বাংলাদেশে কার্ডিওলজি সেক্টরটা অনেক উন্নত হয়েছে। আমরা এখন উন্নত বিশ্বের সমপর্যায়েই আছি। এ রোগের ট্রিটমেন্ট ফ্যাসিলিটি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা এ দেশে আছে। হৃদরোগের অনেক শাখা-প্রশাখা আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা হার্টের ব্লক। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে এ রোগীর সংখ্যাই বেশি। এর বাইরেও কিন্তু আমাদের অনেক ধরনের রোগী আছে, যেমন হার্টের ভালভের রোগী, রিউমেটিক ফিভার রিলেটেড হার্টের সমস্যা এবং জন্মগত হৃদরোগের সমস্যা। এ ধরনের রোগীর সংখ্যাও কম নয়। এ অংশটা কিছুটা হলেও কম সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। তবে আমাদের হাসপাতালে হৃদরোগের সব বিষয়ে চিকিৎসা হয়। এছাড়া হৃদরোগ নির্ণয়ে যা যা ইনভেস্টিগেশন দরকার সব ব্যবস্থাই আমাদের এখানে আছে। ইসিজি, ইকো, ইটিটি, সিটিস্ক্যান, এমআরআই সবই আমাদের হাতে আছে। এখানে পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজির আলাদা বিভাগ আছ, সেখানে শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ চিকিৎসার সমাধান করা হয়। বুকে ব্যথা হলেই পরীক্ষা করতে হবে এটা হার্টের সমস্যা কিনা। আমি সবাইকে এ বার্তাটাই দিতে চাই যে একজন মানুষের বয়স যদি ৪০ বা ৫০-এর ওপরে হয় এবং তার যদি ডায়াবেটিস থাকে, ব্লাড প্রেশার থাকে বা খাদ্যাভ্যাস খারাপ থাকে তাদের যদি কখনো বুকের ব্যথা হয়, তাহলে তাদের দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। ৫০ শতাংশ রোগী হাসপাতালে আসার আগেই মৃত্যুবরণ করেন, বাকি ৫০ শতাংশ যদি হাসপাতালে পৌঁছতে পারে বা উন্নত চিকিৎসা পায় তাহলে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। হার্ট অ্যাটাক হলে প্রথমেই চারটি অ্যাসপ্রিন (৩০০ মি.গ্রা.) একসঙ্গে খেতে হবে। তারপর প্রাইমারি পিসিআই অর্থাৎ এনজিওগ্রাফি করে ব্লকটা খুলতে হবে। কিন্তু এটা একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করতে হয়। ঢাকার ভেতর যারা থাকে, তাদের এটা দেয়া সম্ভব হলেও ঢাকার বাইরের মানুষকে এ পর্যন্ত আসতে ৩ ঘণ্টা সময় লেগে যাবে। প্রাইমারি পিসিআই সাধারণত ৩ ঘণ্টার মধ্যে করতে হয়। তাদের জন্য আমার পরামর্শ হচ্ছে কাছের হাসপাতালে যাওয়া এবং ডিটেক্ট হওয়ার পর থ্রোম্বোলাইটিক থেরাপি দেয়া। তারপর তাকে প্রাইমারি পিসিআই আছে এমন হাসপাতালে পাঠাতে হবে। 

হৃদরোগের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে একজন মানুষকে দ্রুত কাছের হাসপাতালে যাওয়া উচিত। হার্টের কোনো রোগ নিয়ে বিলম্ব করা ঠিক নয়। কারণ এটা খুবই নাজুক। জীবনকে তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। যেকোনো ধরনের লক্ষণকে গ্যাসের সমস্যা বলে উড়িয়ে দেবেন না।

ডা. এ কিউ এম রেজা

সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও কো-অর্ডিনেটর

ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি