দুই যুগের বেশি সময় ধরে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সমান ভূমিকা রাখছে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে বিশেষায়িত সুবিধা। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পর্যায়ে কাজ করছেন এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. আনোয়ারুল কাদের নাজিম। দেশে হৃদরোগের চিকিৎসার প্রসার ও সম্ভাবনা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে
বাংলাদেশের কার্ডিয়াক চিকিৎসাসেবার উৎকর্ষ কেমন দেখছেন?
বাংলাদেশে হার্টের চিকিৎসা একটা সময়ে খুব একটা ভালো ছিল না, কিন্তু এখন বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান হয়েছে। উন্নত বিশ্ব যেভাবে চিকিৎসা দিচ্ছে, সেভাবেই আমরা চিকিৎসা দিতে সক্ষম হয়ে উঠছি। অনেক দিন হয়ে গেছে, বাংলাদেশে এখন খুব ভালো চিকিৎসা হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি দুই পর্যায়ে ভালো চিকিৎসা হচ্ছে।
নিজেদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা দিতে পারছেন কিনা।
আমাদের প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত চেয়ারম্যান ডা. মো. এনামুর রহমান এমপি, যিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে। আজ থেকে ৪০ বছর আগে এনাম ক্লিনিক দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। তখন থেকেই হার্টের চিকিৎসা করা হতো। তখনো কিছুটা সুযোগ-সুবিধা এনাম ক্লিনিকে ছিল। ২০০৩ সালে যখন শুরু করে এনাম মেডিকেল কলেজ। তখনই টার্গেট ছিল হার্ট সেন্টার করার, যেখানে আমরা হার্টের সম্পূর্ণ চিকিৎসা করতে পারব। কোনো রোগীকে বিদেশে বা অন্য কোথাও রেফার করতে হবে না। এর ধারাবাহিকতায় ২০১২ সাল থেকে কার্ডিয়াক সেন্টার চালু করা হয়, যার নাম এনাম হার্ট সেন্টার। এখানে প্রায় ৪০ বেডের করোনারি কেয়ার ইউনিট বা সিসিইউ এবং স্টেপডাউন, কার্ডিওলজি ওয়ার্ড এবং এইচডিইউ আছে। আমাদের এখানে রোগী ভর্তি থাকার হার প্রায় শতভাগ। অনেক ক্রিটিক্যাল রোগীকে আমরা চিকিৎসা দিয়ে থাকি। কার্ডিওলজিস্ট যারা আছেন, তারা ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে থাকেন। যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে হৃদরোগের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কার্ডিয়াক চিকিৎসার প্রসারে কোন পর্যায়ের মান ধরে রাখতে হয়েছে?
মান নির্ণয়ের কোনো স্কেল নেই, দেখুন বাংলাদেশের ফিজিশিয়ানরা যারা আছেন, তারা প্রত্যেকেই অত্যন্ত দক্ষ। তারা খুব সুন্দরভাবেই আমাদের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তার পরও দেখবেন অনেককে সেভাবে সন্তুষ্ট করা যাচ্ছে না। কিন্তু আমাদের ডাক্তাররা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের জন্য এ কথা সত্য।
বাংলাদেশের হৃদরোগের চিকিৎসার সঙ্গে বিদেশের চিকিৎসার কোনো পার্থক্য আছে কি?
