১৯৫৭ সালের ৩১ আগস্ট স্বাধীনতা অর্জনের পর ৬৯তম মালয়েশিয়ার জাতীয় দিবস উদযাপনের এ আয়োজনে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। একই সঙ্গে আজ আমরা মালয়েশিয়া প্রতিষ্ঠার ৬৩তম বার্ষিকীও উদযাপন করছি। ১৯৬৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সাবাহ ও সারাওয়াক মালয়েশিয়া ফেডারেশনে যুক্ত হয়ে মালয়েশিয়া প্রতিষ্ঠায় অংশ নেয়।

এ বছর আমাদের জাতীয় দিবস ও মালয়েশিয়া দিবস উদযাপনের প্রতিপাদ্য ‘মালয়েশিয়া মাদানি: কল্যাণ সবার জন্য’। এ প্রতিপাদ্য এমন একটি মালয়েশিয়া গড়ে তোলার আমাদের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, যেখানে অগ্রগতি শুধু অর্থনৈতিক অর্জনের মাধ্যমে পরিমাপ করা হবে না, বরং মানুষের জীবনে প্রকৃত কল্যাণ, অন্তর্ভুক্তি, ঐক্য ও অভিন্ন সমৃদ্ধির মাধ্যমে তা অনুভূত হবে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।’

নজরুলের এ বাণী আমাদের মনে করিয়ে দেয় জাতীয়তা, ভাষা, ধর্ম কিংবা সীমানা দিয়ে পরিচিত হওয়ার আগে আমরা সবাই প্রথমত মানুষ।

আর সম্ভবত এটিই বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বের সবচেয়ে গভীর ভিত্তি। আমাদের সম্পর্ক শুধু দুটি সরকারের মধ্যকার সম্পর্ক নয়। এটি দুই দেশের মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক, যা গড়ে উঠেছে জ্ঞান অর্জনের জন্য সীমানা পেরিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে, সুযোগ সৃষ্টি করা উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে, একে অন্যের সংস্কৃতি আবিষ্কার করা পর্যটকদের মাধ্যমে এবং সর্বোপরি, মালয়েশিয়ার উন্নয়নে নিজেদের শ্রম ও হৃদয় দিয়ে অবদান রাখা বাংলাদেশী প্রবাসীদের মাধ্যমে।

আজ আমরা শুধু একটি দেশের স্বাধীনতাই উদযাপন করছি না, বরং মানবিক মর্যাদা, বৈচিত্র্য, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের সেই চিরন্তন মূল্যবোধগুলোকেও উদযাপন করছি, যা আমাদের দুই দেশকে একসূত্রে যুক্ত করেছে।

আমি বাংলার আরেক মহান সন্তান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথাও স্মরণ করতে চাই।

রবীন্দ্রনাথের ‘গীতাঞ্জলি’তে রয়েছে, ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির।’

নজরুল আমাদের শিখিয়েছেন, স্বাধীনতা এমন একটি বিষয়, যা আমাদের সাহসের সঙ্গে রক্ষা করতে হবে এবং যার মধ্য দিয়ে মর্যাদা ও সাম্যের কথা উচ্চারিত হয়। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বজনীন মানবতা ও সম্প্রীতির কথা বলেছেন। দুটি কণ্ঠ, একটি মানবতা। তারা একে অন্যকে শ্রদ্ধা করতেন। রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে তার গীতিনাট্য ‘বসন্ত’ উৎসর্গ করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে নজরুল তার কাব্যগ্রন্থ ‘সঞ্চিতা’ রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেন। তাদের সম্পর্ক ছিল প্রজন্ম ও পার্থক্যের ঊর্ধ্বে পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আর সম্ভবত এখানেই সেই শিক্ষা নিহিত রয়েছে, যা মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারে। ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য আমাদের অভিন্ন হতে হবে না। সব বিষয়ে একমত না হলেও আমরা পরস্পরকে শ্রদ্ধা করতে পারি। আমাদের পার্থক্য আমাদের বন্ধুত্বকে বিভক্ত করবে না, বরং সমৃদ্ধ করবে।

মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এর আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ছিল অন্যতম। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর আমাদের সম্পর্ক একটি বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে। আর এ বছর আমরা এ সম্পর্কের একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক প্রত্যক্ষ করেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন।

