ঢাকা মেডিকেল থেকে পাস করে আমি বিদেশে যাই। কার্ডিয়াক সার্জারির প্রাথমিক প্রশিক্ষণ যুক্তরাজ্যে ও পরে সৌদি আরবে হয়। দেশের সেবা করার ইচ্ছা ছিল। সে সুযোগটা আসে ২০০৩ সালে ইব্রাহিম কার্ডিয়াকের মাধ্যমে। তখন এখানে কার্ডিয়াক সার্জারি ছিল না। লোকবল ও অভিজ্ঞতার অভাব ছিল। আমরা ধীরে ধীরে হার্ট সার্জারি নিয়ে শুরু করলাম। ফলাফল ভালো হওয়ায় দু-তিন বছরেই রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। তারপর অনেক লম্বা সময় পেরিয়েছে। অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বেড়েছে সার্জারির সংখ্যা ও পরিসর। এখন প্রতিদিন চারটি করে সফল সার্জারি হয়। হার্টের চিকিৎসকদের প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। কার্ডিওলজিস্ট ও কার্ডিয়াক সার্জন। কারো হার্ট নিয়ে সন্দেহ হলে উচিত কার্ডিওলজিস্টের কাছে যাওয়া। উনারাই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হবেন। চিকিৎসাসেবা দেবেন। প্রথম প্রচেষ্টা থাকে সার্জারি না করে রিং দিয়ে স্বাভাবিক পর্যায়ে যাওয়া যায়। সেটা না হলে সার্জারির প্রয়োজন পড়লে তারাই আমাদের কাছে পাঠান। কীভাবে ব্লকটাকে পাশ কাটিয়ে নতুন রাস্তা বানিয়ে হার্টকে রক্ত দেয়া সম্ভব, সে চেষ্টা আমরা করি। দেশে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বিদেশে যে মানের কাজ দেখেছি, এখানেও তার সমান ও কাছাকাছি। আমি আপনাদের মাধ্যমে শুধু এটাই বলব দেশীয় চিকিৎসায় আস্থা রাখুন।

অধ্যাপক ডা. মাসুম শিরাজ

সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড হেড অব কার্ডিয়াক সার্জারি