আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগামী কয়েক দশকে বিশ্বে এয়ার কন্ডিশনারের সংখ্যা কয়েক বিলিয়নে পৌঁছতে পারে। শীতলীকরণ ব্যবস্থা এখন শুধু আরাম বা বিলাসের বিষয় নয়; এটি স্বাস্থ্য, কর্মক্ষমতা ও নগরজীবনের একটি অপরিহার্য অবকাঠামোয় পরিণত হচ্ছে। একই সঙ্গে এয়ার কন্ডিশনিং খাতকে ঘিরে বড় একটি পরিবেশগত প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবহার, রেফ্রিজারেন্ট গ্যাসের নিঃসরণ এবং তাপ বিকিরণের কারণে এ খাত দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত। এ বাস্তবতার মধ্যেই বিশ্বজুড়ে এয়ার কন্ডিশনিং শিল্প ধীরে ধীরে একটি নতুন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, পরিবেশগত নীতিমালা এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার সমন্বয়ে শিল্পটি এখন কম বা শূন্য কার্বন ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। যে প্রযুক্তি একসময় জলবায়ু সমস্যার অংশ হিসেবে দেখা হতো, সেটিকেই এখন টেকসই উন্নয়নের অংশে রূপান্তর করার প্রচেষ্টা চলছে।
এ বৈশ্বিক রূপান্তরের ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশের বাজারেও। দেশে এসির চাহিদা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনকারীরা এখন আর শুধু শীতলীকরণ ক্ষমতা বা দামের প্রতিযোগিতায় আটকে নেই। কম বিদ্যুৎ খরচ, তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর রেফ্রিজারেন্ট, উন্নত এয়ার ফিল্টারেশন এবং টেকসই উৎপাদনের বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসছে। স্থানীয় কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তি, স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করে নতুন মডেল আনছে। অর্থাৎ বৈশ্বিক সবুজ প্রযুক্তির যে ধারা এসি শিল্পকে নতুন দিকে নিচ্ছে, বাংলাদেশের বাজারও ধীরে ধীরে সেই একই পরিবেশ-সচেতন রূপান্তরের পথে হাঁটছে।
বৈশ্বিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ শিল্পে পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিকে ‘জিরো কার্বন’ বা পরিবেশবান্ধব পথে নিতে এখন দুটি বড় পরিবর্তন সামনে এসেছে—রেফ্রিজারেন্ট বদল এবং সার্কুলার ইকোনমি বা রিসাইক্লিংভিত্তিক উৎপাদন। সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র রেফ্রিজারেন্ট প্রযুক্তির পরিবর্তন। অতীতে ব্যবহৃত অনেক রেফ্রিজারেন্টের গ্লোবাল ওয়ার্মিং পটেনশিয়াল (জিডব্লিউপি) অত্যন্ত বেশি ছিল, যা জলবায়ু পরিবর্তনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখত। এখন শিল্পটি ধীরে ধীরে কম জিডব্লিউপি-যুক্ত বিকল্প রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে আর-৩২ রেফ্রিজারেন্ট উল্লেখযোগ্য, যার কারণে ওজোন স্তরে ক্ষয়ের আশঙ্কা শূন্য এবং এর জিডব্লিউপি তুলনামূলকভাবে কম। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক রেফ্রিজারেন্ট যেমন আর-২৯০ (প্রোপেন), আর-৭১৭ (অ্যামোনিয়া) এবং আর-৭৪৪ (কার্বন ডাই-অক্সাইড) ব্যবহারের দিকেও গুরুত্ব বাড়ছে। যদিও এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণের মতো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবু পরিবেশগত দিক থেকে এগুলোকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আর সার্কুলার ইকোনমি মডেলে এসির কপার, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিক অংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্যভাবে নকশা করা হয়, ব্যবহারের পর ভাঙা-পুরনো যন্ত্রাংশ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা হয়। এতে নতুন কাঁচামাল উত্তোলন ও বর্জ্য কমে, ফলে শিল্পটির সামগ্রিক পরিবেশগত চাপও হালকা হয়।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় সক্ষমতা বাড়ানো এসি শিল্পের সবুজ রূপান্তরের আরেকটি বড় ক্ষেত্র। এসির ব্যবহারকালে বিদ্যুৎ খরচ পরিবেশগত প্রভাবের প্রধান উৎস। তাই উৎপাদনকারীরা শক্তিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। ইনভার্টার প্রযুক্তি, স্মার্ট সেন্সর এবং ডিমান্ড রেসপন্স সিস্টেমের মতো উদ্ভাবন বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করছে। এসব প্রযুক্তি বিদ্যুতের চাহিদা পরিস্থিতি অনুযায়ী সমন্বয় করতে পারে, ফলে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার কমে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পায়।
