দেশে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ক্রেতা কি বাড়ছে?
একটা সময় এসিকে আমরা বিলাসজাত দ্রব্য হিসেবে বিবেচনা করতাম। এখন মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হয়েছে, ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের কারণে যে পরিমাণ তাপপ্রবাহ আমাদের দেশে কয়েক বছর ধরে চলছে, তাতে মানুষ একটু স্বস্তির জীবনযাপন করতে চায়। এখন যেহেতু কমপিটিটিভ প্রাইসে আমাদের লোকাল কোম্পানিগুলো ভালো করছে, উচ্চবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত এমনকি নিম্নবিত্তরাও আজকাল এসি কেনার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এরই মধ্যে গত বছরের তুলনায় আমাদের এসির বিক্রি ৩০-৪০ শতাংশ বেড়েছে। এটা খুবই ইতিবাচক একটি বিষয় যে বাংলাদেশে এসির বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে।
গ্রাহক এখন বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এসি খোঁজেন। আপনাদের এসিগুলো কতটুকু বিদ্যুৎসাশ্রয়ী?
এসি কেনার সময় যেকোনো গ্রাহক অন্তত চারটা বিষয় খেয়াল রাখেন, এসিটা বিদ্যুৎসাশ্রয়ী কিনা, ঘরের জন্য আরামদায়ক কিনা, এসির বাতাসটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিনা এবং নো সার্ভিস কমপ্লেইন। আমাদের এসিগুলো যমুনা স্মার্ট ইনভার্টার এসি। এসিগুলোয় আমরা যে সিক্স হান্ড্রেড এ গ্যাস ব্যবহার করি যা বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করে এবং পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি করে না। এছাড়া আমাদের যে ডুয়াল ইনভার্টার এসি আছে তা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে।
আপনাদের এসির প্রযুক্তিগত দিকগুলো নিয়ে বলবেন। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আপনাদের এসি কতটা আধুনিক?
যেকোনো ইলেকট্রনিকস পণ্যের ক্ষেত্রে উদ্ভাবন অনেক বেশি গুরত্বপূর্ণ। নতুন নতুন উদ্ভাবন ছাড়া প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকা সম্ভব নয়। এটা আমরা সবসময় মাথায় রাখি। যে কারণে আমাদের এসি উৎপাদনে সর্বশেষ প্রযুক্তি, উন্নত মানের কাঁচামাল ব্যবহার করে থাকি। আমাদের সর্বশেষ এসিতে পিএম ২ দশমিক ৫ ফিল্টারে বা ডাস্ট কালেক্টিং টেকনোলজি রয়েছে যা বাতাসে মিশে থাকা ধুলোবালি প্রতিরোধ করে। পাশাপাশি ন্যানো কোল্ড ক্যাটালিস্ট ইলেকট্রনিক ডাস্ট কালেক্টিং টেকনোলজি ব্যবহার করে ঘরের ভেতর থাকা ক্ষুদ্রতম ধূলিকণা পরিশোধন করতে পারে, যা বাতাসের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে। এসিতে থাকা কোল্ড প্লাজমা টেকনোলজি এয়ার আয়নাইজেশন মানসিক অবসাদ দূর করে। ভিটামিন সি ফিল্টারের কারণে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকে। এছাড়া যমুনা এসির সিলভার আয়ন ফিল্টার এবং ডিজার্মিং ফিল্টার বাতাসের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ এবং ঘরের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। হাই টেম্পারেচার সেলফ ক্লিনিং টেকনোলজি চারটি স্বয়ংক্রিয় ধাপে এসির ভেতরের জমে থাকা বরফ ও ময়লা পরিষ্কার করে। সেই সঙ্গে অ্যান্টি ভাইরাস ফিল্টার তো আছেই। এছাড়া আমাদের এসিতে ভয়েস কন্ট্রোল টেকনোলজি রয়েছে। অর্থাৎ সর্বশেষ যে প্রযুক্তিগত সুবিধা বাজারে এসেছে তার সবই যমুনা এসিতে আছে।
আপনাদের ব্র্যান্ডের এসি প্রথম বাজারে এসেছিল কবে? তারপর থেকে আপনাদের বিক্রির অভিজ্ঞতা কেমন?
আমরা ১৯৭৮ সালে ইলেকট্রনিকসের বাজারে আত্মপ্রকাশ করি যমুনা ফ্যান দিয়ে। ২০১৪ সালে আমরা যমুনা ইলেকট্রনিকসের মাধ্যমে রেফ্রিজারেটর, টিভি, এসির মতো হোম অ্যাপ্লায়েন্সগুলো বাজারে নিয়ে আসি। অর্থাৎ কনজিউমার ইলেকট্রনিকসের যতগুলো উপাদান আছে তা ২০১৪ সালে বাজারে আসে। ২০১৪ সাল থেকে যমুনা ইলেকট্রনিকসের পথচলা শুরু।
দেশে এসির বাজারে আপনাদের অবস্থান কেমন? আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাই...
