গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র হিমালয় থেকে এবং মেঘনা বরাক থেকে উৎপন্ন হয়ে ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ হয়ে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। বাংলাদেশের কৃষি খাত মূলত এসব নদীর ওপরই নির্ভরশীল। এ কারণে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরই ভারতের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর ব্যবস্থাপনা ও পানি বণ্টনের ইস্যুটি গুরুত্ব পায়। ১৯৭২ সালের মার্চে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ‘ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী, সহযোগিতা এবং শান্তি চুক্তি’ সই হয়। এ চুক্তি অনুসারে যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত হয় যৌথ নদী রক্ষা কমিশন (জেআরসি)।

তবে ৫৪ বছর পার হলেও আন্তঃদেশীয় নদীগুলোর পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিতে এ কমিশন তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। এখন পর্যন্ত কমিশনের সাফল্য বলতে শুধু গঙ্গা চুক্তি। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি এ চুক্তি সই হয়। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর রাজশাহী অঞ্চলে পানি সংকট এবং নদী শুকিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে এ চুক্তি তেমন একটা ভূমিকা রাখতে পারেনি। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় ঈশ্বরদী রেল স্টেশনের সঙ্গে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে আগে যেখানে নদী ছিল সেখানে এখন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চাষাবাদ হয়। তবে এ চুক্তির মেয়াদও শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে। এখন পর্যন্ত এ চুক্তি নবায়ন সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়েও ১৯৮৩ সালে একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। ২০১১ সালে ১৫ বছরের জন্য তিস্তা নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরোধিতার জেরে চুক্তিটি স্থগিত হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত এ বিষয়টি সমাধানে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি কমিশন।

ফেনী, মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বণ্টনের জন্যও ১৯৯৭ সালে যৌথ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। তবে এ কার্যক্রমও কেবল সচিব পর্যায়ে আলোচনা ও ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নেই সীমাবদ্ধ। সব মিলিয়ে নদী কমিশন গত ৫২ বছরে ১০টি নদীর পানি বণ্টন নিয়ে কাজ করেছে। এগুলো হলো তিস্তা, ফেনী, ধরলা, দুধকুমার, মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী ও কুশিয়ারা।