আমাদের দেশ থেকে প্রতিদিন বহু রোগী বাইরে চলে যাচ্ছে। যখনই শোনে তাদের হার্টে সমস্যা, তারা চলে যাচ্ছে। এখানে এমন কিছু রোগী আছে যারা একটু জ্বর হলেও বিদেশে চলে যায়, যেটা পরিতাপের বিষয়। গত তিন বছর যখন করোনা ছিল, তখন পরিপূর্ণভাবেই আমরা ক্যান্সার, হার্ট, ব্রেইন স্ট্রোক ও নিউরোসার্জারির সেবা দিয়েছি। সে সময় প্রতিটি দেশই ভিসা বন্ধ করে দিয়েছিল। তখন করোনা ছাড়াও অন্য রোগও হয়েছে। সে তিন বছর যদি একটা দেশ পরিপূর্ণ চিকিৎসা দিতে পারে, তার মানে আমাদের সক্ষমতা আছে পরিপূর্ণ চিকিৎসাসেবা দেয়ার। তার পরও আমরা অনেককেই ধরে রাখতে পারি না। হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য অবশ্যই ক্যাথল্যাব ও করোনারি কেয়ার ইউনিট থাকতে হবে। আবার মেশিন থাকলেই হবে না, গুরুত্বপূর্ণ ইকুইপমেন্ট আছে। সবসময় সব বিষয় কাজে লাগে, তা না। অনেক সেন্টার হয়তো এসব যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করছে না। কিন্তু এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমরা এসব যন্ত্রাংশ নিশ্চিত করেছি। যেমন ইনভেসিভ প্রসিডিউরের জন্য আমাদের রয়েছে ইন্ট্রা-অর্টিক বেলুন পাম্প (আইএবিপি), ইন্ট্রা-ভাসকুলার আল্ট্রাসাউন্ড (আইভাস), ফ্র্যাকশনাল ফ্লো রিজার্ভ (এফএফআর), টেম্পোরারি পেসমেকার (টিপিএম), পার্মানেন্ট পেসমেকার (পিপিএম), সর্বাধুনিক সুসজ্জিত একাধিক ক্যাথল্যাব ইত্যাদি। এছাড়া নন-ইনভেসিভ প্রসিডিউরের মধ্যে রয়েছে ইকো, ইটিটি, কালার ডপলার, ট্রান্সিসোফেজিয়াল ইকোকার্ডিওগ্রাম, নিউনেটাল ইকো ও কালার ডপলার, পেডিয়াট্রিক ইকো ও কালার ডপলার, স্ট্রেস ইকো, হলটার ইসিজি ইত্যাদি। পূর্ণাঙ্গ একটি সেন্টার করতে ও দক্ষতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে এসব যন্ত্রপাতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা আমাদের এনাম হার্ট সেন্টারে রয়েছে।
হৃদরোগের চিকিৎসায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোগীদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে?
আমাদের ৪০ বেডের করোনারি কেয়ার ইউনিট রয়েছে এবং এছাড়া আরো বেড আছে। ছুটি দেয়ার আগে আমরা এখানে মনিটরে রাখি দুয়েক দিন। সেখান থেকে নরমাল কেবিনে যায়, তারপর বাড়ি যায়। মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি বলেই রোগী ভর্তির হার শতভাগ। আমরা সেবা দিয়ে থাকি স্বল্পমূল্যে। সরকার রিঙের যে দামনির্ধারণ করে দিয়েছে, আমরা নির্ধারিত দামের মধ্যেই সেবা দিয়ে থাকি। এখানে কার্ডিওলজি বিভাগের প্রত্যেকেই দক্ষ। তারা আউটডোর ও ইনডোরে প্রচুর রোগী দেখেন। এগুলো দক্ষতার সঙ্গে করতে পারার কারণেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে এই হাসপাতাল।
দেশী কিংবা বিদেশী বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আপনার প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত কাজ রয়েছে?
আমাদের চিকিৎসকরা প্রায়ই বিভিন্ন দেশে যান। সেখানে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও রিসার্চের মাধ্যমে রিসার্চ ও টেকনোলজি ট্রান্সফার করা হয়। তারা বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের রয়েছে যৌথ উদ্যোগ। আমরা চেষ্টা করি, উন্নত চিকিৎসা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার।
কার্ডিয়াক চিকিৎসায় এগিয়ে গেলেও ভাসকুলার সার্জারিতে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় অগ্রগতি কম। এ অবস্থা থেকে বের হতে কী করা জরুরি বলে মনে করেন?