অসংখ্য প্রতিষ্ঠান দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছে। সেই তুলনায় আমাদের পথচলা অল্প দিনের। তার পরও বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছি।
একটা সময় এসি কিংবা অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বাজার পুরোটাই কিন্তু ছিল আমদানিনির্ভর। ২০১০ সালের পর থেকে এ দৃশ্য পরিবর্তন হওয়া শুরু করে। ২০১৪ সালে আমাদের প্রয়াত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল স্যার একটি ভিশন নির্ধারণ করেন যে, একটি ফ্যাক্টরি নির্মাণ করে দেশেই ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদন করবেন এবং কমপিটিটিভ প্রাইসে উন্নত মানের পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেবেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বর্তমানে যমুনা ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় ব্র্যান্ড হিসেবে ইলেকট্রনিকস ইন্ডাস্ট্রিতে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের এসি বাজারে একটা বড় অংশ যমুনা ইলেকট্রনিকসের দখলে।
বাসাবাড়ির জন্য এখন কোন ধরনের এসির ক্রেতারা বেশি কিনছেন?
বাসাবাড়িতে ইনভার্টার এসিই বেশি ব্যবহৃত হয়। কারণ এটি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী। তাছাড়া এখন স্মার্ট লাইফের সবকিছুই স্মার্ট। যে কারণে সবাই স্মার্ট ইনভার্টারের দিকে ঝুঁকছেন। কারণ এটি স্বল্প বিদ্যুৎ খরচ করছে এবং সঠিক তাপমাত্রা দিচ্ছে।
বিদেশে তৈরি এসি আর দেশে তৈরি এসির মানে কি কোনো ফাঁরাক আছে?
দেশী এবং বিদেশী এসির মানে কোনো ফাঁরাক নেই। একটা সময় ছিল যখন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর আধিপত্য ছিল। সে দৃশ্য পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন এসির বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশই স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর দখলে। বাকি ৩০ শতাংশ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর অস্তিত্বও অনেকটা শহরকেন্দ্রিক। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো এখন আমাদের দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে বেশ সংগ্রাম করে টিকে আছে বলা চলে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো শুধু নামের কারণে আমাদের দেশের গ্রাহকের কাছ থেকে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেয়।
এসি রফতানিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কেমন?
সম্ভাবনা খুবই ভালো। তবে আমার মনে হয়, বাংলাদেশের একটা বড় বাজার এখনো আনটেপড আছে। পাশাপাশি এরই মধ্যে ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকায় আমরা আমাদের পণ্য রফতানি করছি। বিশেষ করে আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের পণ্য বেশ প্রভাব বিস্তার করেছে। তাই সরকারি নীতিসহায়তা এবং কিছু সুযোগ-সুবিধা যদি প্রদান করা হয় বাংলাদেশের এসির বাজার আরো বেশি বৃদ্ধি পাবে ।
এসি বিস্ফোরণ নিয়ে এখন ক্রেতাদের একটা দুশ্চিন্তা দেখা যায়। এ রকম দুর্ঘটনা কেন হয়? এড়ানোর জন্য কী পরামর্শ দেবেন?
এসি বিস্ফোরণ কখনই এসি থেকে হয় না। কেবল কানেকশনের অসংগতির কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। শুধু এসি নয়, যেকোনো ইলেকট্রনিকস পণ্যেরই রক্ষণাবেক্ষণ খুব জরুরি। তা না হলে দুর্ঘটনা ঘটবেই।
এই গ্রীষ্মের গরমে এসি কিনতে ক্রেতাদের জন্য আপনারা কোনো বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন কি?
গ্রাহকের জন্য সামার ফেস্ট নামে আমাদের একটি অফার চলছে। এই অফারে এসি কিনলে গ্রাহক সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত নগদ ছাড় পাবেন। এর বাইরে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমাদের চলছে ডাবল খুশি অফার। এই অফারে যমুনার পণ্যে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবে গ্রাহক। ভাগ্যবান গ্রাহক পাবেন মোটরসাইকেল, এসি, টিভিসহ অন্য
যেকোনো পুরস্কার।
গ্রাহকদের উদ্দেশে কিছু বলতে চাইলে...
পথচলার প্রথম দিন থেকেই যমুনা ইলেকট্রনিকস গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মানসম্মত পণ্য হাতে পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমার বিশ্বাস, ইলেকট্রনিকস ইন্ডাস্ট্রিতে আমাদের পথচলা ১০ বছরের হলেও উন্নত মানের পণ্য এবং গ্রাহক সেবা দিয়ে আমরা গ্রাহকদের মনে জায়গা করে নিতে পেরেছি।
সেই সঙ্গে গ্রাহকদের আরো বলতে চাই, এসি কেনার সময় অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন এসিটি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী কিনা, আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী কিনা, এসিটা আপনার ঘরের জন্য আরামদায়ক কিনা এবং অবশ্য এসিটি নো সার্ভিস কমপ্লেইন সমৃদ্ধ কিনা। আপনি যদি এ চারটি জিনিস মাথায় রেখে এসি কিনতে চান তবে অবশ্যই যমুনা এসি আপনাকে সব সুবিধা নিশ্চিত করবে। এসি কিনতে গ্রাহক বেস্ট প্রাইসে দেশের সেরা ব্র্যান্ড যমুনা থেকে এসি কিনতে পারেন।





