দেশের কার্ডিয়াক অ্যানেস্থেটিক সার্ভিস এখনো অগ্রসরমাণ। এক্ষেত্রে আরো উন্নতির সুযোগ রয়েছে। কার্ডিয়াক সার্জারির জন্য বিশেষ অ্যানেস্থেটিক সার্ভিস অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এখন বুকের পাঁজরের ভেতর দিয়ে ছিদ্র করে কার্ডিয়াক সার্জনরা অপারেশন করে। আগের মতো বুক চিরে অপারেশন হয় খুব কম। এজন্য বিশেষ অ্যানেস্থেটিক টেকনিক লাগে। রুটিন অ্যানেস্থেসিয়ার মাধ্যমে এটি সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বুকের ভেতর একটি ফুসফুস বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে ট্রান্সইসোফেজিয়াল ইকোকার্ডিওগ্রাফির মাধ্যমে অপারেশন করার সময় আমরা অ্যানেস্থেটিস্টরা হার্ট মনিটর করতে পারি। বিভিন্ন ধরনের ডাটা, হার্টের ভালভের সাইজ, ক্ষতিকারক ক্যালসিয়াম জমা আছে কিনা এগুলো খুঁটিয়ে দেখা হয়। রোগীকে অজ্ঞান করার পরে ব্রেইনে সার্বক্ষণিক অক্সিজেনের মাত্রা মাপতে হয়। যন্ত্রটির নাম নিয়ার ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি। কোনো কারণে রক্তে যদি অক্সিজেন না থাকে, তাহলে রোগীকে ৪ মিনিটের বেশি বাঁচানো যায় না। আমরা সার্বক্ষণিক দেখি ব্রেইনে অক্সিজেনের মাত্রা যেন ঠিক থাকে। ফলে কার্ডিয়াক সার্জনের পক্ষে অপারেশন চালানো এখানে অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত। আমরা সার্বক্ষণিক হার্ট, কিডনি, ব্রেইন, ফুসফুস ও অন্যান্য অঙ্গের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করি। 

বাইস্পেকট্রাল ইনডেক্স নামক একটি যন্ত্রের মাধ্যমে অপারেশন চলাকালে অ্যানেস্থেসিয়ার লেভেল পরিমাপ করে রোগীকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা হয়। ওপেন হার্ট (নন-বিটিং) সার্জারির ক্ষেত্রে হার্টবিট বন্ধ করা দরকার হয়। তখন হিউম্যান বডির অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ও অন্যান্য উপাদানের প্রবাহ নিশ্চিত করা হয় কার্ডিও পালমোনারি বাইপাস  মেশিনের মাধ্যমে। আবার হার্ট কোনোভাবে কাজ না করলে দিন বা সপ্তাহের জন্য ব্যবহার করা হয় এক্সট্রা করপোরাল মেমব্রেন অক্সিজেনেটর বা একমো। প্রযুক্তিগত দিক থেকে সবসময় এগিয়ে থাকতে চায় স্কয়ার হসপিটাল। যখনই নতুন টেকনোলজি অথবা কোনো যন্ত্র ইউরোপ ও আমেরিকা ব্যবহার করে, তা খুব দ্রুত সময়ে স্কয়ার হাসপাতালে চালু করার চেষ্টা করি। তার জন্য আমরা আমাদের স্টাফদের প্রশিক্ষণ প্রদান করি এবং সবদিক নিশ্চিত করেই রোগীদের জন্য ব্যবহার করি, যেন সার্জারির সময় রোগী নিরাপদ থাকে। আমাদের প্রযুক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতাকে সবসময় আন্তর্জাতিক মানে রাখার জন্য চেষ্টা করে যাই।

অধ্যাপক ডা. ব্রিগেডিয়ার 

জেনারেল মুজিবুল হক

কার্ডিয়াক অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট