নব্বইয়ের দশকের গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী বিধ্বস্ত শহর কিগালি বর্তমানে আফ্রিকার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে স্বীকৃত। এ রূপান্তরের প্রধান কৌশলটি ছিল প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে এক আপসহীন যুদ্ধ। রুয়ান্ডা সরকার স্রেফ আইন করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং প্লাস্টিক আমদানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং এর ব্যবহারকারী বা বিক্রেতাদের ওপর চড়া জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রেখে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক অভাবনীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে। এ সরকারি কঠোরতার পাশাপাশি তারা ‘উমুগান্দা’ নামক এক অনন্য সামাজিক দায়বদ্ধতার কৌশল প্রয়োগ করে। প্রতি মাসের শেষ শনিবার দেশটির সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে খোদ প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত সবাই নিজ হাতে শহরের রাস্তাঘাট ও ড্রেন পরিষ্কারে অংশ নেন। রাষ্ট্রীয় আইনের সঙ্গে নাগরিকের এ কায়িক শ্রমের মেলবন্ধনই কিগালিকে আজ একটি প্লাস্টিকমুক্ত ও আবর্জনাশূন্য আধুনিক নগরীতে পরিণত করেছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শহরের রূপান্তরটি ছিল মূলত একটি ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনের সাহসী কৌশল। দ্রুত শিল্পায়নের জোয়ারে সত্তরের দশকে সিউলের প্রাণকেন্দ্রে প্রবাহিত ‘চেওংগিয়েচন’ নদীটি দূষণে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। একপর্যায়ে কংক্রিটের উড়াল সড়ক দিয়ে নদীটিকে পুরোপুরি ঢেকে দেয়া হয়েছিল। সিউল কর্তৃপক্ষ কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করে সেই সুউচ্চ উড়াল সড়কটি ভেঙে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার মেগা প্রকল্প হাতে নেয়। নদীকে আবার উন্মুক্ত করা হয়, আশপাশে সবুজ পার্ক তৈরি করা হয় এবং জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। পার্ক, পথচারীবান্ধব এলাকা এবং পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা—দ্রুত বিস্তৃত করা হয়। নদী পুনরুদ্ধারের ফলে শুধু পানির দূষণই কমেনি, বরং শহরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং নগরের কেন্দ্রে তৈরি হয় এক বিশাল সবুজ বলয়।










