দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মানোয়ার হোসেন। পাশাপাশি তিনি ইস্পাত শিল্পের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) প্রেসিডেন্ট। দেশের ইস্পাত খাতের বিদ্যমান অবস্থা, আগামীর চ্যালেঞ্জ ও আসন্ন বাজেটে কী ধরনের নীতি সহায়তা প্রয়োজন—এসব বিষয় নিয়ে সম্প্রতি তিনি বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেহেদী হাসান রাহাত
দেশের ইস্পাত খাতের বর্তমান অবস্থা কী?
আমার মতে,
বাংলাদেশের
যতগুলো
শিল্প
কভিড-১৯
মহামারীতে
বিপর্যয়ের
মুখোমুখি
হয়েছে,
সেগুলোর
মধ্যে
ইস্পাত
শিল্প
অন্যতম।
মহামারীতে
যদি
বিশ্ব
অর্থনীতিতে
ঝড়
বয়ে
গিয়ে
থাকে,
তবে
দেশের
ইস্পাত
শিল্পের
ওপর
সুনামি
বয়ে
গেছে।
একসময়
কাঁচামালের
দাম
ছিল
টনপ্রতি
৩২০-৩৩০
ডলার।
এরপর
উচ্চ
পরিবহন
ব্যয়সহ
সব
মিলিয়ে
টনপ্রতি
এ
দাম
৭৩০
ডলারে
উন্নীত
হয়েছে।
এ
দামে
কাঁচামাল
কেনার
অর্থ
হলো,
টনপ্রতি
আমাদের
উৎপাদন
ব্যয় প্রায়
১
লাখ
১০
হাজার
থেকে
১
লাখ
১৩
হাজার
টাকায়
উন্নীত
হয়।
তাছাড়া
মানুষের
ক্রয়ক্ষমতারও
একটা
সীমা
রয়েছে।
একটি
পর্যায়ের
উপরে
গেলে
মানুষ
আর
ইস্পাত
কিনবে
না।
আমার
মনে
হয়,
সেই
সীমাটা
৮০,
৮২
কিংবা
৮৩
হাজার
টাকা
পর্যন্ত।
সুতরাং
দাম
বেড়ে
যাওয়ার
সঙ্গে
সঙ্গে
আমরা
প্রবৃদ্ধির
জায়গায়
নেতিবাচক
পরিস্থিতিতে
পড়ে
গেলাম।
গত
এপ্রিল
থেকেই
আমরা
কঠিন
পরিস্থিতি
পার
করছি।
এসব
দিক
বিবেচনায়
ইস্পাত
খাতের
কোম্পানিগুলো
সংঘাতিকভাবে
ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে।
এ
অবস্থায়
সরকার
একটি
পদক্ষেপ
নিতে
পারে।
সাধারণভাবে
গণপূর্ত
অধিদপ্তর
একটি
দাম
বেঁধে
দেয়,
যা
অন্যান্য
সরকারি
প্রতিষ্ঠান
মেনে
চলে।
সেই
জায়গায়
দামটা
এখনো
৭০
হাজার
টাকার
কাছাকাছি
রয়ে
গেছে।
এটাকে
যদি
বাড়িয়ে
৯৫
হাজার
থেকে
১
লাখ
টাকায়
বেঁধে
দেয়া
হয়
তাহলে
আমরা
আবারো
বাজারে
গতি
ফিরে
পাব।
সরকারের
অগ্রাধিকার
তালিকায়
থাকা
কিছু
প্রকল্প
যেমন
বিমানবন্দর
প্রকল্প
এখনো
ইস্পাত
কেনা
অব্যাহত
রেখেছে।
তবে
দেশের
ছোট
ছোট
বিভিন্ন
প্রকল্প
ও
ঠিকাদার
মোটামুটিভাবে
ইস্পাত
কেনা
বন্ধ
করে
দিয়েছে।
পাশাপাশি এ
শিল্পে
বড়
সমস্যা
হচ্ছে,
আমরা
পণ্য
তৈরি
করে
তা
মজুদ
রাখতে
পারি
না।
রড
তৈরি
করে
রাখলে
সেগুলো
লাল
হয়ে
যায়।
এজন্য
পণ্য
পুনরায়
উৎপাদনেরও
প্রয়োজন
পড়ছে।
ফলে
আমাদের
লোকসানের
পরিমাণও
বেড়ে
যাচ্ছে।
আমাদের
সিমেন্ট,
ইস্পাতের
মতো
ভারী
শিল্পে
মুনাফার
মার্জিন
২-৩
শতাংশের
বেশি
কখনই
হয়
না।
বছরে
আমি
যদি
১০
দিন
কারখানা
বন্ধ
রাখি
তাহলে
কিন্তু
ওই
৩
শতাংশ
মার্জিনও
থাকে
না।
এ
কারণে
আমাদের
পুরো
শিল্প
৪৫
শতাংশ
সক্ষমতা
নিয়ে
চলছে।
স্ক্র্যাপের দাম
এখন কোন
পর্যায়ে রয়েছে?
