আপনাদের ব্র্যান্ডের এসি বাংলাদেশের বাজারে এসেছিল কবে? ক্রেতাদের সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

২০২৩ সালে আমরা প্রথম ইনভার্টার ও নন-ইনভার্টার মডেলের এক, দেড় ও দুই টন আকারের এসি নিয়ে বাজারে যাত্রা করি। এর পর থেকে আমরা ক্রেতাদের প্রচুর সাড়া পেয়েছি। আমাদের এ বছরের যে বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা আমরা প্রথম চার মাসেই অর্জন করে ফেলেছি। তাই আমরা আগামী বছর কী করে আরো ভালোভাবে সেবা দিতে পারব সেটা নিয়ে পরিকল্পনা করছি।

দেশে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) চাহিদা এখন কেমন?

এসি এখন আর বিলাসপণ্য নয়। এটা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে রূপান্তরিত হয়েছে। একটা সময় এসি ব্যবহার হতো অফিস-আদালতে আর বিত্তবানদের বাসায়। কিন্তু এখন মধ্যবিত্ত পরিবারের বাসাবাড়িতেও এসি ব্যবহার হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর এসির চাহিদা বেড়েছে। বাসাবাড়ির জন্য গত বছর যে পরিমাণ এসি বিক্রি হয়েছিল এ বছর তার চেয়ে অনেক বেশি বিক্রি হয়েছে। 

আপনাদের সামনের দিনের পরিকল্পনা কী?

আমরা আমাদের স্মার্ট ব্র‍্যান্ডের বাজার পরিচিতিকে প্রাধান্য দিয়েই এই মুহূর্তে কাজ করছি। আমরা আশাবাদী আগামী বছর থেকে হয়তো বাজারে আমাদের অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করতে পারব।

আপনারা কি বিদেশে এসি রফতানি করছেন? 

আমাদের এসিগুলো এখন দেশের বাজারের চাহিদা পূরণ করছে। আমাদের গবেষণা দল এখন কীভাবে আরো উন্নত সেবা দেয়া যায় তা নিয়ে কাজ করছে। দেশের বাজারের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করতে পারলে আমরা রফতানি নিয়ে পরিকল্পনা করব।

আপনাদের এসির প্রযুক্তিগত দিকগুলো নিয়ে বলবেন? এক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে আপনারা কতটা তাল মেলাতে পেরেছেন? 

বাজারে যেসব এসি পাওয়া যাচ্ছে তাদের তুলনায় আরো উন্নত ও মানসম্মত সেবা প্রদানে যে প্রযুক্তির ব্যবহার করা দরকার আমরা সেদিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। বাজারে প্রচলিত এসিতে যেই গ্যাস ব্যবহার করা হয় তাতে প্রায়ই এসিতে সমস্যা হয়, তাই আমরা আমাদের পণ্যে উন্নতমানের আর৩২ গ্যাস ব্যবহার করছি। এছাড়া প্রয়োজনীয় ফিচার ছাড়া অহেতুক ফিচারগুলোকে বাদ দিয়ে কাজ করছি। যে বিষয়গুলো বেশি প্রয়োজন সেটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছি।

‘স্মার্ট’ ব্র্যান্ডের এসির বড় সুবিধা হচ্ছে, এর কম্প্রেসর মোটরটি প্রয়োজনমতো তার চলার গতি পরিবর্তন করতে পারে। এতে একটি সেন্সর থাকে, যা ঘরের তাপমাত্রার ওপর ভিত্তি করে কম্প্রেসর পুরোপুরি বন্ধ না করে মোটরটির চলার গতি কমিয়ে দেয়। ফলে বিদ্যুৎ খরচ কমে আসে। এই এসির রয়েছে ‘কুইক কুলিং’ টেকনোলজি, যা ঘরকে দ্রুত ঠাণ্ডা করে শীতল বাতাস প্রবাহিত করে। তাই গরমের অস্বস্তি কাটিয়ে স্মার্ট এসির শীতলতা চোখের পলকেই গ্রাহককে দেবে হিম স্বস্তি। 

তাছাড়া বারবার রিমোট দিয়ে তাপমাত্রা পরিবর্তনেরও প্রয়োজন নেই ‘স্মার্ট’ ব্র্যান্ডের এ এসিতে। কারণ স্মার্ট এসিতে রয়েছে ‘ভেরিয়েবল স্পিড কম্প্রেসর’, যা রুমের তাপমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তাপমাত্রা পরিবর্তন করতে পারে।  

