কোন কোন দেশে ওয়ালটন পণ্য রফতানি করছে?

ওয়ালটন বর্তমানে ৪৮টি দেশে ইলেকট্রনিকস পণ্য রফতানি করছে। এর মধ্যে আছে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ। ইউরোপের জার্মানি, অস্ট্রিয়া, স্লোভাকিয়া, রোমানিয়াসহ অনেক দেশে ওয়ালটনের পণ্য রফতানি হচ্ছে। পাশাপাশি মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ায়ও আমাদের ইলেকট্রনিকস পণ্য রফতানি হচ্ছে। নাইজেরিয়া, কেনিয়া, তিউনিসিয়া, মরক্কোসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও ওয়ালটনের পণ্য রফতানি হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৪৮টি দেশে আমরা পণ্য রফতানি করছি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমরা ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি করেছি। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বর্তমানে গ্লোবাল ব্যবসায়িক পরিস্থিতি বেশ নাজুক। এর মধ্যেও চলতি অর্থবছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা ১৫-২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছি। আশা করি, এ লক্ষ্যমাত্রা আমরা অর্জন করতে পারব।

আপনাদের ইলেকট্রনিকস পণ্য রফতানির শুরুর দিকের গল্পটা বলুন।

আমরা ২০১০ সাল থেকে রফতানি শুরু করি। যাত্রাটা খুব সহজ ছিল না। আমরা ইলেকট্রনিকস পণ্য নিয়ে বাংলাদেশের বাজারে যেভাবে এগোচ্ছিলাম সে তুলনায় বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ করাটা বেশ কঠিন ছিল। দেশের বাইরের প্রডাক্টগুলোর স্পেসিফিকেশন এবং প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না। তবে রফতানিতে আমাদের ১৩ বছরের জার্নিতে আমরা এখন অনেক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছি। এখন আমরা জানি বিশ্বের কোন দেশে কোন ধরনের সার্টিফিকেট প্রয়োজন এবং কোন প্রডাক্ট কোন দেশের বাজারের উপযোগী। সে অনুযায়ী আমাদের প্রডাক্ট তৈরি করা আছে এবং সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করা আছে। সব মিলিয়ে আমরা গ্লোবাল মার্কেটে বেশ ভালো অবস্থানে আছি।

আপনারা বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদন করছেন। বিশ্ববাজারে আপনাদের কোন পণ্যগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি?

বিশ্ববাজারে আমাদের সব প্রডাক্টেরই চাহিদা আছে। এর মধ্যে রেফ্রিজারেটরের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সারা বিশ্বে রেফ্রিজারেটরের তেমন বেশি ম্যানুফ্যাকচারার নেই। রফতানিকারকও তেমন নেই। এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও খুব বেশি রেফ্রিজারেটর রফতানি হয় না। আমাদের বাংলাদেশে অনেক বড় রেফ্রিজারেটর কারখানা আছে। এর বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ লাখ পিস। এখান থেকে আমরা সারা বিশ্বে রফতানি করছি। রেফ্রিজারেটরের পাশাপাশি কমপ্রেসরেরও বিপুল চাহিদা আছে। কমপ্রেসরেরও খুব বেশি ম্যানুফ্যাকচারার নেই। আমরা কমপ্রেসর উৎপাদন ও রফতানির ক্ষেত্রে শক্তিশালী একটি অবস্থান তৈরি করছি। তাছাড়া আমরা প্রচুর এয়ারকন্ডিশন রফতানি করি। দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোয় আমাদের এয়ারকন্ডিশন যাচ্ছে। ইউরোপের বাজারে আমরা প্রচুর টেলিভিশন রফতানি করছি। পাশাপাশি রাইস কুকার, ব্লেন্ডার ইত্যাদি কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সেরও অনেক চাহিদা আছে। তাছাড়া সারা বিশ্ব থেকে আমরা ফ্যানেরও অনেক চাহিদা পাচ্ছি। আমাদের ফ্যানের প্রডাক্ট লাইনআপ অনেক শক্তিশালী। তাই চাহিদাও বেশি।

রফতানির ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন কি? হলে উত্তরণের উপায়।

রফতানির ক্ষেত্রে দেশীয়ভাবে আমরা খুব একটা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি না। আমাদের সরকার অনেক সাপোর্টিভ। সরকারি উদ্যোগে এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশনের কারণে আমরা অনেক সুবিধা পাচ্ছি। সরকার ক্যাশ ইনসেনটিভ দিচ্ছে, ডিউটি ড্রব্যাক দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি। কিন্তু বৈশ্বিকভাবে আমরা বেশকিছু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। বাংলাদেশ থেকে যে ইলেকট্রনিকস পণ্য রফতানি হওয়া সম্ভব, বৈশ্বিকভাবে এ ব্র্যান্ডিংটা এখনো সেভাবে তৈরি হয়নি। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার হিসেবেই বেশি পরিচিত। সুতরাং ইলেকট্রনিকস ম্যানুফ্যাকচারার হিসেবে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং হওয়াটা খুব জরুরি। সরকারের পক্ষ থেকে যদি বৈশ্বিক পর্যায়ে বিভিন্ন মেলার আয়োজন করা সম্ভব হয়, সেখানে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস ম্যানুফ্যাকচারাররা অংশগ্রহণ করলে, দেশীয় পণ্যগুলো সেখানে প্রদর্শন করা হলে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংটা বাড়বে, তখন বাংলাদেশ থেকে ইলেকট্রনিকস পণ্য কেনার জন্য বিভিন্ন পার্টনার বা বিনিয়োগকারীরা আসবেন।

বর্তমানে বৈশ্বিক প্লাটফর্মে ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ড হিসেবে ওয়ালটনের অবস্থান কেমন? ভবিষ্যতে আপনারা নিজেদের কোথায় দেখতে চান? 

সারা বিশ্বে ওয়ালটন ব্র্যান্ড বেশ পরিচিত। আমরা সারা বিশ্বে আয়োজিত বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণ করছি। চলতি বছর আমরা লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় মেলা ‘সিইএস শো’-তে অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে আমরা প্রায় ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে আমাদের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করি। চীনের ক্যান্টন ফেয়ারে আমরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করি। অক্টোবরে এ বছরের ক্যান্টন ফেয়ার অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আমাদের পণ্যগুলো প্রদর্শন করব। জার্মানিতে আয়োজিত ইলেকট্রনিকস পণ্যের মেলায়ও আমরা অংশগ্রহণ করি। সেখানে আমাদের কমপ্রেসর, এয়ারকন্ডিশনারসহ বিভিন্ন পণ্য আমরা প্রদর্শন করি। এভাবে সারা বিশ্বে ওয়ালটন ব্র্যান্ডকে এখন প্রায় সবাই চেনে। নেপাল, নাইজেরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আয়োজিত মেলায়ও আমরা অংশগ্রহণ করি। এসব বৈশ্বিক মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ওয়ালটনকে আমরা একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পেরেছি। বিশ্বের ২০টি দেশে বর্তমানে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের শোরুম আছে। সেখান থেকে আমাদের পণ্যগুলো বিক্রি হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্র্যান্ড হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।