ইস্পাত খাতের
উদ্যোক্তাদের
কাছে
সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ
কাঁচামাল
মেল্টিং
স্ক্র্যাপ
(পুরনো লোহার
টুকরো)।
স্ক্র্যাপের
দাম
এখন
কিছুটা
স্থিতিশীল
হয়ে
আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রে
গ্রীষ্মকালীন
মৌসুম
শুরু
হওয়ায়
স্ক্র্যাপের
সরবরাহ
বেড়ে
গেছে।
তবে
শীতকালে
সাধারণত
সেখানে
স্ক্র্যাপ
উৎপাদন
হয়
না।
আবার
অনেক
স্ক্র্যাপ
কারখানা
বন্ধ
হয়ে
গিয়েছিল।
যদিও
জো
বাইডেন
সরকার
আসার
পরে
এ
খাতে
বেশ
প্রণোদনা
দিয়েছে।
কিছু
কারখানা
আবার
চালু
হয়েছে।
এ
কারণে
সম্ভবত
স্ক্র্যাপের
দামে
কিছুটা
স্থিতিশীলতা
এসেছে।
আমাদের
গ্রীষ্মের
পরে
উৎপাদন
বন্ধ
হয়ে
যাওয়ায়
স্ক্র্যাপের
দামটা
বেড়ে
যায়।
এজন্য
দেখতে
হবে
এ
স্থিতিশীলতা
কতদিন
স্থায়ী
হয়।
স্থানীয়ভাবে স্ক্র্যাপ উৎপাদন কি
বাড়ানো যায়?
যুক্তরাষ্ট্রে অনেক
বেশি
ভবন
ও
স্থাপনা
ভাঙা
হয়।
ফলে
স্ক্র্যাপের
উৎপাদনও
বেশি।
তবে
আমাদের
এখানে
এ
সুযোগ
কম।
কারণ
আমাদের
দেশে
সম্ভবত
৩০
শতাংশের
মতো
জনগোষ্ঠী
কংক্রিটের
স্থাপনায়
বাস
করছে।
তার
পরও
এগুলো
সব
নতুন
স্থাপনা।
আগামী
৫০
বছরের
মধ্যে
স্থাপনাগুলো
ভাঙার
সম্ভাবনা
নেই
বললেই
চলে।
গত
কয়েক
বছরে
আমাদের
ভবন
ও
ব্রিজের
মতো
স্থাপনার
সংখ্যা
বেড়েছে।
এগুলোর
স্থায়িত্ব
কেবল
শুরু
হলো।
এজন্য
আমাদের
দেশে
স্ক্র্যাপ
উৎপাদনের
পরিমাণ
খুব
বেশি
বাড়ার
সম্ভাবনা
নেই।
তবে
আমাদের
মধ্যে
সচেতনতা
অনেক
বেড়েছে।
আমরা
যেমনটা
ভাবতাম,
আচ্ছা
লোহাটা
পড়ে
থাকুক।
এভাবে
পড়ে
থেকে
১০-২০
শতাংশ
লোহা
মাটি
হয়ে
যায়।
এসব
ক্ষেত্রে
সচেতনতা
বাড়ায়
আমাদের
স্ক্র্যাপের
সরবরাহ
প্রতি
বছর
১০-২০
শতাংশ
বাড়ছে।
আবার
দেশজুড়ে
চলা
নির্মাণাধীন
প্রকল্পেও
অনেক
লৌহ
বর্জ্য
হচ্ছে।
সব
মিলিয়ে
স্ক্র্যাপের
সরবরাহ
কিছুটা
বাড়ছে।
তবে
সেটা
দেশের
চাহিদা
পূরণের
মতো
না।
তাছাড়া
আমাদের
জাহাজ
ভাঙা
শিল্পও
অনেকটা
বিলীনের
পথে।
সুতরাং
এ
খাত
থেকেও
স্ক্র্যাপ
আসা
কমে
যাচ্ছে।
স্ক্র্যাপের ক্ষেত্রে আমরা কোন
দেশের ওপর
নির্ভরশীল?
