ভালভের রোগগুলো বড়দের বেশি হয়। ছোটদের যে হয় না, তা নয়। কিন্তু বড়রা অনেক বেশি এ রোগগুলো নিয়ে আমাদের কাছে আসে। অনেক সময় শিশুদের দুটি মহাধমনি জন্মগতভাবে চিকন থাকে। এ দুটি রক্তনালির মুখে যে ভালভ আছে, তা অনেক সময় চেপে যায়। এসব কারণে শিশুরা কাঁদলে কালো বা নীল হয়ে যায়। শ্বাসকষ্ট হয়। একটু দৌড়ালেই হাঁপিয়ে যায়। এসব সমস্যা নিয়ে যারা আসে, তাদের আমরা বলে থাকি টেট্রালজি অব ফ্যালট। এক্ষেত্রে অপারেশনগুলো দুভাবে করা যায়। বুকের মাঝখানের হাড় তথা স্টার্নাম কেটে করা যায়। এটিকে আমরা কনভেনশনাল পদ্ধতি বলি। আবার ছিদ্র বন্ধ করা, ভালভ প্রতিস্থাপন বা রিপেয়ার করার ক্ষেত্রে বগলের নিচে ছোট করে কেটেও অপারেশন করা যায়। এটিকে আমরা বলি মিনিমাল ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি বা এমআইসিএস। এমআইসিএস পদ্ধতিতে অপারেশন করা হলে ইনফেকশনের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। ব্যথা কম হয়। রোগীরা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। তারা দ্রুত কর্মক্ষমতা ফিরে পান। যদি কনভেনশনাল পদ্ধতিতে সুস্থ হতে তিন মাস লাগে, এমআইসিএস পদ্ধতিতে দেড় মাসের মধ্যে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতে পারেন। ছিদ্র, ভালভ বা বাইপাস যেকোনো ক্ষেত্রেই অত্যন্ত সহনীয় মূল্যে আমরা অপারেশনটি বাংলাদেশে করে যাচ্ছি। আমাদের হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৫০০-এরও বেশি এমআইসিএস সার্জারি আলহামদুলিল্লাহ আমি করেছি। হার্টের টিউমারের ক্ষেত্রেও আমরা এমআইসিএস পদ্ধতিতে অপারেশন করেছি।

অধ্যাপক ডা. মো. রোকনুজ্জামান পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জন