আমরা বর্তমান ডিজিটাল যুগে বসবাস করছি। এ যুগে হৃদরোগসংক্রান্ত চিকিৎসা বা হার্ট সার্জারি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। সারা বাংলাদেশে হৃদরোগের সার্জারি হয়। সরকারি ও বেসরকারিভাবে ১২-১৫ হাজার সার্জারি হয়। আমাদের দেশে বর্তমানে ভালভের সার্জারি, বাইপাস সার্জারি, হৃদরোগের জন্মগত ত্রুটি—এ সব ধরনের সার্জারি আমরা বাংলাদেশে নিয়মিত করে আসছি। পক্ষান্তরে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমরা নিয়মিত সব ধরনের সার্জারি করি। প্লাস পয়েন্ট হলো আমরা এ হাসপাতালে মিনিমাল কার্ডিয়াক সার্জারি করি। এটি সারা পৃথিবীর অত্যন্ত রেয়ার সার্জারি, যা পৃথিবীর অল্প কিছু দেশই করে। বাংলাদেশে আমরা এ হাসপাতালে মিনিমাল ইনভেসিভ সার্জারি করি। এককথায় বলতে আমরা হার্টের যে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি। রোবোটিক সার্জারির আগের ভার্সন। বুকের পাঁজরের হাড় না কেটে দুই ইঞ্চি ফুটো করে যে সার্জারিটা হয় সেটা আমরা ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করি। প্রযুক্তির দিক দিয়ে বিশ্ব যেমন এগিয়ে গেছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানেও বাংলাদেশ এখন এগিয়ে। বাংলাদেশে এখন অনেক সার্জারি হয়, শুধু কার্ডিয়াক সার্জারি না। আমরা দেখতে পাই লিভার ট্রান্সপারেন্টও এখন বাংলাদেশে হচ্ছে, কিডনি ট্রান্সপারেন্টও হচ্ছে, সে রকম কার্ডিয়াক সার্জারিতেও বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বিশেষ করে আমাদের হাসপাতালে মিনিমাল সার্জারি নিয়মিতভাবে হচ্ছে। আমরা প্রায়ই এ ধরনের সার্জারি করি। সুতরাং প্রযুক্তির দিক দিয়ে এ হাসপাতাল একটা কমপ্লিট প্যাকেজ। সবকিছুই ছোট পরিসরে মিনিমাল কার্ডিয়াক হাসপাতালে রয়েছে। আমরা সেভাবেই রোগীদের সেবা দিয়ে আসছি। শুধু বাংলাদেশে না পুরো পৃথিবীতেই আমরা যদি দেখি যত অসংক্রামক রোগ আছে, তার মধ্যে মানুষ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় হৃদরোগে। যে অসংক্রামক রোগে মানুষ মারা যায় তার মধ্যে কমন কারণ হচ্ছে হৃদরোগ। সারা দেশেই হৃদরোগের কারণে মৃত্যুবরণ করে বা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণগুলো হচ্ছে ধূমপান, আমরা যে জাঙ্কফুড খাই সেটাও। কারো উচ্চ রক্তচাপ যদি থাকে, ডায়াবেটিস যদি থাকে, অনেকের বাতজ্বরের কারণে ভালভের রোগ হতে পারে, এছাড়া জন্মগত কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। এগুলো কমন কারণ হৃদরোগ হওয়ার। অবশ্যই পরামর্শ আছে। পরামর্শ হলো রেজিস্টার্ড ডাক্তারের কাছে আপনারা যাবেন, যারা এক্সপেরিয়েন্সড ও গুড হ্যান্ড চিকিৎসক তাদের কাছে যাবেন। তার আগে অবশ্যই জেনে যাবেন যে সেন্টারে আপনার হার্টের অপারেশন হচ্ছে। পৃথিবীর অন্যতম কঠিন অপারেশনগুলোর মধ্যে একটি হলো হার্ট অপারেশন। যে সেন্টারে অপারেশন করা হোক না কেন সেটা সম্পর্কে আগে জেনেবুঝে নেবেন, সে সেন্টারে অপারেশন ভালো হয় কিনা। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে কিনা। সব ধরনের প্রাইসে যদি হয় সেটা স্যাটেল করার সুযোগ-সুবিধা আছে কিনা। আমাদের হাসপাতালে এ ধরনের সব সুযোগ-সুবিধা আছে। সাধারণত একটা কার্ডিয়াক সেন্টারে অপারেশন-পরবর্তী কিডনি, লাঞ্চ, ফুসফুস, লিভার সবকিছুর ইনভলভমেন্ট থাকে। সেক্ষেত্রে ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক কলেজ হচ্ছে একটা কমপ্লিট প্যাকেজ। হৃদরোগ থেকে বাঁচার পরামর্শ হলো আপনারা কায়িক পরিশ্রম করবেন, নিয়মিত হাঁটাচলা করবেন, চর্বিযুক্ত খাবার কম খাবেন, জাঙ্কফুড না খাওয়া, ধূমপান করার অভ্যাস থাকলে সেটা পরিহার করা। প্রতিদিন নিয়মিত ৩০-৪০ মিনিট হাঁটা লাগবে। সবচেয়ে বড় কথা কারো যদি ডায়াবেটিস থাকে তাহলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা। যদি কোনো ধরনের হৃদরোগ, বুকে ব্যথা, হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে আপনি অবশ্যই রেজিস্টার্ড হৃদরোগ স্পেশালিস্টের কাছে দেখান এবং চল্লিশোর্ধ্ব সবাইকে নিয়মিত হৃদরোগের চেকআপ করানো দরকার। আগে আমরা হৃদরোগ বলতে পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষকে বুঝতাম, তবে এখন সেটা না। ত্রিশের বেশি বয়স্ক মানুষেরও হৃদরোগ হচ্ছে। তারাও বুকে ব্যথা, হার্ট অ্যাটাক নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেক্ষেত্রে আমরা অনেক সময় দেখি তাদের হার্টে দু-তিনটা ব্লকও থাকে। তখন আমরা সেসব রোগীকে বাইপাস করি। শিশুদের ক্ষেত্রেও আবার জন্মগত ত্রুটি থাকতে পারে।
ডা. আশরাফুল হক সিয়াম, মিনিমাল ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জন