আমি বিশ্বাস করি, এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সফর ছিল না। এটি ছিল একটি বার্তা। আস্থার বার্তা। আত্মবিশ্বাসের বার্তা এবং এমন একটি বার্তা যে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ একসঙ্গে আমাদের সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায় রচনা করতে চায়। দুই দেশের নেতারা আমাদের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে। অবশ্যই আমাদের অর্জন নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে থেমে থাকা উচিত নয়। এ কারণেই দুই দেশের নেতারা মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন, যার লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে আলোচনা শেষ করা। মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ যৌথ ব্যবসায়িক পরিষদ প্রতিষ্ঠাও দুই দেশের বেসরকারি খাতকে রূপান্তরমূলক নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য আরো শক্তিশালী একটি প্লাটফর্ম দেবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা নতুন কোনো বিষয় নয়। বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিমণ্ডলে আমাদের কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রবি বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। একইভাবে ইডটকো বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো খাতে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি তৈরি করেছে।

ভবিষ্যতের দিকে তাকালে আমরা প্রচলিত খাতের বাইরেও ব্যাপক সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। এর মধ্যে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, উন্নত উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, হজ ব্যবস্থাপনা, ইসলামী অর্থায়ন, কৃষি এবং অন্যান্য খাত। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের মতো কার্যকর প্লাটফর্মের মাধ্যমে আমরা দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ আরো জোরদার করতে এবং নতুন সুযোগ উন্মোচন করতে পারি।

এমন একটি বিষয় রয়েছে, যা কোনো সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। সেটি হলো মানবিক সংযোগ। মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী প্রবাসী রয়েছেন, যারা মালয়েশিয়া গঠনে অবদান রেখেছেন। এ সেতুবন্ধ শিক্ষার ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশী শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করছেন। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরাও বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন।

পর্যটনও আমাদের দুই দেশের মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ। ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬ ও ২০২৭ উপলক্ষে, আমাদের আইকনিক পর্যটন ব্র্যান্ড ‘মালয়েশিয়া ট্রুলি এশিয়া’-এর আওতায় আমি আপনাদের সবাইকে মালয়েশিয়া সফরের জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এ বছরের প্রচারণায় আমাদের সরকারি মাসকট মালয়ান সান বিয়ার উইরা ও মানজাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বন্যপ্রাণী সুরক্ষা, টেকসই পর্যটন এবং অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত গন্তব্যগুলো আবিষ্কারে পর্যটকদের উৎসাহিত করার প্রতি মালয়েশিয়ার অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে।

আর ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরে যাতায়াতও আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস, এয়ারএশিয়া ও বাটিক এয়ার ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের মধ্যে সুবিধাজনক বিমান যোগাযোগ নিশ্চিত করছে।

মালয়েশিয়া ইয়ার অব মেডিকেল ট্যুরিজম ২০২৬-এর (এমওয়াইএমটি ২০২৬) আওতায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশীদেরও মালয়েশিয়া স্বাগত জানাচ্ছে। ‘হিলিং মিটস হসপিটালিটি’ প্রতিপাদ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগ।

আগামী ২৩-২৬ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনী মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেসে (মিহাস) আপনাদের স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছি।

মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের অংশীদারত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা রয়েছে নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও। গত বছর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে একটি যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর উভয় পক্ষ সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতাসহ এ কাঠামোকে আরো কার্যকর করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে উভয় দেশই গর্বের সঙ্গে অবদান রেখে আসছে। শান্তির লক্ষ্যে এ দায়িত্ব আমরা গভীর গর্ব, বিনয় ও অঙ্গীকারের সঙ্গে পালন করি।

আরেকটি বিষয় আমাদের দুই দেশকে গভীরভাবে যুক্ত করেছে, সেটি হলো রোহিঙ্গা সংকট। বাংলাদেশ যে বিপুল মানবিক দায়িত্ব বহু বছর ধরে কাঁধে তুলে নিয়েছে, মালয়েশিয়া তার প্রতি অবিচল সংহতি প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশের এ অসামান্য মানবিক দায়িত্বের গভীরভাবে প্রশংসা করে।

