‘ব্যবসায়ী হিসেবে ত্রুটি আমার নেই তা বলব না, তবে পুুকুর চুরি আমি করিনি’— সেখ আকিজের এমন আত্মবিশ্লেষণ ব্যক্ত করেন তাঁর ব্যবসায় সাম্রাজ্যের কর্ণধার তৃতীয় স্ত্রীর দ্বিতীয় পুত্র সেখ বশির উদ্দিন। ত্রুটি-বিচ্যুতি, এমনকি পতন থেকে উত্থানের শিক্ষা লাভ তাঁর রক্তে-মাংসেই জড়িয়ে ছিল অবলীলায়। যেমন করে ধরাধামের প্রতিটি প্রাণী বেঁচে থাকে সাবলীল ধারায়। মিছে বোধ সহসাই মিছামিছি— নিজের কাছেই নিজেকে হারানো। তেমনি জগৎ জয় করার অদম্য সাহস ছিল যার বুকজুড়ে, সে কি কইবে মিছে কথা নিজেরে নিয়ে!
৭৭টি বছর পাড়ি দিয়েছেন। আকাশকুসুম স্বপ্ন আর হারানোর খেদ নিয়ে নয়, বরং এক মনে একই ছন্দে তিনি নিজের কাজটি নিজের মতো করেছেন। ৬৮ বছর কেটেছে ব্যবসায়। বাকি সময়টা মায়ের কোলে বা খোলাটে তল্লাটে খেলাধুলা করে। পাছে লোকের কিছু কথা ছিল। এখনো আছে। তবে ওকথা অজান্তেই পরাজিত হয়, যখন সাফল্য ছুঁয়ে যায় সমাজমনে।
দিনটা ছিল পড়ন্ত। সেদিন আমি বেজেরডাঙ্গার মতো অজানা পাড়াগাঁয়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম সন্তর্পণে আকিজের জীবনকথা জানতে। বেজেরডাঙ্গা বাজার থেকে যে মহাপথটি ধেয়ে চলেছে খুলনার পানে, সে পথেই হাঁটছিলাম। অবশ্য হাইকিং কৌশলের মতো আমার কাছে কোনো হিন্টস, কম্পাস কিংবা লুকানো কোড ছিল না। যা হোক, বড় বড় বাস-ট্রাকের দাপাদাপির মাঝে আমি যেন আকিজের সেই পুরনো দিনের নীরবতায় নিসর্গ খুঁজে পাচ্ছিলাম মনে মনে। গোধূলির লাল রশ্মি তখন আমার মতো সবারই গালে লেগে ছিল। দেখলাম এক সাইনবোর্ডে লেখা— সেখ আকিজের কবর এই দিকে। আস্বস্ত হলাম, এই বুঝি ঠিকঠাক এসে পড়েছি। তবে মানুষের দেখা মেলা বড় দায়। পা বাড়িয়ে আরেকটু এগিয়েই দেখি কয়েকটি ফুলের নার্সারি। আমি ঢুকতেই দেখলাম, একজন বসে আছে এক টুমটুমি ছাউনির ধারে। ফুলের দামদর জানতে জানতে আকিজের কথা জানতে চাইলেই চুপিসারে কিছু বলতে চাইলেন তিনি গ্রাম্য চেহারায়। অনেক কেদের কথা বললেন। ওসব কথার মাঝে ব্যবসায়ী হিসেবে একজন আকিজের ত্রুটি খুঁজে পেলাম না। তবে আকিজের প্রতি তাচ্ছিল্য বোধ আর ঈর্ষার মলিন ছবি দেখলাম তার গাল-চোখে। যখন সে গড়গড়িয়ে বলছিলেন চাপা কণ্ঠে— কী ছিল তার, একখানি গর্ত, তার পাশে টুমিটুমি পাতার এক বসতছানি। এ হাল তার দারিদ্র্যের তুচ্ছতা বলেই আমায় অনুসন্ধিত্সু মনে ধরা দিল। যে তুচ্ছতাকে তিনি জয় করে হয়েছেন অনন্য। তবু শুনে চলেছিলাম তার কথা। একসময় লোকটি আমায় বলে ফেললেন, তাকে নিয়ে সমালোচনা, নিন্দা আর আমরা করি না; তিনি এখন নন্দিত।
১৭ টাকা থেকে যে তিনি শুরু করেছিলেন, তা নয়। তারও তিন বছর আগে থেকেই তার ব্যবসায় জীবনের ব্রত। চিরচেনা ব্রিটিশ আমলের দারিদ্র্যের কশাঘাতে আর মায়ের সহযোগিতায় তিনি চকোলেট, বাদামের ফেরিওয়ালা হয়েছিলেন। তখন তার নয় বছর বয়সের কচিবেলা। সেই থেকেই তার শুরু। বাবার কলা-কচুর ব্যবসায় তিনি ছিলেন ছায়ার মতো একটি প্রাণ। সহযোগী হিসেবে যা-ই হোক, বাবার সাহস আর প্রেরণায় ছিলেন শিশু আকিজ এক নিষ্পাপ সঙ্গী। সাত-আট বছরের আকিজ বাবার ঘাড়ে ঝুলানো পণ্যবাহী বাঁকের এক ঝুড়িতে বসে থাকতেন, আরেক ঝুড়িতে থাকত কলা-কচু। সেই