আমাদের মধ্যে অনেকে ক্যান্সার ও কিডনি রোগ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন থাকেন। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ানক ক্যান্সারেও ৫০ শতাংশের বেশি রোগীর পাঁচ বছর বাঁচার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু হার্ট ফেইলিউরে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ পাঁচ বছরও বাঁচার সম্ভাবনা থাকে না। অর্থাৎ হার্ট ফেইলিউর ক্যান্সারের চেয়েও ঝুঁকিপূর্ণ,  এক্ষেত্রে রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার। সেটা নিশ্চিত করতে দক্ষ নার্স, প্যারামেডিকস ও কেয়ারগিভার প্রয়োজন। হার্ট ফেইলিউরের রোগীরা সাধারণত দুইভাবে মারা যেতে পারে, প্রথমত হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও পরে হাসপাতাল পর্যন্ত আসতে না পেরে মারা যাওয়া, দ্বিতীয়ত সাডেন কার্ডিয়াক ডেথ অর্থাৎ সবকিছু মোটামুটি ঠিকঠাক থাকার পরও হঠাৎ করে মারা যাওয়া।

গত ২০ বছরে আমাদের দেশে মেডিকেল সায়েন্সের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের চিকিৎসার উন্নতি ও সুবিধা বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। ২০ বছর আগে কারো হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত তাকে পার্শ্ববর্তী দেশে নিয়ে যাওয়া হতো। এ প্রবণতা বর্তমানে অনেকখানি কমে এসেছে। রোগীরা এখন শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়, উন্নত ও দ্রুত চিকিৎসার সুযোগ ঢাকার বাইরে রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ বিভাগীয় শহরগুলোয় ছড়িয়ে পড়েছে। জনশক্তি, তাদের কাজের দক্ষতা ও মানুষের মধ্যে আস্থায় পরিবর্তন এসেছে। 

হার্ট ফেউলিউরের মানে আপনার হার্টের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া ও তার কাজটি সঠিকভাবে না করতে পারা। দিন দিন মানুষের মধ্যে হার্ট ফেউলিউরের প্রকোপ বাড়ছে । ৫০ বছর বয়সে যার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, দেখা যাবে ৬৫ বছর বয়সে গিয়ে তার হার্ট ফেইলিউর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রোগীদের বিরাট অংশ আমাদের কাছে আসে হার্ট অ্যাটাকের পর। ততক্ষণে তার হার্ট অলরেডি ড্যামেজ হয়ে গেছে। সব নদীর গতিপথ যেমন সমুদ্রের দিকে যায়, ঠিক তেমনি হার্ট ডিজিজের রোগীরা শেষ পর্যন্ত ধীরে ধীরে হার্ট ফেইলিউরের দিকে ধাবিত হয়। 

ইউনাইটেড হসপিটালে হার্ট হিলিং সেন্টার হিসেবে পৃথক একটি ইউনিট আছে । সেখানে প্রায় ১২৫০ জন রোগী নিবন্ধিত আছেন। তাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ রোগী করোনারি আর্টারি ডিজিজের কারণে এই ইউনিটে এসেছেন। অর্থাৎ আগে কখনো তাদের হার্টে ব্লক ছিল কিংবা বাইপাস করা হয়েছে। বাইপাস করা হলেও রোগীরা একপর্যায়ে হার্ট ফেইলিউর নিয়ে আমাদের কাছে এসেছে। 

হয়তো বছর দশেক আগে আমার কাছেই তিনি রিং পরিয়েছেন, এখন আবার হার্টের নতুন কোনো সমস্যা নিয়ে আমার কাছে এসেছেন। এরই সূত্র ধরে হার্ট হিলিং নিয়ে কাজ করা। এখানে ওই রোগীরা আমাদের দক্ষ টিমের কাছ থেকে সেবা নিতে পারেন। আমাদের এ হার্ট হিলিং সেন্টার থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট রোগীদের ফোন করে তাদের শারীরিক অবস্থার খবর নেয়া হয়। রোগীর কোনো সমস্যা হলেও প্যারামেডিকসের কাছে তিনি ফোন করে জানাতে পারেন, তাতে তাৎক্ষণিকভাবে একটি মৌখিক পরামর্শ পাওয়া যায়। এ সার্ভিস দেয়া না হলে রোগী সিভিয়ার অবস্থা নিয়ে হাসপাতালে আসত, যা অনেক বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। চিকিৎসক হিসেবে আমার চাওয়া এটাই যে রোগী যে কয় বছর বাঁচবে, তার জীবনটা যেন স্বস্তিকর হয়। কাজেই প্রয়োজন দেশের প্রতিটি জেলায় রোগীদের কাছাকাছি কোনো এক স্থানে ইউনাইটেড হার্ট হিলিং সেন্টারের সেবা নিশ্চিত করা।