এনাম মেডিকেল কলেজ হসপিটালের বয়স ২১ বছর। কিন্তু এনাম ক্লিনিক দিয়ে ৪০ বছর পার হয়েছে। আমরা ৪০ বছর ধরেই ভাসকুলার সার্জারি পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এখানে একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাসকুলার সার্জারি ডিপার্টমেন্ট আছে। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সারা দেশেই ইমার্জেন্সি পেশেন্ট ম্যানেজমেন্টর ক্ষেত্রে খ্যাতি অর্জন করেছে। আমাদেরকে প্রতিদিন অনেক ইমার্জেন্সি রোগীকে সেবা দিতে হয়। এজন্য এখানে ২৪ ঘণ্টা জেনারেল সার্জন, নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ, ভাসকুলার সার্জন, নিউরোসার্জন, থোরাসিক সার্জন ও অর্থোপেডিক সার্জন অর্থাৎ ট্রমা ম্যানেজমেন্টের টিম আছে, তারা ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা দিয়ে থাকে। কেউ যদি আসে ভাসকুলার সমস্যা নিয়ে, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে রিপেয়ার করার সক্ষমতা এনাম মেডিকেলের আছে। পাশাপাশি আরেকটা ডিপার্টমেন্ট আছে। থোরাসিক সার্জারির জন্য আমাদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপার্টমেন্ট আছে। যেখানে নিয়মিত ইনডোর ও আউটডোরে চিকিৎসা দেয়া হয়। ইমার্জেন্সি চিকিৎসায় অসামান্য অবদানের জন্যই আজ এনাম মেডিকেল কলেজ সবার কাছে সমাদৃত।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে ব্যবস্থাপনার প্রসার হলেও রোগ নির্ণয়ের বিষয়ে আপনার মতামত কী?
একটা কার্ডিয়াক সেন্টার চালানোর জন্য রোগ নির্ণয়কারী ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকতে হবে। এটা এনাম মেডিকেল সেন্টারে আছে। এর মধ্যে খুবই জরুরি জিনিস হলো করোনারি এনজিওগ্রাম। অনেকেই ভয় পায় সরাসরি এনজিওগ্রাম করাতে। আমরা সিটি এনজিওগ্রামের মাধ্যমে করোনারি এনজিওগ্রাম করাতে পারি। ল্যাবরেটরিতে যত রকমের বায়োকেমিক্যাল ইনভেস্টিগেশন দরকার, তার সবই আমাদের এখানে আছে। একটা পেশেন্টকে যখন এনজিওগ্রাম করে দেখা যায় তার ব্লক আছে, তার হার্ট মাসল কিংবা কার্ডিয়াক টিস্যু কতটুকু ঠিক আছে কিংবা কতটুকু নষ্ট এটা দেখার জন্য পরীক্ষার প্রয়োজন। নিউক্লিয়ার মেডিসিনের মাধ্যমে সেটাও আমরা করে দিতে পারি। এনাম নিউক্লিয়ার মেডিসিন এবং মলিকুলার ইমেজিং নামের একটা বিভাগ আছে। মায়োকার্ডিয়াল পারফিউশন ইমেজিংয়ের মাধ্যমে দেখা যায় কার্ডিয়াক মাসল কতটুকু ভালো আছে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো চিকিৎসা দিতে পারলেও রোগ নিয়ে গবেষণা তেমন নেই। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
চিকিৎসায় গবেষণা একটু পিছিয়ে। তবে আগের মতো অবস্থা নেই। সবাই রোগ নিয়ে গবেষণা করছে। অনেক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তৈরি হওয়ায় প্রচুর কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের জন্য গবেষণা প্রতিদিন বাড়ছে। এনাম মেডিকেলে একটা জার্নাল অ্যান্ড পাবলিকেশন কমিটি আছে। আমরা নিয়মিত জার্নাল পাবলিশ করি। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিজস্ব জার্নাল। ফলে প্রচুর রিসার্চের সুযোগ আছে।
বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি ব্যয় বেড়েছে। এটা কি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে অন্তরায়?
