বাংলাদেশের কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসার পুঁজি ৫০ হাজার টাকা হলে সেটা অতিক্ষুদ্র অর্থাৎ মাইক্রো লেভেলের এসএমই আর পুঁজির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা হলে মধ্যম এসএমই। সুতরাং স্পষ্ট, দেশের ৮০-৯০ শতাংশের বেশি শিল্প ব্যবসা এর অন্তর্ভুক্ত। দেশের বড় বড় বিজনেস কনগ্লোমারেটও এখন এসএমই। করোনার পরে এসএমই খাতে দেয়া সরকারের আর্থিক প্রণোদনার মাত্র ২২ শতাংশ ব্যাংক আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বণ্টন করেছে। তার সিংহভাগ নিয়েছে এসব বিজনেস কনগ্লোমারেট। এসএমই ঋণের সুদহার বাড়ানো হলো। সারা বিশ্বে যেখানে ক্ষুদ্র খাতে সর্বনিম্ন হারে ঋণ নেয়া হয়, সেখানে আমাদের দেশে তা হচ্ছে অনেক বেশি। শুধু ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ক্রেডিট কার্ডে ২০ শতাংশ হারে সুদ ধার্য করা হয়। এসএমই ঋণের ঝুঁকি কোথায়? বরং এ খাতে ব্যাংকের আদায়ের হার ৯৮ দশমিক ৪ শতাংশ। পক্ষান্তরে বৃহৎ ঋণের ক্ষেত্রে তা গড়ে ৮০ শতাংশ। করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর এমনিতেই প্রকৃত এসএমইগুলো ধুঁকছে। তবে আমাদের দুর্ভাগ্য, সবাই এসএমই উন্নয়নের কথা বলে, কিন্তু এসএমই পণ্য বিক্রিতে যা প্রয়োজন, সে কথা বলে না। আমাদের দেশে ২০১২ সালের একটি প্রতিযোগিতা আইন আছে, আছে প্রতিযোগিতা কমিশনও। এসব একটু সক্রিয় করা গেলে হয়তো এসএমই সমস্যার অনেকটা সমাধান আসত।