স্ক্র্যাপ সবচেয়ে
বেশি
আসত
আগে
যুক্তরাষ্ট্র
থেকে।
পণ্যবাহী
কনটেইনার
জটিলতায়
স্ক্র্যাপের
জন্য
আমরা
নতুন
নতুন
দেশে
যাচ্ছি।
যেমন
আমি
এখন
স্ক্র্যাপ
আমদানি
করছি
ত্রিনিদাদ
থেকে।
ক্যারিবীয়
এ
রাষ্ট্র
থেকে
এর
আগে
কখনো
আমদানি
করিনি।
এছাড়া
দক্ষিণ
আফ্রিকা
থেকেও
আমরা
আমদানি
করছি।
এক্ষেত্রে
একটা
সুবিধা
হয়েছে
যে
আগে
মধ্যপ্রাচ্যের
সব
কাঁচামাল
চলে
যেত
পাকিস্তানে।
সাম্প্রতিক
সময়ে
দেশটির
অর্থনীতি
ধীর
হয়ে
যাওয়ার
কারণে
আমাদের
বড়
সুযোগ
তৈরি
হয়েছে।
এখন
পাকিস্তানে
সম্ভবত
৫০-৫৫
শতাংশের
বেশি
স্ক্র্যাপ
যাচ্ছে
না।
পাশাপাশি
ভারত
আকরিক
লোহার
ওপর
রফতানি
শুল্ক
আরোপ
করেছে।
এ
কারণে
দেশটির
অভ্যন্তরীণ
বাজারে
স্ক্র্যাপ
উৎপাদন
বেড়ে
গেছে।
আন্তর্জাতিক
বাজার
থেকে
তারা
একটু
কম
স্ক্র্যাপ
কিনছে।
সব
মিলিয়ে
বাংলাদেশে
স্ক্র্যাপ
সরবরাহ
আগের
চেয়ে
কিছুটা
বেড়েছে।
এ
জায়গা
থেকে
আমরা
একটু
আশার
আলো
দেখতে
পাচ্ছি।
কভিড ও
বর্তমানে কাঁচামালের সংকটে ইস্পাত ও সিমেন্ট শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ
অবস্থায় আগামী
বাজেটে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
এনবিআরসহ সরকারি
পর্যায়ে
এখন
পর্যন্ত
আমাদের
যতগুলো
সভা
হয়েছে,
সেখানে
বিষয়গুলো
নিয়ে
তারা
সব
ধরনের
সহযোগিতার
কথা
জানিয়েছে।
তারা
বাস্তবতা
দেখতে
পাচ্ছে।
আগামীতে
আরো
সংকট
আসার
ব্যাপারেও
সচেতন
রয়েছে।
এখনো
মহামারীর
প্রভাব
চলছে।
আমরা
এখনো
ইউক্রেন
যুদ্ধের
প্রভাব
অনুভব
করা
শুরু
করিনি।
আরো
পাঁচ-ছয়
মাস
পরে
আমরা
যুদ্ধের
প্রভাব
দেখা
শুরু
করব।
কোনো
একটা
ধাক্কা
লাগলে
সেটা
সব
পর্যায়ে
পৌঁছতে
কিছুটা
সময়
লাগে।
এ
বিষয়গুলো
বিবেচনায়
নিয়ে
আমাদের
মনে
হচ্ছে
সরকার
এ
খাতের
প্রতি
একটু
সহানুভূতিশীল
থাকবে।
বাজেটে আপনাদের নির্দিষ্ট কোনো
দাবি আছে?