এছাড়া টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থাও এসি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে উৎপাদন ও বিতরণ—পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলকে পরিবেশবান্ধব করার চেষ্টা চলছে। এতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো, পরিবহন দূরত্ব হ্রাস করা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বর্জ্য কমানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
এ বৈশ্বিক রূপান্তরের প্রভাব এখন বাংলাদেশের এসি শিল্পেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কয়েক বছর আগেও দেশের বাজারে এয়ার কন্ডিশনার মূলত আমদানিনির্ভর ছিল এবং এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল বড় করপোরেট অফিস, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শোরুম কিংবা উচ্চ আয়ের পরিবারের মধ্যে। কিন্তু গত এক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ, আবাসন খাতের সম্প্রসারণ এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে দেশে এসির চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। ফলে এ খাতে স্থানীয় উৎপাদনও দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারের প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশ এসিই দেশীয় কারখানায় উৎপাদিত বা সংযোজিত হচ্ছে।
এ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের এসি শিল্প শুধু বাজার সম্প্রসারণের দিকেই এগোচ্ছে না, বরং বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধীরে ধীরে আরো দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকেও অগ্রসর হচ্ছে। স্থানীয় উৎপাদকরা এখন শক্তিসাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তি, উন্নত কম্প্রেসর এবং স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্ত নতুন মডেল বাজারে আনছে, যা তুলনামূলকভাবে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। একই সঙ্গে কম জিডব্লিউপি-যুক্ত রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে।
বাংলাদেশে ভিশন ব্র্যান্ডের এসি বাজারজাত করছে আরএফএল গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রথীন্দ্র নাথ পাল (আরএন পাল) বলেন, ‘আমরা সবসময় প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে অগ্রাধিকার দিই। আমাদের সর্বশেষ মডেলগুলোয় উন্নত ডুয়াল ইনভার্টার টেকনোলজি, যা বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করে; পরিবেশবান্ধব আর-৩২ রেফ্রিজারেন্ট; দ্রুত কুলিং সুবিধা এবং উন্নত এয়ার পিউরিফিকেশন ফিল্টার সংযোজন করা হয়েছে, যা আমাদের মডেলগুলোকে আরো নির্ভরযোগ্য করেছে।’
দেশে এসির বাজার নিয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের এসি বাজারের আকার এখন প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।
একসময় জাপান, কোরিয়া ও তাইওয়ান থেকে ব্র্যান্ডেড এসি পণ্য আসত দেশে। পরে চীন থেকে আমদানি বাড়ে। ২০০৪ সালে ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেড চীনের গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি নির্মাতা গ্রীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আমদানি করা যন্ত্রাংশ দিয়ে দেশে এসি সংযোজন শুরু করে। তখন মোট বাজার চাহিদা ছিল মাত্র ৩০ হাজার ইউনিট। এরপর অনেক আমদানিকারক খুচরা যন্ত্রাংশ এনে স্থানীয়ভাবে সংযোজন শুরু করে। ধীরে ধীরে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব কারখানাও গড়ে তোলে। দেশে বর্তমানে ওয়ালটন, যমুনা, মিনিস্টার-মাইওয়ান, ভিশন, ট্রান্সটেকের মতো স্থানীয় অনেক ব্র্যান্ডের এসি পাওয়া যাচ্ছে। অনেকে শুরুতে শুধু রেফ্রিজারেটর উৎপাদন করলেও বর্তমানে তাদের উৎপাদন তালিকায় এসিও যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে বিদেশী ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রী, হাইসেন্স, জেনারেল, সিঙ্গার, প্যানাসনিক, দাইকিন, এলজি, স্যামসাং, শার্প, তোশিবা ও হোয়ার্লপুল। এর মধ্যে বেশকিছু বিদেশী ব্র্যান্ডের এসিও এখন দেশীয় কারখানায় তৈরি হচ্ছে। এছাড়া কোম্পানিগুলো পরিবেশগত দিকও বেশ গুরুত্বসহ দেখছে।