ছন্দ হয়তো তার হূদমাঝারে ঝোঁক বেঁধেছিল। তাই বাবার ইচ্ছা সত্ত্বেও পড়ালেখায় তিনি মন বসাতে পারেননি। বিদ্যালয়ে যাওয়া তার হয়নি। পাঠশালায় তিনি ছিলেন অনিয়মিত। ১০ দিন মাঠঘাট আর তল্লাটে খেলাধুলায় কাটলে, হয়তো একদিন তিনি পাঠশালায় যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করতেন। দারিদ্র্যের ভারে নেতিয়ে পড়া কুঁড়েঘর থেকে পা বাড়ালেই আঁকাবাঁকা পাড়াপথের পরই ছিল ফসলি মাঠের শুভ্রতা। তার পর ঝমাঝম রেলপথ। গোলগাল ছোট্ট আকিজ বেজেরডাঙ্গার এই রেলস্টেশনেই ফেরি করার সুযোগ পেয়েছিলেন। রেলের মতো উনিশ শতকের এ আধুনিকতার ছোঁয়ায় তখন আকিজ কৃষিকাজের প্রতি মন হারিয়েছিলেন। ভারত-বাংলাদেশ ছিল তখন এক দেশ— এক ভুঁই। তেঁতুল, আচার কিংবা মাছ নিয়ে তিনি কলকাতা যেতেন। সেখান থেকে চকোলেট, বিস্কুটের ফেরি নিয়ে গ্রামে ফিরতেন। চাকরিও তিনি করেছেন বটে; কখনো অন্যের হয়ে কাজ করেননি, এমনটি বলার নয়। তিনি ঈশ্বর মাস্টারের সহযোগিতায় রেলের ঘণ্টাধ্বনি বাজানোর কাজ করেছেন কিছুদিন। সেই থেকে অর্জিত টাকায় বাবার পরামর্শে ডাবের ব্যবসা শুরু করেন। এর পর ১৭ টাকার পুঁজি নিয়ে রেলপথে পাড়ি জমান দমদম স্টেশনে। সেই সন্ধ্যার ক্ষণে তিনি মা লালমতি আর বাবা মফিজ উদ্দিনের উদর ছিঁড়ে জোনাকির আলোয় ঝিঁঝিঁ পোকার দলে মিলেছিলেন। আলো আর অস্থিরতা দুইই ছিল সেই বনে। নিভু নিভু ছোট ক্ষুদ্র জোনাকির আলোগুলো আজ সারা দেশের লাখ পাঁচ পরিবারে আলো জ্বালিয়েছে। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক পরের চারটি বছর অবধি মা-বাবার ঘুম ভাঙিয়েছিল। সেই অস্থিরতার দিন শেষ হলো যখন পাগলপ্রায় মুমূর্ষু মা-বাবার ঘরে চার বছর পর কলকাতা-পেশোয়ারের বাণিজ্য শেষে তিনি ফিরে এলেন।
দেশভাগের সময়ের কথা। বাবা মারা গেলেন। মাও গেলেন। তিনি বিয়ে করে ঘরজামাই হলেন। শ্বশুরের কৃষিকাজে তিনি মন দিলেন না। স্ত্রীর বাবার বাঁধ ভেঙে শুরু করেন টুমটুমি দোকানে রকমারি ব্যবসা। সেই থেকেই তার স্থায়ী ব্যবসার শুরু। সমাজ-সংসারের অন্তরায় ছিল ক্ষণে ক্ষণে আক্ষেপের, আবার ক্ষণে ক্ষণে আরো ভয়ার্ত-লোমহর্ষক। গ্রাম-সমাজের লোলুপচারীরা দোকানের মধ্যে ঘুমন্ত সেখ আকিজকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি কপাট ভেঙে বেরিয়ে এসে প্রাণে বেঁচেছিলেন। এর পর আবার নতুন করে বন্ধু লোকদের সহায়তায় দোকান শুরু করেন। ভয় পাওয়ার পাত্র তিনি ছিলেন না। কিন্তু ষড়যন্ত্রের শিকার হলে তিনি যে মানুষের মনুষত্বের প্রতি দারুণ অভিমান করে বসতেন, তার প্রমাণ মেলে। কলকাতায় নিলামবালার ফেরি ব্যবসার সময় কুজনের ঈর্ষার শিকার হয়ে তিনি পাঁচদিন কারাবরণ করতে বাধ্য হন। তার পর তিনি চরম মনঃকষ্ট আর অভিমানে কলকাতা ছেড়ে পেশোয়ারের দিকে পা বাড়ান। একইভাবে গ্রামের অসজ্জনেরা যখন তাকে পুড়িয়ে মারার ষড়যন্ত্র করে, তখনো তিনি সমাজ জীবনের প্রতি চরম অভিমান আর আক্ষেপে অনেকটি দিন অবধি বাড়ি থেকে বের হননি। তবুও তিনি থেমে থাকেননি। নাভারণের বিড়ি ফ্যাক্টরি চালু করতে গিয়েও গ্রাম্য কূটচালের শিকার হয়েছিলেন। এ ষড়যন্ত্রগুলোই তাকে সমাজে স্থান করে দিয়েছিল। কেননা তিনি ছিলেন মিষ্টভাষী-সদালাপি। তাছাড়া নাভারণের দুস্থ নারী-পুরুষের কর্মস্থলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন তিনি। এ মেহনতি জনতাই তাকে সমর্থন জুগিয়েছেন।
