আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত প্রতিটি বস্তু থেকেই কিছু অপ্রয়োজনীয় উচ্ছিষ্ট অংশের উদ্ভব হয়, যা ব্যবহারের অনুপযোগী, মূল্যহীন ও ত্রুটিপূর্ণ। এগুলোকে আমরা বর্জ্য পদার্থ কিংবা ময়লা নামেই আখ্যায়িত করে থাকি।

এ বর্জ্য বিভিন্ন রকম হতে পারে, যেমন গৃহস্থালি বর্জ্য, বাণিজ্যিক বর্জ্য ও শিল্প বর্জ্য। বর্জ্য পদার্থকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে—একটি মিউনিসিপ্যাল কঠিন বর্জ্য, সাধারণত শহর বা পৌর এলাকায় উৎপন্ন গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক এবং কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্যকে বোঝায়, যা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়। আরেকটি শিল্প বর্জ্য, বিভিন্ন কারখানা ও উৎপাদনশীল কার্যক্রম থেকে আসে, যা প্রায়ই রাসায়নিক এবং ভারী ধাতু দিয়ে দূষিত হয়।

বর্জ্য পদার্থ সাধারণত মানব স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনায় রেখে বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাত, পুনর্ব্যবহার এবং সঠিকভাবে নিষ্পত্তির মাধ্যমে পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমানোর প্রক্রিয়াকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলা হয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত ধাপ সাধারণত ল্যান্ডফিল (ময়লার ভাগাড়), যেখানে বর্জ্য নিরাপদে নিষ্পত্তি করা হয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হলো বর্জ্যের মানব স্বাস্থ্য, পরিবেশ অথবা নান্দনিকতার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতিগুলো দেশভেদে (উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ), অঞ্চলভেদে (শহর ও গ্রাম) এবং আবাসিক ও শিল্প খাতে ভিন্ন হতে পারে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।

যদি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালনা করা না হয়, তবে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ যেমন মিথেন গ্যাস, কার্বন, লিচেট ও ভারী ধাতু পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্জ্য থেকে নির্গত বিভিন্ন ক্ষতিকর ধাতু যেমন সিসা (লেড), পারদ (মার্কারি), ডায়োক্সিন এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পলিমার লিচেটের (ময়লা থেকে বের হওয়া ক্ষতিকর তরল পদার্থ) মাধ্যমে পানিতে এবং মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে, যা ক্যান্সারসহ বিভিন্ন গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। এসব পদার্থ খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট করে।

নির্গত ক্ষতিকর গ্যাস শ্বাসকষ্টের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং পরিবেশের তাপমাত্রা বাড়াতে পারে। এছাড়া দুর্গন্ধের সৃষ্টি ও পোকামাকড়ের ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ, যেমন কলেরা, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবেশে যেখানে সেখানে ময়লা পড়ে থাকলে মানুষের জীবনযাত্রার মান কমে যায়। এ ধরনের অব্যবস্থাপনার ফলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং এর সঙ্গে চিকিৎসা ও প্রতিদিনের খরচও বেড়ে যায়। এজন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক পদ্ধতি গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।