ইলেক্ট্রো মার্ট গ্রুপ গ্রীর সঙ্গে প্রযুক্তি শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রী ব্র্যান্ডের এসি প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের পরিবেশে কার্বন নিঃসরণ মাত্রা শূন্য পর্যায়ে রাখতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণের প্রয়োজনে গ্রীর উদ্ভাবনী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আফছার।
তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গ্রী এসি শূন্য মাত্রার কার্বন নিঃসরণ ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির জন্য বৈশ্বিকভাবে সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। পরিবেশে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং টেকসই উন্নয়ন প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য গ্রীকে এ স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। বিগত ২০০১ থেকে একটানা বিশ্বে নাম্বার ওয়ান হিসেবে এসির বাজারের শীর্ষস্থান দখল করে আসছে গ্রী। “শূন্য কার্বন নিঃসরণ” প্রযুক্তির জন্য গ্লোবাল কুলিং পুরস্কার জিতেছে ব্যান্ডটি। এছাড়া গ্রী টানা দুবার বাংলাদেশের সুপার ব্র্যান্ডের স্বীকৃতি অর্জন করেছে।’
সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, ভারত, কেনিয়া, থাইল্যান্ডসহ বেশকিছু কার্যক্রম চালাচ্ছে সিক্সডব্লিউরিসার্চ নামে একটি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের এসির বাজার নিয়েও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সিক্সডব্লিউরিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে এসির বাজার ব্যাপক মাত্রায় সম্প্রসারিত হবে। এ সময় বাজার সম্প্রসারণের বার্ষিক গড় চক্রবৃদ্ধি হার (সিএজিআর) হবে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, বর্তমানে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে এসির বাজার আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।
আরেক হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশে এসি বিক্রি হয়েছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার ইউনিট। ২০২৪ সালের মধ্যেই তা প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। সে বছর বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ছয় লাখ ইউনিটে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৩০ হাজার ইউনিট। ২০২৫ সালের বিক্রি নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান এখনো সংকলিত আকারে পাওয়া যায়নি।
প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। ফলে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ও কম দূষণকারী মডেল বাজারে এসেছে। সব মিলিয়ে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, শক্তি দক্ষতা, পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনিং শিল্প ধীরে ধীরে একটি সবুজ ও কম কার্বন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে শীতলীকরণ প্রযুক্তির চাহিদা আরো বাড়বে। তাই বাংলাদেশের এসি শিল্পের সামনে যেমন বড় বাজারের সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও শক্তি দক্ষতার দিকে অগ্রসর হওয়ারও প্রয়োজন বাড়ছে। বৈশ্বিক সবুজ প্রযুক্তিপ্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন, জ্বালানি দক্ষতা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় টেকসই পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারলে দেশের এসি শিল্প একদিকে যেমন দ্রুত বিকাশ লাভ করবে, অন্যদিকে কম কার্বন অর্থনীতির অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।










