলো
আগেই
বলেছি,
দাম
ও
কর
যদি
কমানো
যায়,
তাহলেও
ব্যবহারকারীর
সংখ্যা
বাড়বে।
মোটরসাইকেল সহজলভ্য করতে রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমানোর যৌক্তিকতা কতটুকু?
যেদিক থেকেই দেখেন, সব দিক থেকেই এটি যৌক্তিক। সব থেকে কম যৌক্তিক হতে পারে সরকারের দিক থেকে দেখলে। ক্রেতারা তো অবশ্যই সুবিধা চাইবে। কিছু পদক্ষেপ সরকার এরই মধ্যে নিয়েছে। আরো কমানোর একটা যৌক্তিকতা হলো আমাদের দেশে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মোটরসাইকেল নিবন্ধন হচ্ছে না। ধাপে ধাপে নিবন্ধন করলে সরকার সঙ্গে সঙ্গে আয়টা পাচ্ছে না। এর থেকে নিবন্ধন ব্যয়টা কমাতে পারলে বরং ভালো হয়। প্রতিবেশী দেশগুলোয় এ ব্যয় অনেক কম। একদিনে যদি সম্ভব নাও হয়, দু-তিন বছরের যদি একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করি যে শতভাগ মোটরসাইকেল আমরা নিবন্ধন করাব, তাহলে সরকার শতভাগ রেজিস্ট্রেশনের সুবিধাটা পাবে।






