এ বাস্তবতায় দেশের জন্য গ্যাস ও জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে আমাদের সংরক্ষণ সক্ষমতা সীমিত। তাই অনশোর ও অফশোর—উভয় পর্যায়েই সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো দরকার, শুধু গ্যাস নয়, বরং ক্রুড অয়েল, ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও। এতে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও দেশীয় সরবরাহ বজায় রাখা সহজ হবে।
শিল্প খাতের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা মনে করি, দেশের ফুয়েল মিক্স আরো বৈচিত্র্যময় করা প্রয়োজন। সীমিত গ্যাস সরবরাহ এমন খাতে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত, যেখানে সর্বোচ্চ দক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব। তুলনামূলকভাবে কম দক্ষ ব্যবহার—যেমন কিছু ক্যাপটিভ ব্যবহার বা সিএনজি খাত—ধীরে ধীরে সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমরা মূলত সিঙ্গাপুর সূচকের ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি করি। প্রয়োজনে অ্যারাবিয়ান গালফসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সূচক থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ রাখা হলে তা বাজারে আরো নমনীয়তা আনতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে খরচ কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
একই সঙ্গে আমদানীকৃত এইচএসএফওর ওপর প্রায় ৩০ শতাংশ কর আগাম পরিশোধ করতে হয়, যা শেষ পর্যন্ত সরকারের কাছেই পাস-থ্রু খরচ হিসেবে ফিরে আসে। তাই এ কর মওকুফ করা হলে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদক ও বিপিডিবি—উভয়ের জন্যই তারল্য ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।
সবশেষে, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে জলবিদ্যুৎ, সৌর ও বায়ুশক্তির মতো তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন উৎস থেকেও বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ বাড়ানো উচিত। এতে একদিকে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় একটি নিরাপদ বিকল্প তৈরি হবে।










