আমি কার্ডিয়াক সার্জারিতে ঢুকি ১৯৯৫ সালে। দেশে ১৯৮১ সালে প্রথম ওপেন হার্ট সার্জারি হয় জাপানের সহযোগিতায় জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত হার্টের সার্জারির জন্য একটাই কেন্দ্র ছিল দেশে। আজকে দেশজুড়ে ২৫-৩০টির মতো সেন্টার কার্ডিয়াক সার্জারি করে। অধিকাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক। এর বাইরে চট্টগ্রাম, এনায়েতপুর, খুলনা, দিনাজপুর এবং সিলেটেও কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। হৃদরোগের মেডিকেল চিকিৎসা কিন্তু সব পুরনো মেডিকেল কলেজে চালু আছে। ক্যাথল্যাব ও সিসিইউ চালু আছে। কক্সবাজারে একটা রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ওখানকার সিসিইউতে থ্রম্বোলাইসিসের সুবিধা পায়। নব্বইয়ের দশকে কার্ডিয়াক সার্জারি প্রান্তিক অবস্থায় ছিল। দিনে দিনে অভূতপূর্ব বিস্তৃতি ঘটেছে। গত অর্থবছরে ১৭ হাজারের মতো শুধু কার্ডিয়াক সার্জারি হয়েছে দেশে। যদিও করোনার মধ্যে কিছুটা বিঘ্নিত হলেও ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থেকেছে। স্কয়ার হসপিটালে আগে দেশী ও বিদেশী সার্জনরা কাজ করতেন। তখন গড়ে সার্জারির সংখ্যা ছিল ৩০০। কিন্তু এখন আমরা এখানে ৭০০-এর বেশি সার্জারি করি। এর মানে দেশের চিকিৎসায় রোগীদের আস্থা তৈরি হয়েছে। জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মতো জায়গায় লম্বা সারি। রোগীরা ছয় মাসের মধ্যেও সিরিয়াল পাচ্ছে না। বাইরে যাওয়ার পেছনে এটাও একটা কারণ। কিন্তু কার্ডিওলজি ও কার্ডিয়াক সার্জারির ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ দেশেই সেবা নিচ্ছে। আমরা এখন আন্তর্জাতিক মান অনুসারে সেবা দিচ্ছি। স্কয়ার হসপিটালের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করলে কার্ডিওলজি ও কার্ডিয়াক সার্জারির পুরো প্রক্রিয়াই আমাদের এখানে রয়েছে। অনেক উন্নত দেশও সবদিক দিয়ে সম্পূর্ণতা দেখাতে পারে না। এ দেশে একটা বদনাম আছে। পোস্টঅপারেটিভ কেয়ার নাকি ভালো হয় না। স্কয়ার হসপিটালের ইনটেনসিভ কেয়ার গ্রুপটা অপারেশন থিয়েটারে যেমন টেককেয়ার করে, পরবর্তী সময়ে আইসিইউতেও একইভাবে টেক কেয়ার করে। পুরো ব্যবস্থাপনাই আমাদের হসপিটালে চালু আছে। আমরা ডেভেলপ করেছি মানে শুধু স্কয়ার না, বাংলাদেশেই অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে আত্মসন্তুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। এখনো অনেক জায়গায় উন্নতির সুযোগ আছে। ঢাকা থেকে সরিয়ে সারা দেশে সেবাকে ছড়িয়ে দেয়া জরুরি। পাশাপাশি গবেষণার দিকে গুরুত্ব দেয়া। কারণ আমাদের দেশের জন্য অনেক সমস্যাই মৌলিক। সেগুলো আমাদের নিজেদের রিসার্চ করে বের করতে হবে।

ডা. প্রশান্ত কুমার চন্দ

সিনিয়র কনসালট্যান্ট, কার্ডিয়াক সার্জন