প্রাথমিক স্তরে মেয়েদের ভর্তি হার ৯৭ দশমিক ৮১ শতাংশ, যা শিক্ষায় লিঙ্গসমতা অর্জনের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
এর বিপরীতে আরেকটি চিত্র রয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে নারীর অংশগ্রহণের হার তুলনামূলক সন্তোষজনক হলেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের ঝরে পড়া। প্রাথমিক স্তরে মেয়েদের ঝরে পড়ার হার প্রায় ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। মাধ্যমিকে এ হার আরো বেশি উদ্বেগজনক। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের হার ৮০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, কিন্তু ঝরে পড়ার হার প্রায় ৪০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ মোট ভর্তির প্রায় অর্ধেক নারীই মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারছে না এবং উচ্চশিক্ষায় তাদের প্রবেশের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
নারীদের ঝরে পড়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য, সামাজিক নিরাপত্তার অভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া অনেক পরিবার এখনো মেয়েদের উচ্চশিক্ষার চেয়ে বিয়েকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও তা তুলনামূলক কম। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ করছে, যেখানে পুরুষদের অংশগ্রহণ ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এছাড়া STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) বিষয়েও নারীর অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণীদের একটি অংশ শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নয়, যার হার প্রায় ২২ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষায় নারীর অগ্রগতি টেকসই করতে হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় টিকে থাকার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ শিক্ষিত নারী শুধু পরিবার নয়, পুরো অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।