আমরা বলেছিলাম
আগাম
যে
আয়কর
আরোপ
করা
হচ্ছে
তা
পুরোপুরি
তুলে
দিতে।
এখন
যে
কর
আরোপ
করা
হচ্ছে
তা
তুলে
দেয়ার
দাবি
জানিয়েছি
আমরা।
আমাদের
আরো
একটা
দাবি
ছিল
অগ্রিম
আয়কর
(এআইটি) যেটা
নেয়া
হচ্ছে
তা
তুলে
দেয়ার।
যদিও
সরকারেরও
রাজস্বের
প্রয়োজন
রয়েছে।
সেদিকটাও
বিবেচনা
করতে
হবে।
যাই
হোক,
সরকার
আমাদের
দাবিগুলো
খুব
ধৈর্যসহকারে
শুনেছে।
এগুলো
তুলে
দেয়ার
প্রয়োজনীয়তার
বিষয়টিও
বুঝেছে।
কারণ
ইস্পাত
শিল্পের
ওপর
আরো
৩
হাজার
৬০০
পণ্য
বা
সেবা
নির্ভরশীল।
আমরা
আশা
করছি,
সরকার
অবশ্যই
পদক্ষেপ
নেবে।
একদিকে
আমাদের
কঠিন
সময়
যাচ্ছে।
তার
ওপর
ডলারের
দাম
এ
খাতে
নতুন
চ্যালেঞ্জ
তৈরি
করেছে।
দেশের সিমেন্ট ও ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরেই
এআইটির বিষয়ে
আপত্তি জানিয়ে আসছে।
আসলে সরকার যদি নেতিবাচক উদাহরণ তৈরি করে, তবে উদ্যোক্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। এজন্য আমরা বারবার অনুরোধ জানিয়ে আসছি এআইটি তুলে দিতে। একটা জিনিস খুব ভালো যে আমাদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবল আগ্রহ রয়েছে। শত কষ্টের মধ্যেও আমরা আরো একটি কারখানা করতে চাই। এটা আমাদের জাতির রক্তে রয়েছে। আমি এমন কিছু মানুষকে জানি, যারা বড় টেক্সটাইল কারখানা করেছে। তারা একসময় নিজে সুপারভাইজার ছিল। আমাদের উদ্যোক্তা হওয়ার এ আগ্রহই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে আমাদের পরের প্রজন্ম এমনটা হবে না। আপনি যদি আগাম আয়কর নেন এবং সেটিকে যদি রিফান্ড না করেন, তবে সেটা সত্যিই একটি বাজে দৃষ্টান্ত। ইস্পাত ও সিমেন্ট শিল্পে ৩ শতাংশ মুনাফাই হয় না। সেখানে আপনিই যদি ৩ শতাংশ কর বাবদ নিয়ে নেন তাহলে আমাদের কী হবে! একবার বিক্রির সময় কাটছে, আবার একবার আমদানির সময় কাটছে, তাহলে ৫ শতাংশ করই চলে যাচ্ছে। আমাকে যদি ৫ শতাংশ আয়কর দিতে হয়, তবে মুনাফা করতে হবে ৩০ শতাংশ। সুতরাং সরকারই আমাকে চাপ দিচ্ছে ৩০ শতাংশ লাভ করতে। যদিও ৩০ শতাংশ লাভে বাংলাদেশে কোনো ব্যবসা নেই।