স্মার্ট এসিতে আরো রয়েছে ‘কোয়াইট অপারেশন’ সিস্টেম, যার কল্যাণে এসি প্রায় শব্দহীনভাবে গ্রাহককে দেবে সর্বোচ্চ প্রশান্তি। আগেই বলেছি, ‘স্মার্ট’ এসি মানে কমফোর্ট অনুভূতি। ফোর ওয়ে সুইং, স্লিপ টাইমার টার্বো মোড ও মেমরি ফাংশন—ব্যতিক্রমধর্মী সব ‘কমফোর্ট ফিচার’ গ্রাহকের এসি ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে করবে আগের তুলনায় সমৃদ্ধ। এর রিমোট কন্ট্রোলে রয়েছে টেম্পারেচার সেন্সর। আই ফিল ফাংশনটি ব্যবহারের সময় হাইসেন্স এসি রিমোট কন্ট্রোলের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে তাপমাত্রা সমন্বয় করে।  

সবশেষে বলব, গ্রাহক আমাদের স্মার্ট পণ্য ক্রয় করে যাতে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন সেজন্য আমাদের আছে পাঁচ বছরের কম্প্রেসর ওয়ারেন্টি। ক্রয়-পরবর্তী কোনো ত্রুটি দেখা দিলে আমরা দুই বছরের পার্টস ও সার্ভিস ওয়ারেন্টির ব্যবস্থা রেখেছি।

বাসাবাড়ির জন্য এখন কোন ধরনের এসির চাহিদা বেশি?

বাসাবাড়ির জন্য এক বা দেড় টনের চাহিদা অনেক বেশি। আর স্প্লিট টাইপের এসিই বেশি বিক্রি হচ্ছে। 

এসি বিস্ফোরণ নিয়ে এখন ক্রেতাদের একটা দুশ্চিন্তা দেখা যায়। এ রকম দুর্ঘটনা কেন হয়? এড়ানোর জন্য কী পরামর্শ দেবেন?

বাজারে অনেক নন-ব্র্যান্ড এসি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান আছে, তারা কম দামে এসি বিক্রি করছে। আর দাম কমাতে গিয়ে তারা নিম্নমানের কম্প্রেসর ও গ্যাস ব্যবহার করছে। এ গ্যাস খুব সহজেই বিস্ফোরক হিসেবে কাজ করতে পারে। তাই ক্রেতাদের প্রতি পরামর্শ থাকবে বাজার দেখে-শুনে-বুঝে ব্র্যান্ডের এসি কেনাটাই শ্রেয়। এছাড়া এসি কেনার পর আউটডোর ইউনিট নিয়মিত চেক করে রাখা, ইউনিটের আশপাশে যাতে অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ ঘটে এমন কিছু না থাকে সেই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। আর প্রতি বছর অন্তত একবার যদি সার্ভিসিং করা হয় তাহলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমে আসবে বলে আমি আশাবাদী।

গ্রীষ্মের গরমে এসি কিনতে ক্রেতাদের জন্য আপনারা কোনো বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন কি?

ন্যায্যমূল্যে জেনুইন পণ্য ও সেবা প্রদানের লক্ষ্যে দেশের ইলেকট্রনিকস বাজারে দৃঢ় প্রত্যয়ে আমরা ব্যবসা সম্প্রসারণ করে যাচ্ছি। জি-ফাইভ পলিসির আওতায় জেনুইন প্রডাক্ট, জেনুইন প্রাইস, জেনুইন সার্ভিস, সঙ্গে জেনুইন কেয়ার আর জেনুইন প্যাশন নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশব্যাপী সর্বোত্তম ক্রেতা সন্তুষ্টি অর্জনই স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের মূল লক্ষ্য। জি-ফাইভের নিশ্চয়তায় এবার আমরা তীব্র গরমে হিম হিম কুলিং সমাধান অফার চালু করেছি। এর আওতায় আমরা বিশেষ মূল্যে এসি দিচ্ছি, তার সঙ্গে ইনস্টলেশন এবং ১০ ফিট কপার পাইপ ফ্রি। আমাদের এ বিশেষ মূল্য অবশ্যই বাজারের অন্যদের বিবেচনায় স্পেশাল।