মালয়েশিয়া ধারাবাহিকভাবে দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া এবং আসিয়ান, ওআইসি ও জাতিসংঘের মতো বহুপক্ষীয় প্লাটফর্মের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট: চূড়ান্ত সমাধান হতে হবে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন।

বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটেও আমাদের সম্পর্ক ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ আসিয়ানের খাতভিত্তিক সংলাপ অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং মালয়েশিয়া এ বিষয়ে গঠনমূলকভাবে সহযোগিতা করার প্রস্তুতি ব্যক্ত করেছে।

আসিয়ান ঢাকা কমিটির (এডিসি) মাধ্যমে আমরা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশন এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পৃক্ততা আরো গভীর করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় ঢাকায় আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন।

অতি সম্প্রতি আমাদের এ সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের খ্যাতনামা বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতেও বিস্তৃত হয়েছে। আমরা জাবের অ্যান্ড জুবায়ের ফেব্রিকস লিমিটেড পরিদর্শন করেছি। এসব সফর বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে আমাদের মূল্যবান ধারণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা উদীয়মান বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়েছি। এসব অভিজ্ঞতা আমাদের আরো সম্ভাবনা অনুসন্ধানে উৎসাহিত করেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পে মালয়েশীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনাও রয়েছে।

বাংলাদেশের আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) এ যোগদানের আকাঙ্ক্ষাকেও মালয়েশিয়া সমর্থন জানিয়েছে। আমরা এর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও কৌশলগত ভূমিকা বিবেচনায় নিয়েই এ সমর্থন প্রদান করছি।

বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতিও মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের প্রার্থিতার প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থন তারই প্রতিফলন। সংলাপ, সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নিতে তার নেতৃত্বকে আমরা সমর্থন করে যাব।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকারের ভিত্তিতে পরিচালিত। ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায়সংগত অধিকার ও ফিলিস্তিনের প্রতি মালয়েশিয়া অবিচল সমর্থন জানিয়ে আসছে। এটি ন্যায়বিচার ও মানবিকতার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের প্রতি আমাদের স্বীকৃতি। বিশ্ব যখন বিপুল দুর্ভোগের মুখোমুখি, তখন আমাদের কণ্ঠকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে যেতে হবে যে কূটনীতির চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত মানবতার সেবা।

আবারো রবীন্দ্রনাথের সেই বাণী স্মরণ করা যায়,

‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির।’

আর নজরুল আমাদের মনে করিয়ে দেন, মর্যাদা কোনো সীমান্ত দিয়ে বিভক্ত হতে পারে না। একজন মানুষের যন্ত্রণা আমাদের সবার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।

একই চেতনা থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে মালয়েশিয়া গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। মালয়েশিয়া দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, স্থায়ী শান্তি কেবল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়েই অর্জন করা সম্ভব।

শুরুতে যে দুই মহান কবির কথা বলেছিলাম, শেষবারের মতো তাদের কাছেই ফিরে যেতে চাই।

রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশকে এমন একটি গান উপহার দিয়েছেন, যার শুরু,

‘আমার সোনার বাংলা’।

আর নজরুল বাংলাদেশকে দিয়েছেন এমন এক কণ্ঠ, যা স্বাধীনতা ও সাম্যের জয়গান গেয়েছে।

দুজনেই তাদের সৃষ্টির মধ্য দিয়ে মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা, মানুষের মর্যাদা ও সাহসকে অসাধারণভাবে প্রকাশ করেছেন।

আজ আমি তাদের দুজনের কাছ থেকেই কিছুটা ধার নিতে চাই।

মালয়েশিয়ার জন্য আমরা বলি,

এটাই আমাদের মারদেকা। এটাই আমাদের মালয়েশিয়া।

মালয়েশিয়া হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে আবারো আন্তরিক ধন্যবাদ।

মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক!

(মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্ক দীর্ঘজীবী হোক)

তেরিমা কাসিহ। ধন্যবাদ।

(৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার মালয়েশিয়ার ৬৯তম জাতীয় দিবস ও মালয়েশিয়া দিবসের সংবর্ধনা উপলক্ষে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহদ শুহাদা ওথমানের লিখিত বক্তব্য; সংক্ষেপিত)