গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল না থাকলে শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ও সামগ্রিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্বল্প সময়ে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার করে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দেশীয় জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ডলার সংরক্ষণ ও সামষ্টিক অর্থনীতি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, ফলে আমদানিনির্ভর কাঁচামালের দামও বাড়বে এবং তা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এ পরিস্থিতিতে সরকারকে কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয় ও সীমিত রেশনিংয়ের মতো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যয় ও আমদানি ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থেকে অর্থনীতিকে ভারসাম্যের মধ্যে রাখতে হবে। বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা হলো পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ না থাকা। অনেক দেশ কয়েক মাসের কৌশলগত জ্বালানি মজুদ রাখলেও বাংলাদেশে তা নেই। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ধাক্কা মোকাকেলায় বড় পরিসরে সংরক্ষণ অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কর ব্যবস্থা সরল করা, ব্যবসা পরিচালনায় জটিলতা কমানো এবং সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা।










