নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তদের দারিদ্র্য কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হয়ে উঠছে ঋণ ও যোগাযোগের অভাব। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত প্রথম ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিন গতকালের প্রথম সেশনে ‘বিয়িং নিউ পুওর ইন বাংলাদেশ: কোপিং স্ট্র্যাটেজিস, কনস্ট্রেইনটস অ্যান্ড ট্রাজেক্টরিস’ শীর্ষক প্রবন্ধে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। ওই সেশনে করোনা-পরবর্তী দারিদ্র্যের শিকার পরিবারগুলো কীভাবে দারিদ্র্য কাটিয়ে উঠছে, কোন কোন বিষয় বাধা হয়ে উঠছে এবং এসব বাধা কাটিয়ে উঠতে করণীয় কী—এসব বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ ও বণিক বার্তার যৌথ উদ্যোগে ‘পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে উন্নয়নের পথ অনুসন্ধান’ প্রতিপাদ্যে দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। গতকাল নয়টি সেশনে ৩০টির বেশি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন দেশী-বিদেশী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তৈয়াবুর রহমানের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে মোট চারটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ড. আসাদুজ্জামান ‘সোশিও ইকোনমিক মাইগ্রেশন অ্যান্ড লোকাল লেভেল অ্যাডপশন টু ক্লাইমেট চেঞ্জ, দ্য কেস অব মান্টা/বেদে কমিউনিটি ইন জোড়াখাল’, ড. এ কে এম আহসান উল্লাহ ‘আনট্যাপড পটেনশিয়াল অব বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ইন সাউথ এশিয়া গভর্ন্যান্স ডেফিসিয়েন্সিস অ্যান্ড দ্য রিভার্স ডেভেলপমেন্ট’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. লিপন মন্ডল ‘দ্য ভায়োলেন্ট লজিক অব ডেভেলপমেন্ট ইন দ্য গ্লোবাল সাউথ: এ কেস অব নিওলিবারেল বাংলাদেশ’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেশনটিতে আলোচক হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম সাইফুল ইসলাম।

‘পাথওয়ে টু ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেশনের চেয়ার ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। এ সেশনের আলোচক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদা সি খান, ভারতের নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইকোনমিক স্টাডিজ অ্যান্ড প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক ড. বিকাশ রাওয়াল। এ সেশনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা তিনটি একক ও একটি যৌথ গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।

‘পাথওয়ে টু রেজিলিয়েন্ট আরবান ফিউচার’ শীর্ষক সেশনের চেয়ার ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের গ্লোবাল স্টাডিজ অ্যান্ড গভর্নমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ হুসাইন। ‘সাসটেইনেবল অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ফিউচার’ সেশনের চেয়ার ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। ‘পাথওয়ে টু ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেশনে চেয়ার হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. তাসনিম আরিফা সিদ্দিকী। ‘পাথওয়ে টু জেন্ডার ইনক্লুসিভ সোসাইটি’ শীর্ষক সেশনে চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। ‘পাথওয়ে টু ডিজিটাল অ্যান্ড সোশ্যাল ট্রান্সফরমেশন’ শীর্ষক সেশনের চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) পরিচালক ড. বিনায়ক সেন।