আমাদের অনেক সাবেক সহকর্মী বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান আইবিএম, ডেল, এইচপি, রেড হ্যাট, সিসকো, মাইক্রোসফট, ওরাকলসহ আরো অনেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করছেন। তাদের অনেকেই এখন পরবর্তী প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উদ্ভাবনেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশী প্রতিভা বৈশ্বিক পর্যায়েও সফলভাবে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।
আইসিটি শিল্পের প্রবৃদ্ধি ও রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ সরকারের উচিত এআই ও হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের মতো উদীয়মান প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার জন্য নীতিগত অগ্রাধিকার দেয়া। এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কর প্রণোদনা, যেমন—১০ বছরের কর অবকাশ এবং এসব হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য আমদানীকৃত যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক কমানোর মতো সুবিধা দেয়া যেতে পারে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) বা প্রযুক্তি পার্কের মতো কৌশলগত স্থানে এ ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে তা বৈশ্বিক ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, যেমন—অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস, মাইক্রোসফট অ্যাজুর, গুগল ক্লাউড ও আইবিএম ক্লাউডকে বাংলাদেশী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বে স্থানীয় ক্লাউড অবকাঠামো গড়ে তুলতে আকৃষ্ট করতে পারে। এর ফলে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে মেধা পাচারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
এছাড়া সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন খাতে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) উৎসাহিত করা হলে দেশের প্রযুক্তি মূল্যশৃঙ্খল আরো শক্তিশালী হবে।
আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্ব এবং সঠিক নীতিগত সহায়তা ও কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি আঞ্চলিক প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।










