বাংলাদেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে ইসলামী ব্যাংকই প্রথম আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে এসেছে। এ ব্যাংক ১৯৯৫ সাল থেকে গ্রামীণ দরিদ্র ও কৃষকদের জন্য ১০ টাকায় হিসাব খোলার সুযোগ তৈরি করেছে। গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে ওই বছরই চালু করা হয় পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস), যা বিশ্বের বৃহত্তম ইসলামিক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি।

এতে সমন্বিত উন্নয়ন অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে জামানতমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান, শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, টিউবওয়েল ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপন, চক্ষুশিবির, খতনা কার্যক্রম, কন্যা বিবাহের জন্য অনুদান, বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে।

আরডিএস প্রকল্পটি বর্তমানে দেশের ২৬ হাজার গ্রামে বিস্তৃত। ২০১২ সাল থেকে এটি নগর দরিদ্রদের জন্যও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ১৪ লক্ষাধিক প্রান্তিক পরিবার এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছে।

৯৬ শতাংশ নারী সদস্যের মাধ্যমে কাজ করা এ প্রকল্প দেশে নারীর ক্ষমতায়নেও পালন করছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সিডর-দুর্গত এলাকায় ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) গৃহীত ‘ফায়েল খায়ের’ পুনর্বাসন প্রকল্প মাঠপর্যায়ে জনশক্তি দিয়ে বাস্তবায়ন করেছে ইসলামী ব্যাংক। চলতি বছরে আরডিএস প্রকল্পের আকার ও পরিধি বাড়ানোর বিস্তৃত উদ্যোগ আমরা হাতে নিয়েছি। আগামী বছরের মধ্যে এ প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থায়নের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে। এক্ষেত্রে দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আমাদের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটগুলোকে সম্পৃক্ত করা হবে।

মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী
ইসলামী ব্যাংক পিএলসি