বাংলাদেশের সঙ্গে চায়নার সুসম্পর্ক অনেক দিন ধরেই আছে। আমাদের দেশে অবকাঠামো থেকে শুরু করে অনেক উন্নয়নে চায়নার অংশগ্রহণ ও সহায়তা আছে। আমরা যারা ব্যবসা করি আমাদের অনেক কাঁচামাল বলেন আর মেশিনারিজ বলেন, ৭০-৮০ শতাংশ চায়না থেকে আনা হয়। আমাদের সঙ্গে চায়নার বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। গ্রী ও কনকা তাদের দুটি ব্র্যান্ড নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে কাজ করি। এ দুটি ব্র্যান্ড অনেক দিন ধরেই বাজারে শীর্ষস্থানে রয়েছে। ফলে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশেও আমরা এ দুটি ব্র্যান্ডের পণ্য উৎপাদন করছি। ফলে প্রযুক্তি ও জ্ঞান এখানে বিনিময়ের মাধ্যমে প্রবেশ করছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে যে মানের কাঁচামাল ও প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি পণ্য তারা সরবরাহ করে আমরাও এখানে একই মানের পণ্য তৈরি করি। এসব পণ্য আমাদের দেশের বাজারে যেমন বিক্রি হয় তেমনি আমরাও বিদেশে রফতানি করছি। তাদের এ প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার বিনিময় বা আরএনডি সুবিধার কারণে আমরা অল্প সময়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছি।

এছাড়া আমরা একটি পণ্য তৈরি করার পর সেটি সরাসরি বাজারে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তারা এসব পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতের জন্য সচেতনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। যে কারণে গুণগতমান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও তাদের কাছ থেকে বড় ধরনের সহায়তা পাওয়া যায়। যেটি আমাদের জন্য অনেক বড় একটি সুযোগ বলেই আমি মনে করি। একই সঙ্গে যে পণ্যগুলো আমাদের দেশের মানুষ ব্যবহার করবে, এখানকার বাজারে বিক্রি হবে, সেসব পণ্য আমাদের দেশের মানুষের পণ্য ব্যবহারের অভ্যাস, এখানকার আবহাওয়া, মানুষের সুবিধা, ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহজ করাসহ খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোও তারা খেয়াল করে। এসব কাজের জন্য তারা প্রতিনিয়ত আমাদের এখানে আসে, আমাদের এখানকার নতুন কোনো চাহিদা দেখা দিলে, পণ্যে নতুন কোনো প্রযুক্তি যুক্ত করার প্রয়োজন হলে বা কোনো পণ্য যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আপডেট করার প্রয়োজন হলে তৎক্ষণাৎ সেটি করে দেয়। কোনো সমস্যা দেখা দিলে সেটি সমাধান করে দেয়।

চায়নার বাজারে আমাদের প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া আছে। তবে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই সেই সুবিধা নিতে পারি না। কারণ আমাদের কাছে ওই পরিমাণ পণ্য নেই বা আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা কম থাকায় এমন হচ্ছে। এসব সুবিধা নেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতাও বৃদ্ধি করা দরকার। সেটি আমাদের নিজেদেরই করতে হবে। আমাদের এখন উচিত নিজেদের উৎপাদন বৃদ্ধি করা ও পণ্যের বৈচিত্র্য নিয়ে আসা। ফলে আমি বলব, চায়নার সঙ্গে যেন আমাদের সুসম্পর্ক আরো দীর্ঘ হয়। এ সম্পর্কের গভীরতা যেন দিন দিন বৃদ্ধি পায়। ব্যবসায়ী, ভোক্তা, সাধারণ মানুষ ও সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই যেন সেদিকে খেয়াল রাখেন সেই আহ্বান জানাব।

বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্য নীতিতে অনেক ধরনের পরিবর্তন আসছে। এ পরিবর্তনের একটা ফল আমরা ভোগ করার সুযোগ এসেছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে চায়নাকে আমাদের দরকার। আবার চায়নারও আমাদের মতো দেশগুলোকে দরকার। এ উইন-উইন পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দেশটি থেকে আমাদের এখানে নানা খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে। কারণ থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামসহ অনেক দেশে চীনের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ বৃদ্ধি করছেন। আমরাও যদি বিনিয়োগ নীতিতে প্রয়োজনীয় সুবিধা দিতে পারি তাহলে আমাদের এখানেও চীনের বিনিয়োগ আসবে। এতে আমাদের অর্থনীতির গতি বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে। আমাদেরও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। সেদিকে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মনোযোগী হতে হবে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কিছু কাজ করছে। এটা ভালো। বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট অন্য যেসব সংস্থা আছে বা ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠন আছে, অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী আছে। সবাইকেই বিশ্ব বাণিজ্য নীতি পরিবর্তনের এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার কথা ভাবতে হবে। সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। তাহলেই চীনের মতো দেশগুলো থেকে ব্যবসায়ীরা আমাদের এখানে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে আগ্রহী হবেন বলে আমি মনে করি।

মো. নুরুল আফছার: উপব্যবস্থাপনা পরিচালক

ইলেক্ট্রো মার্ট গ্রুপ