তবে বিনিয়োগকারীদের মাঝে বাজারের ওপর আস্থা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। এর মূল কারণ হলো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে বিশ্বাসের জায়গাটি তৈরি করা প্রয়োজন ছিল, তা যথাযথভাবে আনা যায়নি। অর্থমন্ত্রী বলেছেন যে সরকার পুঁজিবাজারকে ‘ওউন’ করবে। এটা বাজারের জন্য সবচেয়ে বড় আশার বাণী। এছাড়া বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারেও পুঁজিবাজারকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। সম্প্রতি ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে এক ধরনের অর্থনৈতিক শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এ কারণে পুঁজিবাজারে কনফিডেন্সের অভাব কাজ করে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারের দিক থেকে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।
প্রথমত, আমাদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম বর্তমানে ব্যাংক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এ অতিনির্ভরতা ব্যাংক, পুঁজিবাজার ও করপোরেট—তিনটি খাতের জন্যই ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য একটি কাঠামোগত ‘গ্র্যাজুয়েশন’ বা উত্তরণ প্রয়োজন। এ ট্রানজিশন বা রূপান্তরের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে বসা জরুরি। বর্তমানে কোম্পানিগুলোর ‘লিভারেজ’ বা ঋণের বোঝা অনেক বেড়ে গেছে। এটি কীভাবে কমিয়ে একটি সুস্থ ও টেকসই অবস্থায় আনা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ কেবল ঋণের পুনঃতফসিল করে আমরা বাজারের খেলাপি ঋণ বা এনপিএল কমাতে পারব না।
দ্বিতীয়ত, সরকারের বাজেট ঘাটতি রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে, সামনে এটা আরো দুশ্চিন্তার কারণ হবে। এক্ষেত্রে সরকারের কোম্পানিগুলোকে কীভাবে তালিকাভুক্ত করা যায়, সরকারের সম্পদ কীভাবে পুঁজিবাজারে আনা যায় তা দেখতে হবে। এতে সরকারের অর্থের জোগান হবে, পাশাপাশি পুঁজিবাজারকেও গতিশীল করবে। সরকার যদি তার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতিতে সবসময় পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দেয় তাহলে ছোট ছোট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা যাবে।










