রেগুলেটরি বডির প্রয়োজন অনুযায়ী মূলধনের পর্যাপ্ততা, সলভেন্সি মার্জিন এবং ঝুঁকি বহনের সক্ষমতা। দাবি বা ক্লেইম পরিশোধের সক্ষমতা। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল ভালো রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। কোম্পানির বিনিয়োগ ২০১৯ সালের বিনিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ করে ডাইভারসিফিকেশন পোর্টফোলিও করা হয়েছে। তারল্য সক্ষমতা অর্থাৎ দ্রুত নগদ অর্থের ব্যবস্থা করে দায় পরিশোধ করা। পরিচালনা পর্ষদের দক্ষতা, স্বচ্ছতা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলা। ইন্স্যুরেন্স ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কোম্পানির অবস্থান যথা প্রিমিয়াম আয়, মোট দাবি পরিশোধ, মোট বিনিয়োগ এবং ব্যবসার বৈচিত্র্য বিবেচনা করা। Laps ratio-এর ধারাবাহিক উন্নতি।
রেটিং ধরে রাখা কি অর্জনের চেয়ে বেশি কঠিন? এক্ষেত্রে আপনার প্রতিষ্ঠানের কৌশল কী?
কোনো কোম্পানি বা বীমা প্রতিষ্ঠান একবার ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে, যেমন পর্যাপ্ত মূলধন, ভালো লভ্যাংশ ইতিহাস ইত্যাদি বিবেচনা করে সর্বোচ্চ রেটিং পেতে পারে। কিন্তু সামষ্টিক অর্থনৈতিক মন্দা, বাজারের পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে তা ধরে রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। রেটিং সংস্থাগুলো প্রতিনিয়ত এর কঠোর তদারকি করে, তাই সামান্য অবহেলাতেই রেটিং কমে যেতে পারে।
ট্রিপল এ রেটিং দীর্ঘমেয়াদি ধরে রাখার মূল কৌশল হলো আর্থিক স্থিতিশীলতা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এটি ধরে রাখার জন্য নিম্নোক্ত কৌশল অনুসরণ করা হয়—পর্যাপ্ত মূলধন ও তারল্য সম্পদ বজায় রাখা, কঠোর আন্ডাররাইটিং ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করে লস রেশিও সবসময় সর্বনিম্ন ও লাভজনক সীমায় থাকা, বিনিয়োগ বৈচিত্র্যকরণ, সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলা, সুশাসন ও ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনা।
রেটিং এজেন্সি কোন কোন সূচক বিবেচনা করে আপনাদের ট্রিপল এ রেটিং দিয়েছে?
ক্রেডিট রেটিং সিআরএবি নিম্নলিখিত সূচকগুলো বিবেচনা করে আমাদের ট্রিপল এ রেটিং দিয়েছে: বিনিয়োগ আয়, তারল্য ও মূলধনের সক্ষমতা; রেগুলেটরি রিকয়ারমেন্ট অনুযায়ী মূলধনের সক্ষমতা; প্রিমিয়াম আয় ও বিনিয়োগ আয় অর্জনের হার; দাবি পরিশোধের সক্ষমতা; অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ; পরিচালনা পর্ষদের দক্ষতা, স্বচ্ছতা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলা ইত্যাদি। আদর্শ মান মেনে ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট তৈরি করা।
এ রেটিং সাধারণ পলিসিধারী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা বহন করে?
ট্রিপল এ ক্রেডিট রেটিং কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতার স্বীকৃতি নির্দেশ করে যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ঝুঁকি বহনের সক্ষমতা পর্যাপ্ত এবং দাবি পরিশোধে অধিক সক্ষম।
পলিসিহোল্ডারদের জন্য বার্তা: দাবি পূরণের শতভাগ নিশ্চয়তা, মানসিক প্রশান্তি।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা: মূলধন লভ্যাংশের নিরাপত্তা, বিনিয়োগ থেকে আয়।
ট্রিপল এ রেটিং আপনার প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সম্প্রসারণ, করপোরেট গ্রাহক আকর্ষণ বা আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে কী ধরনের সুবিধা দিচ্ছে?
একটি বীমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যখন ট্রিপল এ ক্রেডিট রেটিং অর্জন করে তখন এটি আর্থিক সক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্যতায় সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নির্দেশ করে। ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব ও করপোরেট গ্রাহক আকর্ষণের ক্ষেত্রে এ রেটিং একটি প্রতিষ্ঠানকে অনন্য কৌশলগত সুবিধা দেয়।
সলভেন্সি মার্জিন, মূলধন পর্যাপ্ততা ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় আপনার প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থান কী?
সলভেন্সি মার্জিন, মূলধন পর্যাপ্ততা ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির বর্তমান অবস্থা নিম্নরূপ:
সলভেন্সি মার্জিন: সলভেন্সি মার্জিন হলো কোনো বীমা কোম্পানির মোট সম্পদ থেকে তার মোট দায়ের পরিমাণের ব্যবধান। যা কোম্পানির অপ্রত্যাশিত আপৎকালীন দাবি পরিশোধের সক্ষমতা নির্দেশ করে। ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২০২৫ সালের Acturial Valuation report অনুযায়ী, দায় ৬ হাজার ৩৯৯ কোটি ও প্রভিশন দায় ৭৭২ কোটি টাকাসহ মোট দায় ৭ হাজার ১৭১ কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী মোট সম্পদের পরিমাণ ৭ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা, যা অপ্রত্যাশিত আপৎকালীন দায় পরিশোধে সক্ষম।
মূলধনের পর্যাপ্ততা: লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ন্যূনতম পেইডআপ ক্যাপিটাল ৩০ কোটি টাকা। ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির পরিশোধিত মূলধন ১০৮ কোটি টাকা।
তারল্য ব্যবস্থাপনা: গ্রাহকদের দাবি যথা সময়ে পরিশোধ করার জন্য তারল্য বা লিকুইডিটি বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। ওই তারল্য বজায় রাখার জন্য কোম্পানি বিনিয়োগ নীতিমালা ২০১৯ অনুযায়ী বিনিয়োগ করে তারল্য ব্যবস্থাপনা করে থাকে।
বর্তমানে বীমা খাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী বলে আপনি মনে করেন?
বাংলাদেশের বীমা খাতের সবচেয়ে ঝুঁকি ও সংকট গ্রাহকের আস্থার চরম সংকট, যা মূলত সময়মতো বীমা দাবি নিষ্পত্তি না করার জন্য দীর্ঘস্থায়ী ব্যর্থতা থেকে তৈরি হয়েছে।
এ ঝুঁকির পেছনে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে—দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা, আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও তারল্য সংকট, সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতি, ডিজিটালাইজেশনের অভাব বা অপর্যাপ্ততা, বিনিয়োগ নীতিমালা ২০১৯ অনুসরণ না করা ও Regulatory Bodies Law মেনে না চলা।