চিকিৎসাসেবাটা ব্যয়বহুল। পৃথিবীর সব দেশে চিকিৎসাসেবা ব্যয়বহুল। সে তুলনায় বাংলাদেশে কম মূল্যে আমরা চিকিৎসাসেবা দিতে পারছি। শুধু এনাম না, বাংলাদেশের সব করপোরেট হসপিটাল, সরকারি, বেসরকারি হসপিটাল কম মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে। একটি ক্যাথল্যাবের মেশিনের দাম কোটি কোটি টাকা। তা আনার চার-পাঁচ বছর হসপিটাল অকেজো হয়ে পড়ে। কিংবা আপডেট ভার্সন বের হয়ে যায়। যেটা আমাদের রিপ্লেস করতে হয়। তাছাড়া ইলেকট্রনিক জিনিস যেকোনো সময়ই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যে এনজিওগ্রাম সিঙ্গাপুর ও অন্যান্য দেশে ন্যূনতম ১ লাখ টাকা লাগবে, আমাদের দেশে প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ লাগছে। তাই আমাদের দেশে খরচ বেশি, এটা আমি বলতে রাজি না। কারণ যে ইকুইপমেন্ট আমাদের দেশে আনা হয়, তা অন্য দেশেও আছে। একই দামেই আমরা কিনি। সে হিসেবে অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে চিকিৎসার খরচ কম ও চিকিৎসার মান ভালো।
বেসরকারি খাতকে প্রসারে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ রয়েছে। তার পরও মানুষের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। এর কারণ কী?
গত দেড় দশকে স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। রোগীদের যেন বাইরে যেতে না হয়, সেজন্য বর্তমান সরকার কাজ করেছে। সে কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা স্পেশালাইজড হসপিটাল করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে পাঁচ হাজার বেডে উন্নীত করা হয়েছে। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে ব্যাপক জোর দেয়া হয়েছে। কিছু রোগী আছে, তারা দেশে ফ্রি চিকিৎসা পেলেও বাইরে চলে যাবেই। চিকিৎসার জন্য যেন বাইরে যেতে না হয়, সেজন্য সরকার ও বেসরকারি খাত থেকে চেষ্টা রয়েছে। বাইরে গেলে হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে ব্যয় হবে ডলারে। আমাদের দেশ থেকে যখন টাকাটা ডলার হয়ে বাইরে চলে যায়, সেটা কিন্তু রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি করে। সেটা যেন অপ্রয়োজনে কেউ নষ্ট না করে, সে সক্ষমতা অর্জনের জন্য সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে চেষ্টা চালানো হয়েছে। এখন আগের চেয়ে বাইরে যাওয়ার প্রবণতা অনেক কমে গেছে, কারণ আমরা এখন বাংলাদেশে খুব ভালোভাবেই চিকিৎসাটা করতে পারছি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে। সরকার বড় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কেউ যদি যেতে চায়, তাকে তো আর থামানো যাবে না।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়েছে কিনা। দীর্ঘমেয়াদি কোনো ঘাটতি আছে কিনা।
অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রার পথে এগিয়ে যাচ্ছি। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সফলতার সঙ্গে করোনা মোকাবেলায় কাজ করেছে। দেশের বা সরকারের সক্ষমতা না থাকলে সম্ভব হতো না। সরকার দক্ষভাবে ম্যানেজ করছে। চিকিৎসার মান অনেক বাড়ছে। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক হাজার বেড আছে, আমরা এর সংখ্যা আরো বাড়াব, কারণ বর্তমানে পুরো দেশ থেকে রোগীরা এখানে আসে সেবা নেয়ার জন্য। পাশেই ইপিজেড আছে, সেখানে বিদেশী কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। তারাও চিকিৎসা নেয়ার জন্য এখানেই আসেন। আমরা দেশী-বিদেশী সব ধরনের রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে থাকি।