নাভারণের এক মুদি দোকানি, তিনি আকিজের প্রথম দিকের বিড়ি শ্রমিক। গল্পের এক কোণে আজকের বিশাল আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরির দিকে উদাস মনে তাকিয়ে বলেন, মজুরি ছিল খুবই কম। তবুও তা-ই ছিল আমাদের জন্য আশীর্বাদ। আমরা সেই সুযোগ ছাড়তে চাইনি কখনো। ওই সময়টা ছিল আগুন লাগা।
চারদিকে গ্রাম উন্নয়নের হিড়িক। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছুটে চলেছিলেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তর। একবার আকিজের বিড়ি ফ্যাক্টরির সামনে দিয়ে তিনি খাল খননে যাচ্ছিলেন। প্রত্যুত্পন্নমতি আকিজ শ্রমিকদের হাতে বিড়ির ডালা দিয়ে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দেন। তাতে জিয়াউর রহমানের পথ আটকে যায়। জিয়াউর রহমান বেরিয়ে এলে তিনি এক কাপ চায়ের নিমন্ত্রণ জানান। জিয়াউর রহমান গ্রহণ করেন এবং তার ক্ষুদ্র কুটির শিল্প ঘুরে দেখেন। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে দেখে জিয়াউর রহমানের মন ভোরে ওঠে। আকিজকে তাই সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
ব্যবসার সুবাদে তিনি সীমান্তপথে কাঁচামাল এনেছেন। ব্রিটিশ, পাকিস্তান, বাংলাদেশ তিনটি রাজনৈতিক বাতাবরণে তিনি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রতিবেশের উচাটন সহ্য করেই তিনি ব্যবসা চালিয়েছেন। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তার ত্রুটি ছিল, নিন্দুকেরা তা বলে। আকিজ নিজেও ব্যবসাজীবনের ত্রুটি মেনে নিয়েছেন। তবে নাভারণের মানুষের চোখে তা দোষের নয়। বেজেরডাঙ্গাবাসীও তাকে আর ‘ব্ল্যাক’ ব্যবসায়ী বলে কিংবা তার দারিদ্র্যের তুচ্ছতা চিবিয়ে মজা পান না। ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা থাকে, তারও ছিল। যশোরের গুটি কয়েকের অভিযোগ ছিল, তার কারণে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসেছেন। তবে কোনো ব্যবসায়ী বন্ধু বা সহযোদ্ধাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন, এমন প্রমাণ মেলেনি। এমনকি তার কাছে যে মধ্যস্বত্বভোগীরা তামাক বিক্রি করেছেন, তাদের অনেকের সাথে আমার কথা হয়েছে। কেউ তার কাছ থেকে প্রতারিত হয়েছে বলেননি। নাভারণে এমনও কিছু বৃদ্ধ শ্রমিকের সাথে কথা হয়েছে, তারা যেন সেখ আকিজের জন্য জীবন বাজি রাখতে জানে। সেই শ্রমিকেরাই বলেছেন, ছোটবেলা থেকেই তার জীবন ছিল সংগ্রামের; এই রেলের ছাদ থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে পড়েছেন। কেননা দিনগুলো ছিল তখন চরম অস্থির: ব্যবসা টিকিয়ে রাখা; সরকারি বিধিনিষেধ; আবার দুষ্ট লোকের হয়রানি। বেজেরডাঙ্গার তার এক বন্ধু বলেছেন, তার পিঠে অনেক কাটার দাগ ছিল। সেই সংগ্রামী জীবনে তিনি বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পর আর সীমান্ত পাড়ি দিয়েছেন বলে জানা যায় না। এমনটিই বলেন তার প্রথম দিকের শ্রমিকরা। এ কষ্টের জীবন পাড়ি দিয়ে তিল তিল করে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশকে সর্বোচ্চ কর পরিশোধ করছে। কোটি মানুষ এ প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।
ব্যবস্থাপক হিসেবে তিনি ছিলেন প্রশংসনীয়। ব্যবসা থেকে পরিবার কোথাও তার ব্যবস্থাপনা নীতির জুড়ি নেই। তিনি ছিলেন নিজের কাজে সৃজনশীল। বিপণনকে তিনি তার ব্যবসায় বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রথম জীবনে তিনি নিজেকেই বিপণনে আত্মনিয়োগ করেন। তাছাড়া বিপণন ব্যবস্থায় তিনি বিশেষ কিছু কৌশল অবলম্বন করতেন। বন্যার সময় অন্যান্য কোম্পানির পণ্য দুর্গত এলাকায় পৌঁছে না। কিন্তু তিনি কর্মকর্তাদের ডেকে বলতেন, এ সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে। অতিরিক্ত খরচ হলেও সেখানে পণ্য পৌঁছাতে হবে। তাতে সামাজিক দায় মিটবে, একই সাথে আকিজ ব্র্যান্ডের পরিচিত বাড়বে। এমনকি এককভাবে বিপণন করা সম্ভব হবে। তিনিই প্রথম বাংলাদেশে রেডিওতে পণ্যের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা চালু করনে। তার গাড়ির গায়ে আকিজ বিড়ির বিজ্ঞাপন সেঁটে দিয়েছিলেন। আশির দশকেই তার ব্যবসা যখন যশোরকেন্দ্রিক, তখনই তিনি বিপণনে প্রতিনিধি নিয়োগ করেন। তার আগে তিনি নিজে জেলা থেকে জেলা, বাজার থেকে বাজার বিপণন করেছেন।
‘মালিক হবে গরিব আর প্রতিষ্ঠান হবে ধনী’— এ নীতিতে তিনি ব্যবসা করতেন। এ সূত্রে তিনি যেকোনো ব্যবসায় প্রকল্প হাতে নিয়ে তার মালিকানায় সন্তানদের অংশীদার করেছেন। আর নিজের অংশ রেখেছেন কম। কোম্পানি থেকে তিনি বেতন নিয়েছেন। তার বেতনের চেয়ে অনেক কর্মকর্তার বেতন ছিল বেশি। সাংসারিক প্রয়োজনে খরচের টাকাও তিনি কোম্পানির অ্যাকাউন্টের বাইরে করেননি। সবকিছুর নথি থাকত।
তিনি ব্যবসায় সম্রাজ্যের গোড়াপত্তনে যেমন ছিলেন উদ্ভাবনী গুণে অনন্য, তেমনি তিনজন স্ত্রীর সংসারে ছিলেন দৃঢ়চেতা। সন্তান লালন-পালনে ব্যবসায়িক ব্যস্ততা তার বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বিত্ত-বৈভবের মধ্যে থেকেও সন্তানরা সাদামাটা জীবন পার করেছেন। একটি কৃত্রিম সংকট তিনি সৃষ্টি করে রাখতেন। দিনে দিনে সন্তানদের একেকজনকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলেছেন। তার ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে যাকে যে জায়গায় কাজে লাগানো যায়, সেই জায়গায় কাজে লাগিয়েছেন। তাই তার অনুপস্থিতিতে আজো এ বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের কোনো অধঃপতন লক্ষ করা যায়নি। বরং একটি নিয়মিত ধারায় তা এগিয়ে চলেছে। বিড়ি থেকে শুরু করে দিয়াশলাই, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, সিমেন্ট, টোব্যাকো, টেক্সটাইল, পার্টিকেল বোর্ডসহ ১৫টি ক্যাটাগরিতে তারা ব্যবসা করছে। গত বছর এ গ্রুপ অব কোম্পানির রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ৩ লাখ ২ হাজার লোক এখানে কাজ করছেন।
ফেরিওয়ালা থেকে সেখ আকিজের এ সংগ্রামী জীবন আজ শিল্পশক্তিতে পরিণত হয়েছে। আজ তিনি তুচ্ছতা আর নিন্দাকে ছাপিয়ে নন্দিত জীবনের অমরত্ব লাভ করেছেন।
লেখক: গবেষক






